কম খরচে ব্যাংকক

বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই ভিসা পেতে পারেন আর বিমান ভাড়াও অনেক কম। তাছাড়া অনেকে এয়ারলাইন্‌স থাইল্যান্ড ট্যুরের জন্য স্পেশাল প্যাকেজও অফার করে। ব্যাংকক হচ্ছে থাইল্যান্ডের রাজধানী। রাজা রামা প্রথম এই শহর নির্মাণ করেন। দেশের নতুন ও পুরাতন অংশের সংমিশ্রণ ঘটেছে। সত্যিকার অর্থেই এই শহর থাইবাসীদের পুরাতন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সেইসাথে আধুনিক সমাজের সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে চলার অনুপম দৃষ্টান্ত। যেভাবেই আপনি দেখুন, এটাই আপনার চোখে পড়বে, এমনকি রাজকীয় পরিবার যে এলাকায় বাস করেন সেখানেও এটা চোখে পড়বে যেখানে থাই সরকার ও প্রশাসনের কেন্দ্র রয়েছে। এটা দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেশের প্রধান বন্দর রয়েছে এবং লোকসংখ্যা যুক্তরাজ্যের এক দশমাংশ। ব্যাংকক শহর শ্যাম উপসাগর পর্যন্ত বয়ে যাওয়া চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত।

ব্যাংককের আসল নাম ক্রুং থেপ বা দেবদূতের শহর। আত্মিকভাবে, বাহ্যিকভাবে এবং প্রতীকীভাবেও এখানকার মানুষ তাই বিশ্বাস। আপনি যখন এখানে প্রথম আসবেন আপনার মনে ব্যাংকক একটা আধুনিক মহানগরী হিসেবে ছাপ ফেলতে পারে গগনচুম্বী অট্টালিকা, কনডোজ, হোটেল, দোকান-পাট এবং আধুনিক শপিং মলের ছড়াছড়ি দেখে। এটা ব্যাংককের মাত্র একটি আকর্ষণীয় দিক।

এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। ব্যাংকক একটা উন্নত শহর হয়েও এর জনগণ কখনো নিজেদের ঐতিহ্যগত দিকটি ভুলতে পারেন না যার কারণে ব্যাংকক একটা চমৎকার শহর হিসেবে বিবেচিত। চারশ বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরের প্রতিটির চমতকারিত্ব আপনাকে জানিয়ে দেবে এর শিল্পোৎকর্ষতা।

ব্যাংককে আবিষ্কার করার মতো আপনি প্রথম দর্শনে যা দেখবেন তার চাইতেও অনেক বেশি কিছু রয়েছে। ব্যাংককের প্রধান আকর্ষণসমূহ ছাড়াও কিছু স্থান রয়েছে যেগুলি কম পরিচিত। তার মধ্যে একটা হলো ওয়াত রাচাবোফিত। এখানে দর্শনযোগ্য অলঙ্কৃত ফলকসমৃদ্ধ প্রচুর স্মৃতিসৌধ রয়েছে। আরও কিছু জায়গা দেখতে প্রায়ই বাদ পড়ে যেমন ব্যাংককের গ্রান্ড প্যালেস সেইসাথে রয়েছে জাতীয় যাদুঘর ও উইমানমেক থ্রোন হল এবং জিম থম্পসন’স হাউজ।

আপনি ব্যাংককের সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন যদি ঐতিহাসিক চাও ফ্রায়া নদীকে ভালভাবে অনুসন্ধান করেন। অনেক কিছু দেখা ও জানার আছে ব্যাংককে কারণ এখনও সেখানে পুরনো ঐতিহ্য বর্তমান যা প্রভাবান্বিত করে সংস্কৃতিকে সেইসাথে আধুনিক সভ্যতাকে। এখানকার জনগণ তাদের অতীতকে ভালবাসে সেইসাথে বর্তমানের প্রতিও তারা উতসাহী যার ফলে ব্যাংকক একটা সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

শহরের মানুষদের কাছে একটা মজার বিষয় হলো তাদের খাদ্য-খাবার গ্রহণ। তারা খুব মশলদার ও অভিজাত খাবার গ্রহণ করে। জাতীয়ভাবে যে খাদ্যগুলো বিশিষ্ট তার মধ্যে মাছ, কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি ও বাগদা চিংড়ি রয়েছে। উপরোক্ত খাদ্য গুলি ছাড়াও অন্যান্য খাবারও রয়েছে। ব্যাংককের খাবার দাবার সত্যিই একটা মজার ব্যাপার। যত্রতত্র জাকজমকপূর্ণ, বসে পড়ার মতো রেস্তোরাঁ রয়েছে খাদ্য খাবারের বিশেষ জায়গাগুলির পথে। যেকোন রুচির লোকজনের জন্য এখানকার খাবার চমকপ্রদ মনে হবে।

থাইবাসীগণ তাদের জীবনকে আমোদপ্রমোদের মাধ্যমে উপভোগ করে সেইসাথে রয়েছে তাদের রাত্রিকালিন জীবনের আনন্দ। এখানে প্রত্যেকের জন্যই আনন্দের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি ক্লাসিক্যাল থাই নাচ দেখতে পারেন আবার লাউঞ্জে বসে ককটেল পান করতে পারেন। যারা ডিসকো পছন্দ করেন তাদের ডিসকোর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

থাইল্যান্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা যা দর্শকরা উপভোগ করে থাকেন তা হলো থাই কিকবক্সিং (মুয়েই থাই)। থাই কিকবক্সিং এর জন্য প্রতিযোগীদের গ্লাভযুক্ত পা, হাঁটু, কনুই ও মুষ্ঠি ব্যবহার করতে হয়। সপ্তাহের অধিকাংশ রাতেই আপনি কোন না কোন স্টেডিয়ামে এইসব খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এখানে আসলে আপনি অবশ্যই এই খেলা মিস করবেন না। শুধু খেলা দেখাই আনন্দের নয় রিং এর চারপাশের হৈচৈ আর দৃশ্যও দেখার মতো।

আপনি যদি উচ্চমার্গের কোন কিছু থাইল্যান্ডে উপভোগ করতে চান তবে থাই কালচারাল সেন্টারে চলে যেতে পারেন যেটা সম্প্রতি চালু হয়েছে। আপনি এখানে নাচ, গান এবং নাটক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি হাই রেটেড কোন হোটেলে এসব উপভোগ কতে পারবেন।

ব্যাংককে কেনাকাটা: কেনাকাটা হলো ব্যাংককে আর একটি আনন্দজনক ব্যাপার। বিগত কয়েক বছরে আরও অধিক সংখ্যক প্লাজা, মল এবং দোকানপাট এখানে মাথা উঁচু করেছে। মানুষের উচ্চ পছন্দের কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে থাই সিল্ক ও থাই সোনা।

সিল্ক সামগ্রী প্রস্তুত হয় বৈচিত্রময় রং ও নকশা দিয়ে সেসাথে থাকে আকর্ষণীয় দাম। আপনি থাই খনি থেকে উত্তোলিত চুনি ও নীলা পাথর দেখতে পারেন। আপনি যদি জুয়েলারী সামগ্রী ক্রয় করেন তাহলে এগুলি সস্তায় মিলবে না তবুও মোটামুটি সাশ্রয়ী দামে আপনি কিনতে পারবেন এগুলি স্থানীয়ভাবে তৈরী এ কারণে। যারা স্বর্ণের জুয়েলারি কিনবেন তাদের উচিত চায়না টাউনে যাওয়া যেখানে ৯৬.৫% খাঁটি সোনার জুয়েলারি পাওয়া যায়।

ব্যাংককে থাকার ব্যবস্থা: ব্যাংককে আপনি থাকার জন্য আপনার সামর্থ্যের মধ্যে বহু ব্যবস্থা পাবেন। এমনকি চাও ফ্রায়া নদীর সামনে অবস্থিত হোটেলেও আপনি থাকতে পারেন যেমন ব্যাংককের বিখ্যাত ওরিয়েন্টাল হোটেল অথবা পেনিনসুলা হোটেল অথবা গাছপালা ও বাগান ঘেরা কোন হোটেলেও আপনি থাকতে পারেন আপনার পছন্দমতো নগরীর বাণিজ্যিক অংশের বাইরে। ব্যাংককে আপনি পৃথিবীর যেকোন জায়গার তুলনায় ভাল আতিথেয়তা লাভ করবেন। আপনি যদি ব্যাংককের বিখ্যাত নিশিজীবন এলাকা যেমন প্যাটপং, সয় কাউবয় বা নানা প্লাজায় থাকতে পছন্দ করেন তাহলে আপনার উচিত ভাল একটি হোটেলে রুম বুক করা যেমন সিলমে ক্রাউন প্লাজা হোটেল কি ওয়্যারলেস রোডে প্লাজা এথেনিতে। তারা দক্ষতার সাথে আপনার যত্ন ও প্রয়োজনমতো সব ব্যবস্থা করে দেবে। শহরে ঘুরতে খুব বেশী অর্থের প্রয়োজন হয় না। ট্যাক্সি ও টুক টুক নামে যান পাওয়া যায় এখানে। এগুলো মটরচালিত ত্রিচক্র যান। নির্দিষ্ট রাস্তায় চলাচলের জন্য বাস রয়েছে যেগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপ ছাড়াও। আপনি যদি চাও ফ্রায়ার কাছে থাকেন তাহলে নৌ ট্যাক্সি ও খেয়া পারের ব্যবস্থা রয়েছে। লম্বা লেজওয়ালা নৌকাতেও আপনি ভ্রমণ করতে পারেন আর আপনার জন্য নির্দেশনাসহ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.