বেঁচে গেছেন সেই তরুণী

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অনেক মানুষ ভবনের ভেতরে আটকে ছিল। তারা বাঁচার আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করছে। এমনই একটি লাইভ করেছিলেন সেজুতি স্বর্ণা নামে এক তরুণী। লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, সিড়ির জন্য তারা আকুতি জানান তিনি। না হয় বাঁচতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

উদ্ধার কাজ শেষে জানা গেছে সেই তরুণী বেঁচে আছেন। তাকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। নিজেই ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। উদ্ধারের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সবাই উদ্ধার হয়েছি, নিরাপদেও আছি।

এদিকে রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার দুপুরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ।

তিনি বলেন, এফআর টাওয়ারে আর কোনো লাশ নেই। নতুন করে কোনো লাশ আজ পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খুরশীদ আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আগুন নেভানোর পর রাত থেকে তল্লাশি করা হয়েছে। তবে সকালে আর কোনো লাশ উদ্ধার হয়নি। ভেতরে প্রতিটি ফ্লোরে তল্লাশি করা হচ্ছে।

ভবনটির সামনে ও পেছনে পুলিশ মোতায়েন করা ছিল দিনভর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগে এফআর টাওয়ারে। ভবনের ৯ম তলায় আগুনের সূত্রপাত। পরে ছড়িয়ে পড়ে ২৩তলা ভবনের বেশ কয়েকটি তলায়। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বিমানবাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। ভবনটির ছাদে আটকেপড়া অনেককে উদ্ধার করে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার। এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণে হেলিকপ্টার থেকে ভবনটিতে পানিও ফেলা হয়।

ভয়াবহ এই আগুনে ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের লাশও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আহত অন্তত ৭৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: