ওয়মায়কন : পৃথিবীর সবথেকে শীতল গ্রাম

মস্কো: ছোট্ট একটা রুশ গ্রাম৷ তার নাম ওয়মায়কন (Oymyakon) সেখানকার কোনও বাসিন্দা লাদাখের রাজধানী লেহ-তে এলে বলবেন আহ! কী আরামদায়ক ঠাণ্ডা !

ভাবুন তো – ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কুঁকড়ে রয়েছেন লেহ শহরবাসী৷ সেখানে গিয়ে ওই রুশ গ্রামের কেউ ঠাণ্ডায় জমে গেলাম বলে চিৎকার করবেন না৷ কারণ তিনি -৭১.২ ডিগ্রি সেলশিয়াসের ঠাণ্ডা ভোগ করেছেন৷

চমকে যাবেন না৷ দুনিয়ার সবথেকে শীতল গ্রামের এমনই অবস্থা৷ এখন শীত তাই -৭১ ডিগ্রিতে নেমেছে নেমেছে তাপমাত্রা না হলে গড়পড়তা -৫০.০ ডিগ্রি সেলশিয়াসের মধ্যেই থাকে ওয়মায়কন গ্রাম৷
শীতের দেশ বলে রাশিয়া পরিচিত৷ সাইবেরিয়ার নাম সবাই শুনেছেন৷ সেখানকার চরম শীতের এলাকা  ভরখয়ানক্স নামটিও পরিচিত৷ কিন্তু ওয়মায়কনের কথা তেমন শোনা যায় না৷ অথচ এই গ্রামটিকে বলা হয় ‘Pole of Cold’ বা ‘শীতের দণ্ড’ ৷  এমনই সংবাদ জানিয়েছে, ব্রিটিশ পত্রিকা ‘Daily Mail’

পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম- বিশ্বের সবথেকে শীতলতম গ্রামে আপনাকে স্বাগত জানাই৷ এখানে তাপমাত্রা -৭১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়৷ মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না৷ প্রতিবাড়ির বাইরে রয়েছে শৌচালয়৷
এমনই গ্রাম ওয়মায়কন৷

প্রবল ঠাণ্ডা, নাহ তাও বলা ভুল হবে৷ ভয়ঙ্কর শীতে জবুথবু থাকে ওয়মায়কন৷ পুরো গ্রাম জুড়ে বরফের সমুদ্র৷ সারা বছর গড়পড়তা -৫০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় কি? ওয়মায়কন৷ গ্রামবাসী দিন শুরু করেন তুষারপাতের মধ্যে৷ রাতে শুয়ে পড়েন যখন তখনও বরফে ঢেকে গ্রামটি৷

রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ সাখা (Sakha Republic)-এর অন্তর্গত ওয়মায়কন গ্রাম৷ ইন্দিগিরকা ( Indigirka River) নদীর তীরে এই গ্রাম৷ কমবেশি ৫০০ জনের মতো বাস করেন এখানে৷ নিজেদের মতো করেই জীবন যাপন করেন তাঁরা৷ তীব্র ঠাণ্ডায় পোষ্যরাও নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে৷ চারিদিকে শুধু বরফ আর বরফ৷

অদ্ভুত উপায়ে প্রকৃতি এই ভয়ঙ্কর শীত থেকে ওয়মায়কন গ্রামকে রক্ষা করে৷ কাছেই রয়েছে একটি স্বাভাবিক গরম জলের ফোয়ারা৷  তার জলই কাজে লাগান স্থানীয় বাসিন্দা৷

সব কিছু ছাড়িয়ে ওয়মায়কন দুনিয়ার সবথেকে শীতল গ্রামের তকমা পেয়েছে৷ সেখান থেকে কেউ যদি
-১১.০ ডিগ্রির লেহ শহরে আসেন তাঁর তো একটু গরম লাগবে বইকি৷ সূত্র:কলকাতা২৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.