কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

নিজেকে আরও কর্মঠ করে তোলার ক্ষেত্রে একটু চটপটে হওয়া ও নিপুণ চিন্তা করা উচিত। এতে করে সফলতা ও উন্নতি অনেক দ্রুত পাওয়া সম্ভব। শুধু নিজের একটু বুদ্ধি কাজে লাগানো এবং তা অভ্যাসে পরিণত করার মাধ্যমেই নিজেকে আরও বেশি কর্মঠ ও কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব। অনেক সময়ই দেখা যায়, পরিকল্পনা করা থাকলেও সে অনুযায়ী কাজ করা হয়ে ওঠে না। সময় বের করা এবং পারিপার্শ্বিক অন্য অনেক কিছুর কারণেই সেটি হয় না। এতে করে পিছিয়ে যায় জীবন। একের পর এক জমতে থাকে কাজ, কিন্তু কাজগুলো শেষ করা হয় না। কিন্তু একটু চৌকস পরিকল্পনা করতে জানলে অল্প পরিশ্রমেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তাই নিজেকে আরও কর্মঠ করে তোলার ক্ষেত্রে একটু সুনিপুণ চিন্তা করা উচিত।
সবদিক বিবেচনা করা, সময় নির্ধারণ করা, সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং নিয়মকানুন মেনে চলার মতো সব দিক সঠিকভাবে সম্পাদন করে ভালো ফল পাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার। এতে সফলতা ও উন্নতি অনেক দ্রুত পাওয়া সম্ভব। শুধু নিজের একটু বুদ্ধি কাজে লাগানো এবং তা অভ্যাসে পরিণত করার মাধ্যমেই নিজেকে আরও একটু কর্মঠ ও কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব।
১. কোথায় কতটুকু চেষ্টা করলে কাজটি সঠিকভাবে করা সম্ভব তা বোঝার চেষ্টা করুন প্রায় বেশিরভাগ মানুষের মতে, মাত্র ২০ শতাংশ চেষ্টাতেই ৮০ শতাংশ ফল লাভ করা সম্ভব। তাহলে কোন ২০ শতাংশ চেষ্টা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান? যখন আমরা সে ২০ শতাংশ চেষ্টার অংশটুকু বুঝে ফেলতে পারব তখনই আমরা বুঝতে পারব আমাদের বল আসলে কোথায় প্রয়োগ করা উচিত। কোন বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। আর এতে আমরা বেশ সহজেই নিজের লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারি।
সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কম সময়ে কিন্তু আমরা সঠিক কাজ করে সফল হতে পারি।
২. স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য সীমিত করুন যখন ভবিষ্যতের কথা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে অগ্রসর হবেন তখন বড় একটি লক্ষ্য নেওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে লক্ষ্যটি সীমিত রাখুন। আপনি বড় একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করলে তা স্বল্পসময়ে হয়তো করে ওঠা সম্ভব হবে না, এতে করে আপনার পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে। মনে রাখবেন, একদিনে সব করা সম্ভব নয়। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে সফল করা সম্ভব।
৩. নিজের কর্মক্ষমতা মেনে কাজ করুন আপনার দেহ একটি যন্ত্র। পুরোদিন বসে কাজ করলেই কাজটি ঠিকভাবে হবে এমন কোনো কথা নেই। গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের মস্তিষ্ক একদিকে একটানা ৯০ মিনিটের মতো ফোকাস করতে পারে, এরপর আমাদের ১৫ মিনিটের বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি টানা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বসে কাজটি শেষ করতে চান তাহলে কিন্তু ফল কিছুই আসবে না বরং সময়ই নষ্ট হবে। তাই নিজের কর্মক্ষমতা মেনে কাজ করুন।
৪. প্রতিদিনই ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করার চেষ্টা করুন সকালের শুরুতে ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বেছে বের করে নিন। এরপর প্রতিদিনই এ গুরুত্বপূর্ণ ছোট কাজগুলো শেষ করে ফেলার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট কাজগুলো সফলভাবে করে ফেলার অভ্যাস আপনাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং সময়ানুবর্তিতা শেখাবে।
৫. কীভাবে সময় ব্যয় করছেন তা জানুন নিজেকে স্মার্ট উপায়ে কর্মঠ করে তোলার অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা। ফরাসি নোবেল বিজয়ী দার্শনিক হেনরি লুই বার্গসঁ বলেন, ‘কাজের পরিকল্পনা করার মূল অর্থ হচ্ছে সঠিকভাবে সময়ের ব্যবস্থাপনা করে ফেলা।’ সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, ‘আমি কি আমার সময় সঠিকভাবে এবং নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে ব্যয় করছি?’। এমন অনেক কাজ আছে যা দৈনন্দিন জীবনের অনেকটা সময় নষ্ট করে দেয়। এ কাজগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বাস্তব কিছু ফল দিতে সক্ষম হয় না। এ ধরনের সমস্যায় পড়লে প্রথমেই নিজের সময়ের ব্যবস্থাপনা নতুনভাবে করে ফেলা উচিত।
৬. ভালো কিছু অভ্যাস রপ্ত করুন নিজের জন্য ভালো কিছু অভ্যাস রপ্ত করে ফেলাও আপনার কর্মজীবনে বেশ ভালো প্রভাব ফেলবে। যেমন, আপনি প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করলে আপনার পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়বে যা প্রকাশ পাবে আপনার দৈনন্দিন কর্মকা-ে এবং আপনার কাজ করার ক্ষমতার মাধ্যমে।
৭. ভালো কাজের অর্থ অতিরিক্ত পরিশ্রম বা অতিরিক্ত কিছু করা নয় একবারে বেশি কাজ করার অর্থ যে আপনি ভালো কিছু কাজ করে ফেলছেন তা কিন্তু নয়। এর চাইতে ছোট ছোট কাজ এবং নিজের সাইকেল মেনে কাজ করা অনেক বেশি ভালো ফল প্রদান করে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য সংবলিত এবং উপযুক্ত মানুষের ছোট একটি টিম অনেক বেশি সফল হতে পারে। কারণ ছোট টিমে অনেক বেশি সময় পাওয়া যায় এবং টিমের মানুষকে অনেক সময় দেওয়া যায়।
৮. পুরনো জিনিস সংশোধন করে নতুন কিছু তৈরিতে নিজেকে উদ্যোগী করে তুলুন নতুন কিছু করতে নিজেকে উদ্যোগী করে তুলুন, প্রয়োজনে তা সংশোধন করার ক্ষমতা রাখুন। আবার কিছু জিনিস ফের ব্যবহার করতে পারার অর্থ হচ্ছে নতুন করে পুরো সাইকেলটি তৈরি করতে হচ্ছে না। পুরনো সাইকেলটিতে নতুন কিছু সংযোজন বা সংশোধন করে নতুন কিছু তৈরি করা যাচ্ছে। এতে সময় এবং শ্রম দুটিরই সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে না কোনো কিছুই। বরং নিজেকে স্মার্ট উপায়ে অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ করতে পারছেন।
৯. নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগান প্রফেসর কেলি তার নিজের বই ‘ম্যাক্সিমাম উইলপাওয়ার’-এ তিন ধরনের ইচ্ছাশক্তির কথা উল্লেখ করেন, ‘আমি করব, আমি করব না এবং আমি চাই’। এ তিনটি ইচ্ছাশক্তি যদি বুঝতে পারেন তাহলেই নিজেকে অনেক বেশি কর্মক্ষম করে তুলতে পারবেন। যদি ‘আমি করব না’ ইচ্ছাশক্তিটি আপনার মধ্যে প্রবল হয় তাহলে আপনি খুব সহজেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারেন। যদি ‘আমি করব’ ইচ্ছাশক্তিটি আপনার মধ্যে প্রবল হয় তাহলে এ ইচ্ছাশক্তি লক্ষ্যের ওপর নির্দিষ্ট করে ধরে রাখতে পারলে আপনি সফল হবেন। আর যদি আপনার মধ্যে ‘আমি চাই’ ইচ্ছাশক্তিটি প্রবলভাবে থাকে তাহলে আপনি নিজেই জানেন আপনি কি চান এবং নিজেকে সেভাবেই উদ্যোগী করে সফলতা নিজের করে নিতে পারবেন। সূত্র : businessinsider

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.