আবু সালেহ’র জন্মবার্ষিকী এবং তাঁর একটি প্রতিবাদী ছড়া

আহমেদ জহুর
প্রতিবাদী ছড়াকার ও সাহসী সাংবাদিক, আমার সিনিয়র-বন্ধু আবু সালেহ’র আজ ৭০তম জন্মবার্ষিকী। তাঁকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা এবং তাঁর শতায়ু কামনা করছি।

আবু সালেহ’র সাংবাদিকতা শুরু ১৯৬৭ সালে। ছড়া লেখা শুরু করেন ষাটের দশকের শুরু থেকে। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় রমনা মুকুল ফৌজের দেয়াল পত্রিকায়, ১৯৫৪ সালে। ১৯৬৫-তে ছড়াকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রচলিত আঙ্গিক ভেঙ্গে তিনি তৎকালীন স্বৈরাচারী আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনমুখী করে তোলেন। ছড়াকে তিনিই বক্তব্য প্রধান করে তোলেন এবং সমাজ বদল ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শক্তিশালী হাতিয়ার রূপে গড়ে তোলেন। এই নবতর আঙ্গিকের ছড়াকে সকল শ্রেণী, পেশার মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে একটি ছড়াকার বন্ধু গোষ্ঠী গড়ে তোলার পিছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ছড়ায় সমাজতন্ত্র, স্বৈরাচার বিরোধিতা ইত্যাদি কারণে তৎকালীন পুলিশ ও সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের রোষানলে পড়েন। হুলিয়া প্রাপ্ত হন। ১৯৬২, ১৯৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯,৭০ ও ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনে এবং মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৬২, ৬৭, ৬৮, ৬৯,৭০ এর আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসে মারাত্মক আহত হন। ষাটের দশকের শেষ ভাগে শ্রেণী সংগ্রামে সশস্ত্র অংশগ্রহণ করেন। সকল আন্দোলন, সংগ্রামে আবু সালেহ’র ছড়া ব‍্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
ছড়া সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০০২ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

আবু সালেহ বাকশাল গঠন ও বাক-স্বাধীনতা হরণের প্রেক্ষাপটে একটা ছড়া লিখেছিলেন। সত্তর দশকে ছড়াটি ব‍্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিদগ্ধ পাঠকদের সেই কালজয়ী ছড়াটি এখানে উপস্থাপন করছি।

ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা!
যার পিছনে জানটা দিলাম যার পিছনে রক্ত
সেই রক্তের বদল দেখো বাঁচাই কেমন শক্ত,
ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার মরার স্বাধীনতা!
বাঁচতে চেয়ে খুন হয়েছি বুলেট শুধু খেলাম
উঠতে এবং বসতে ঠুঁকি দাদার পায়ে সেলাম,
ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার আজব স্বাধীনতা!

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.