অসুস্থতাতেও দৃঢ়চেতা খালেদা জিয়া

অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শাহবাগের বিএসএমএমইউ (পিজি) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বেগম খালেদা জিয়াকে কড়া পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছার পর তিনি পায়ে হেঁটে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। চেহেরার মধ্যে শারীরিক অসুস্থতার ছাপ থাকলেও বেশ দৃঢ়চেতা মনে হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়া চশমা ও সাদা রঙের ফুল তোলা শাড়ি পরিহিত ছিলেন। তাকে বহনকারী গাড়ি ভেতরে ঢোকার পর হাসপাতালের মেইন গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ভিআইপি কেবিন ব্লকের সিঁড়ির গোড়ায় ট্রলি টাইপ হুইল চেয়ার আনা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা ব্যবহারে না করেন এবং হেঁটেই লিফট পর্যন্ত যান। এপর্যন্ত হেঁটে যেতে তার কষ্ট হচ্ছিল।

পরে ১৯ নম্বর লিফট দিয়ে ৫১২ নম্বর কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এখানে খালেদা জিয়াকে এক্সরে, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করা হতে পারে।

হাসপাতালের বাইরে পুলিশি বেস্টনিকে উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী জড়ো হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকেন।এসময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেন আটক করা হয় অন্তত ৫ নেতাকর্মীকে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, তাকে হাসপাতালের ডি- ব্লকের ১৯ তলায় ৫১২ নাম্বার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার সাথে কারা কর্তৃপক্ষ ও তার দুই আইনজীবি রয়েছেন। তবে তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হচ্ছে কি না তা পরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ড ঠিক করবে।

খালেদা জিয়া দুই মাস ধরে পুরনো কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে থাকছেন। এর আগে সকাল ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগার থেকে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। গাড়ির সামনে পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের দুটি গাড়ি ছাড়াও ছিল র‌্যাবের পাহারা। এছাড়া হাসপাতালের কেবিন ব্লকের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

খালেদা জিয়াকে হাসপতালে নেয়ার আগে থেকেই বিএসএমএমইউ সংলগ্ন আশেপাশে নীরাপত্তা বাড়ানো হয়। শাহবাগ মোড়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যান ও জলকামানের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। হাসপাতালের সামনে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা অবস্থান করছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনে তার জন্য বিএসএমএমইউতে একটি কেবিন তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিএসএমএমইউর কোষাধ্যক্ষ আলী আসগর মোড়ল। তিনি শনিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তার জন্য একটি কেবিন রেডি করেছি। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখবেন।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আগে জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। সেজন্য তাকে নিয়মিত নানা রকম ওষুধ খেতে হয়। নয়া দিগন্ত অনলাইন ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.