এলএনজি প্রকল্প তদারকিতে হচ্ছে বিশেষজ্ঞ পুল

ইয়ামিন সাজিদ |
দেশে ভাসমান ও স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন-পরবর্তী কার্যক্রম তদারকিতে ‘বিশেষজ্ঞ পুল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পেট্রোবাংলার সহযোগী বিভিন্ন

সংগঠন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ২০-২৫ জনকে নিয়ে এ পুল গঠন করা হবে। এলএনজি প্রকল্পের কারিগরি, আর্থিক, চুক্তি সম্পাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা

নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন তারা। জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্রস্তাবিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ২৭ এপ্রিল বৈঠক করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওই বৈঠকে বিশেষজ্ঞ পুল গঠনের এ সিদ্ধান্ত হয়। পেট্রোবাংলার বিভিন্ন কোম্পানি ও এলএনজি সেল থেকে দক্ষ ও উদ্যোগী কর্মকর্তা বাছাই করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের

সমন্বয়ে এ পুল গঠনের কথা বলা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তীতে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, এলএনজি বিষয়টি বাংলাদেশে একবারে নতুন একটি ক্ষেত্র। এ খাত সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ১২ জন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ছয়জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। চলতি মাসে আরো দুজনকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হবে। এভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শেষে ‘বিশেষজ্ঞ পুল’ গঠন করা হবে।

পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিল্ড ওন অপারেট

অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) পদ্ধতিতে এফএসআরইউ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১০ সালে। পাঁচ বছর ধরে নানা প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পেট্রোবাংলা ও ঠিকাদার কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকসিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে ‘টার্ম শিট এগ্রিমেন্ট’ সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যেই জিওফিজিক্যাল স্টাডি শুরু করার কথা রয়েছে অ্যাকসিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের।

টার্মিনালটি প্রায় ১ লাখ ৩৮ ঘনমিটার এলএনজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহের ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। শুরুর দিকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এলএনজি আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও পরবর্তীতে তা ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। টার্মিনালটি থেকে প্রক্রিয়াজাত শেষে রূপান্তরিত গ্যাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৮৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করবে পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।

মহেশখালীর স্থলভাগে একটি ও পায়রায় আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে দেশে খাতটি একেবারে নতুন হওয়ায় তা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.