অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী পুরস্কার ও মোমিন উদ্দীন খালেদ

গত ২০১৭ বই মেলায় আমার একটা বই প্রকাশিত হয়। অনক দিনের ইচ্ছে শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদকে দিয়ে বইটির প্রচ্ছদ আর অলংকরণের কাজটা করাবো, প্রচন্ড ব্যস্ততার পরও তিনি আমার কাজটা করে দিলেন আগ্রহভরে, বইটা প্রকাশিত হবার পর দেখা গেল আমার লেখাগুলোকে যেন অতিক্রম করে গেছেন মোমিন উদ্দীন খালেদের আঁকা দৃষ্টিনন্দন ছবিগুলো, একজন শিল্পীর সার্থকতা সম্ভবত সেখানেই। তার আঁকা ছবি যেমন আমার বইয়ের পাতায় পাতায় সৌন্দর্যের পালক লাগিয়েছেন তেমনি তিনি প্রতি বছর শত শত বইয়ের গায়েও তেমনি সৌন্দর্যের পালক লাগাচ্ছেন। বইমেলায় দেখা হলো ছড়াশিল্পী জসীম মেহবুবের সাথে তিনি আমার বইটা হতে নিয়েই বললেন, আরে- এটাতো মোমিন উদ্দীন খালেদের আঁকা। একজন চিত্রশিল্পী যখন নিজস্ব স্বকিয়তায় বিকশিত হন তখনই তিনি আপন আলোয় উদ্ভাসিত হন, আমার মনে হয় তিনি সেই মাত্রা অতিক্রম করে গেছেন। প্রতি বছর মেলায় তাঁর শিল্পিত হাতের স্পর্শে একুশের বই মেলায় আসে শতাধিক গ্রন্থ। দেশের প্রথিতযশা প্রবীণ লেখকদের বই তো বটেই একেবারেই নবীন যে লেখক তার বইও বের হচ্ছে তাঁর আঁকা দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ নিয়ে। পাশাপাশি শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ তাঁর আঁকা স্কেচ নিয়ে বের করেছেন নিজের বইও।

এবার এক সঙ্গে ছয় বছরের (বাংলা ১৪১৮ থেকে ১৪২৩) অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে শিশু একাডেমি। ২০১৫ সালের (১৪২১ বঙ্গাব্দে ) বই অলংকরণে পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ। অভিনন্দন প্রিয় শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদকে।

কবি সাংবাদিক শুচি সৈয়দ তার এক লেখায় মোমিন উদ্দীন খালেদকে মূল্যায়ন করেছেন ঠিক এভাবে – “ শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ নিজেকে ব্যক্ত করেছেন রেখার বর্ণমালায়। আমার প্রিয় শিল্পীদের একজন মোমিন উদ্দীন খালেদ স্বল্পভাষী, তাঁর মুখে আমি কোনদিন কোন রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা শুনিনি, এ বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ লক্ষ্য করিনি পরমাণু পরিমাণও, প্রথাগত ছাত্র হিসেবে আর্ট কলেজ থেকে বের হয়া, শিল্পের জন্য শিল্প ঘরানার মানুষ ভাবাই তাকে সঙ্গত। আমি অবশ্য শিল্পীর চেয়ে মানুষ হিসেবেই তাঁকে বেশি পছন্দ করি। প্রচণ্ড সংবেদনশীল একজন মানুষ। পরিচিত যে কারো দুর্যোগ-দুঃসময়ে-আনন্দেÑ তার সহকর্মীরা সর্বাগ্রে তাঁকে পানÑ না, কোন এ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে নন, সহমর্মী মানুষ হিসেবে। খুব কম শিল্পীর ভেতরই এই দুর্লভ গুণটি আছে “।

মোমিন উদ্দীন খালেদের জন্ম চট্টগ্রাম শহরে। চারুকলা কলেজ থেকে প্রি ডিগ্রি ১৯৮২ সালে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে এম. এ পাশ করেন ১৯৮৬ সালে। বহু গ্রুপ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৮২ সালে ভাষা আন্দোলনের ওপর পোস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার, ১৯৯১ সালে একুশের সংকলনের প্রচ্ছদ অলংকরণের জন্য ম্ক্তুধারা পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জার জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পুরস্কার এবং ২০০২-০৩ সালে প্রচ্ছদ ও অলংকরণের জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পুরস্কার, এম নুরুলকাদের ফাউন্ডেশন পুরস্কার ২০১৫,
অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী পুরস্কার ২০১৫ লাভ করেন। স্ত্রী জিনাত রেহানা শেলী এবং ছেলে মাহদি আল মুবিন ও কন্যা জারিন তাসনিমকে নিয়ে তাঁর সংসার। পাঁচ ভাই বোনের মাঝে তিনি বড়। অন্য ভাই-বোনেরা কেউ ডাক্তার, কেউবা আছেন শিক্ষকতায়। ছোট ভাই কবি মাঈন উদ্দিন জাহেদ। আদি বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার পাইনদংয়ের হাইদচকিয়া গ্রামের আবদুল খালেক চৌধুরী বাড়ি। বাবা আবাস গড়েন চট্টগ্রাম শহেরর বাকলিয়ায়, ‘গ্রামীণ’ ১৯৭৯, নেয়ামত আলী সূফী লেইন, কে. বি. আমান আলী রোড, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম। শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়স্থ বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে কর্মরত আছেন।

অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী পুরস্কার ১০ মার্চ ২০১৮ রোজ শনিবার সকাল ১১ টায় শিশু একাডেমী মিলনায়তনে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবদুল আল মুহিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরন করবেন আর সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ।
আবদুল বাকী বাদশা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.