মাশরাফি বিন মুর্তজা

আজ জন্মদিন, মানে আমাদের ক্রিকেট দলের সফল মহানায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্মদিন।  আর যার সন্তান ও নিজের জন্মদিন একই দিন হয়, সেই ব্যক্তি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম ভাগ্যবান। সাত শতাধিক কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে তাদের সংখ্যাটা হয়তো গণনা করা সম্ভব। এমন ব্যতিক্রম ভাগ্যবান একজন যোদ্ধার নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা।

অসম্ভব ভালো মনের এই মানুষটি ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর যশোর জেলার নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাশরাফির জন্মের ঠিক ৩১ বছর পর ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর ঘর আলো করে জন্ম নেন তার দ্বিতীয় সন্তান সাহেল। আজ বাপ-বেটার জন্মদিন।  উভয়ের জন্য রইল আমাদের অনেক অনেক শুভকামনা ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা, শুভ জন্মদিন মাশরাফি আর জুনিয়র মাশরাফি
ছবি বিডিনিউজ২৪.কমের সৌজন্যে।

 

 

 

মাশরাফি বিন মর্তুজা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাশরাফি বিন মুর্তজা
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমাশরাফি বিন মর্তুজা
জন্মঅক্টোবর ৫, ১৯৮৩ (বয়স ৩২)
নড়াইল, বাংলাদেশ
ডাকনামকৌশিক[১] নড়াইল এক্সপ্রেস, ম্যাশ
উচ্চতা৬ ফু ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মি)
ব্যাটিংয়ের ধরণডানহাতি
বোলিংয়ের ধরণডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক(ক্যাপ ১৯)৮ নভেম্বর ২০০১ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ টেস্ট৯ জুলাই ২০০৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওডিআই অভিষেক(ক্যাপ ৫৩)২৩ নভেম্বর ২০০১ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই১১ নভেম্বর ২০১৫ বনাম জিম্বাবুয়ে
ওডিআই শার্ট নং
টি২০আই অভিষেক(ক্যাপ )২৮ নভেম্বর ২০০৬ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ টি২০আই২৬ মার্চ ২০১৬ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০২–বর্তমানখুলনা বিভাগ
২০০৯কলকাতা নাইট রাইডার্স
২০১২-২০১৩ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস
২০১৫-বর্তমানকুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতাটেস্টওডিআইটি২০আইএফসি
ম্যাচ সংখ্যা৩৬১৬৩৪৯৫৪
রানের সংখ্যা৭৯৭১,৪৫০৩৬৬১,৪৩৩
ব্যাটিং গড়১২.৮৫১৪.২১১৪.৬৪১৬.১০
১০০/৫০০/৩০/১০/০১/৬
সর্বোচ্চ রান৭৯৫১*৩৬১৩২*
বল করেছে৫,৯৯০৮,১১৩১,০২৯৮,৬৭৩
উইকেট৭৮২০৮৩৮১২৯
বোলিং গড়৪১.৫২৩০.৬০৩৫.৮৬৩৫.১৯
ইনিংসে ৫ উইকেটn/a
ম্যাচে ১০ উইকেটn/an/a
সেরা বোলিং৪/৬০৬/২৬৪/১৯৪/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং৯/–৫০/–৯/–২৩/–
উত্স: ইএসপিএন ক্রিকইনফো, ০২ অক্টোবর ২০১৬

মাশরাফি বিন মর্তুজা (জন্ম: অক্টোবর ৫, ১৯৮৩; নড়াইল জেলা) বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম বোলিং স্তম্ভ ও একদিনের আন্তর্জাতিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার ডাক নাম কৌশিক। তিনি একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও তিনি এশিয়ান একাদশের একদিনের আন্তর্জাতিক দলে খেলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা নড়াইল-এ মাশরাফির জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাঁধাধরা পড়াশোনার পরিবর্তে ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতেই বেশি পছন্দ করতেন, আর মাঝে মধ্যে চিত্রা নদীতে সাঁতার কাটা।তারুণ্যের শুরুতে ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে, বিশেষত ব্যাটিংয়ে; যদিও এখন বোলার হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত, যেজন্যে তাকে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামেও অভিহিত করা হয়।

বাইক প্রিয় মর্তুজাকে সবাই খুব হাসিখুশি আর উদারচেতা মানুষ হিসেবেই জানে। প্রায়শঃই তিনি বাইক নিয়ে স্থানীয় ব্রিজের এপার-ওপার চক্কর মেরে আসেন। নিজের শহরে তিনি প্রচণ্ড রকমের জনপ্রিয়। এখানে তাকে “প্রিন্স অব হার্টস” বলা হয়। এ শহরেরই সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার সময় সুমনা হক সুমির সাথে তার পরিচয় হয়। দু’জনে ২০০৬ সালে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন।

ক্যারিয়ার

প্রাথমিক ক্যারিয়ার

মর্তুজা বাংলাদেশের সফলতম পেস বোলারদের একজন। আক্রমণাত্মক, গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজসাবেক ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কেড়েছিলেন, যিনি কিনা তখন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শে মাশরাফিকে বাংলাদেশ এ-দলে নেয়া হয়।

বাংলাদেশ এ-দলের হয়ে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেই মাশরাফি জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ৮ নভেম্বর, ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। একই ম্যাচে খালেদ মাহমুদেরও অভিষেক হয়। বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি অমীমাংসিত থেকে যায়। মাশরাফি অবশ্য অভিষেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারছিলেন তার প্রথম শিকার।[৬] মজার ব্যাপার হল, মাশরাফির প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও ছিল এটি। তিনি এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী ৩১তম খেলোয়াড় এবং ১৮৯৯ সালের পর তৃতীয়। একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ওতুষার ইমরানের সাথে। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সাথে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে বাগিয়ে নেন ২টি উইকেট।

বিপক্ষে ব্যক্তিগত তৃতীয় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এর ফলে তিনি প্রায় দু’বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।ইংল্যন্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলায় তিনি সফলতা পান। ৬০ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর আবার তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এযাত্রায় তিনি প্রায় বছরখানেক মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।

২০০৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় রাহুল দ্রাবিড়কে অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বলে আউট করে তিনি স্বরুপে ফেরার ঘোষণা দেন। সেই সিরিজে তিনি ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেন এবং তেন্ডুলকরগাঙ্গুলীকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। তবে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তিনি উইকেট পাননি। এই সিরিজের একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি ভালো বল করেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তার গড় ছিল সবচেয়ে ভাল।কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে তিনি অবদান রাখেন। তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে শূন্য রানে আউট করেন এবং দশ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ভালো পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশে মোহাম্মদ রফিকের মত আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোন পেস বোলার ছিল না। মাশরাফি বাংলাদেশের সেই শূন্যস্থান পূরণ করেন।

২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। তিনি এসময় ৪৯টি উইকেট নিয়েছেন।

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে মর্তুজা ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৩৮ রানে ৪ উইকেট দখল করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি খেলায় নিউজিল্যান্ডের সাথে বিজয়েও মাশরাফির ভূমিকা রয়েছে।

মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার এবং সমর্থকদের কাছে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত।

মাশরাফি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার থেকে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। চোটই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল ২০১১ সালের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। চোটের কারণে অপারেশন টেবিলে তাকে যেতে হয়েছে সাতবার।ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে এতবার অপারেশন এর দেশের জন্য খেলার ইতিহাস বিশ্বে বিরল। শুধু নিজের পারফর্মেন্স এর জন্য নয়,লড়াকু সৈনিকের মত লড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম অধিনায়ক হিসেবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি স্থান করে নিয়েছেন প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর অন্তরে। জীবন বাজি রেখে এরপরও দেশকে ভালোবেসে খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম নির্ভীক এই ক্রিকেটার। আজীবন তিনি সকল বাংগালির মনে “বস” হিসেবে থাকবেন।

ক্যারিয়ার মাইলফলক

টেস্ট

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ২০০১

একদিনের আন্তর্জাতিক

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, ২০০১

অধিনায়কের দায়িত্ব

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির রেকর্ড
ম্যাচের সংখ্যাজয়পরাজয়ড্র
টেস্ট
ওডিআই১৬১১

২০০৯ সালের শুরুতে মাশরাফি অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের সহকারী ছিলেন। পরবর্তীতে ওই বছরেরই জুন মাসে তিনি মোহাম্মদ আশরাফুলের স্থলাভিষিক্ত হন এবং তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে নিজের প্রথম ম্যাচেই তিনি হাঁটুতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ঐ খেলায় বাংলাদেশ জয়লাভ করে কিন্তু মাশরাফি এই চোটের কারনে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠের বাইরে ছিলেন। উক্ত ম্যাচসহ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করেন সাকিব আল হাসান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের সাথে হোম সিরিজে তিনি পুনরায় অধিনায়কত্ব পান।[১০] তবে এ বার তিনি শুধুএকদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য দায়িত্ব পান এবং এবারও তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান সাকিব আল হাসান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও তিনি বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.