অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়বে বায়ো ধান

ফারজানা ফারিজ।
বিশ্বের উন্নয়শীল দেশগুলোতে কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। অনাহারের যন্ত্রণা কমানোর পাশাপাশি শর্করার চাহিদা মেটালেও এতে অন্যান্য পুষ্টিগত উপাদান খুবই কম। যারা ভাতের ওপর বেশি নির্ভর করেন তারা আয়রন, জিংক ও প্রো-ভিটামিন এ-এর মতো বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হন। পুষ্টিবিদরা একেই বলছেন ‘হিডেন হাঙ্গার’। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই ধান বাংলাদেশে সাড়া জাগাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে প্রায় দুইশ’ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এর বেশিরভাগই আয়রনঘাটতির কারণে ভুগছে রক্তশূন্যতায়। অপুষ্টির কারণে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এটি নারী ও শিশুর জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। শুধু নারী-শিশুই নয় উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক মানুষ অপুষ্টির কারণে তীব্র স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। অপুষ্টির কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

এই অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আসছে আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড ধান। মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদ প্রজনন বিদ্যা বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স জনসন ও তার সহকর্মীরা সম্প্রতি জেনেটিকালি মডিফাইড (জিএম) ধান উদ্ভাবন করেছেন, যা তুলনামূলকভাবে আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে নিরীক্ষার পর দেখা গেছে সাধারণ জাতের ধানের চেয়ে এ ধান উচ্চ ফলনশীল।

সাইন্টিফিক রিপোর্ট জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, এই ধান শুধু যে নিরীক্ষার জন্যই নয়, মাঠ পর্যায়ে এটি ব্যবহার করে বিদ্যমান ধান চাষে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অ্যালেক্স জনসন বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছি।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এ ধানে যে পুষ্টিগুণ আছে তা মানবদেহ খুব দ্রুত গ্রহণ করতে সক্ষম। গবেষণায় নেতৃত্বধানকারী ড. জনসন বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বে এটির চাষ শুরু করতে আমরা প্রস্তুত। অপুষ্টি দূরীকরণে বায়োফর্টিফিকেশনেই সত্যিকারের সমাধান। আর কেউই এর বিরোধিতা করেনি।

ডা. জনসন ও তার সহকর্মীরা এখন বাংলাদেশে আয়রন ও জিংক সমৃদ্ধ বায়োফর্টিফাইড ধানের চাষ শুরুর অপেক্ষায় আছেন। বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ জমিতে ধানের চাষ হয়। ডা. জনসনের প্রত্যাশা, এ ধান বাংলাদেশের কৃষিতে সাড়া ফেলতে সক্ষম হবে। সূত্র: জেনেটিক লিটারেসি প্রজেক্ট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.