এবার কাশ্মীরী আলোকচিত্রীর মানবিকতায় মুগ্ধ বিশ্ব

কয়েকদিন আগেই সিরিয়ার একটি বাস বহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় এক শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিলেন দেশটির আলোকচিত্রী আবদ আল-কাদের হাবাক। ঠিক তেমনই একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। এবারের নায়ক বার্তাসংস্থা এএফপির আলোকচিত্রী দার ইয়াসিন।

ক্যামেরা ফেলে আহত এক কাশ্মীরী ছাত্রীকে বাঁচালেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর পাঁচদিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাশ্মীরের শ্রীনগরে অ্যাসাইনমেন্ট ছিল ফটো সাংবাদিক দার ইয়াসিনের। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভের ছবি সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল তার।

প্রতিবাদ চালার সময় হঠাৎ করেই একটি পাথর এসে পড়ে খুশবু জান নামে প্রতিবাদরত দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর মাথায়। আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খুশবু। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এই অবস্থায় ভয় পেয়ে যায় তার সহপাঠীরা। সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে তারা।

প্রতিবাদ দমনের দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখতে থাকলেও তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এদেরই একজন দার ইয়াসিন। তিনি দ্রুত ছুটে যান খুশবুর কাছে। তাকে তুলে নিয়ে খুঁজতে থাকেন গাড়ি। পরে একটি গাড়িতে করে আহত ওই ছাত্রীকে নিয়ে যান হাসপাতালে।

ইয়াসিনের এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন অপর এক আলোকচিত্রী। আর সেই ছবিই এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। এই ছবিটিকে তুলনা করা হচ্ছে সিরিয়ার আয়লান কুর্দি, ওমরান দাকনিশের ছবি, কিংবা কয়েকদিন আগের হাবাকের মানবিকতার সঙ্গে।

বিক্ষোভে আহত আরেক ছাত্রী
বিক্ষোভে আহত আরেক ছাত্রী

ইয়াসিনের নিজেরও সাত এবং ১০ বছরের দুটি মেয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েটির বন্ধুদের বললাম, আমারো দুটি মেয়ে আছে। আর ও তাদের মতোই। তোমরা যদি দুটি মেয়ের বাবা হতে, বা কোনো একটি সন্তানেরও বাবা হতে, তাহলে কারো ভুক্তভোগী একটি ছোট মেয়ের এই দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখতে পারতে না।’

২০০২ থেকে কাশ্মীরে আলোকচিত্রীর কাজ করে আসছেন ৪৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিক। এ পর্যন্ত ১৫টি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইয়াসিন বলেন, ‘আমি তাকে সাহায্য করতে পেরেছি, এটা মনে করে খুব ভাল লাগছে। ছবি তোলার সুযোগ তো অনেক আসবে।’ এই প্রথম নয়, আগেও এমন কাজ করেছেন বলেও জানান এই সাংবাদিক।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল সিরিয়ার অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের পরিবহনকারী বাসের বহরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২৬ জন নিহত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় খবর কভার করতে এসেছিলেন আবদ আল-কাদের হাবাক। বিস্ফোরণস্থল থেকে দুটি বাচ্চাকে উদ্ধার করেছিলেন তিনি। যদিও এদের মধ্যে একজন বাঁচেনি।

একজন পেশাদার সাংবাদিক হয়েও হাবাকের কাছে তখন ওই শিশুদের বাঁচানোই প্রধান কাজ মনে হয়েছিল। বাচ্চাটিকে বাঁচাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন হাবাক। তার সেই মানবিকতার দৃশ্য উঠে এসেছিল আরেক ফটো সাংবাদিক মুহাম্মদ আল রাগিবের ক্যামেরায়। বণিক বার্তা |

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.