কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে স্কাইপি সেবা চালু

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর ।
সংশোধনী কেন্দ্রে বসেই কিশোর-কিশোরীরা দূর-দূরান্তে অবস্থানরত তাদের বাবা-মার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা ও ছবি দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়িতে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা শিশু-কিশোরীদের সাথে ডিজিটাল প্রযুক্তি স্কাইপির মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে তাদের মাতা-পিতা ও অভিভাবকদের কথোপকথনের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এ দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সফলতা ইতোমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আজ থেকে সংশোধনী কেন্দ্রে বসে কিশোর-কিশোরীরা দূর-দূরান্তে অবস্থানরত তাদের বাবা-মার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা ও ছবি দেখার যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হলো। এটা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা প্রতিবন্ধকতার প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এদেশের ১৬ কোটি মানুষ কিভাবে ভাল থাকতে পারে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেন। তাদের ভাগ্যোন্নোয়নের জন্য তিনি কাজ করছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. চৌধুরী মো: বাবুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক মোহাম্মদ ইমান আলী ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক শেখ হাসান আরিফ, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবির, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম আলম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ.কে.এম এনামুল হক, গাজীপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক শংকর শরণ সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ সহ উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণ।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, দেশের সংশোধনী কেন্দ্রে থেকেই কিশোর-কিশোরী আজ দূরদূরান্তে অবস্থানরত তাদের মা-বাবার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলতে পারছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কয়টি কেন্দ্রে এ পদ্ধতি চালু করা হবে। এ ব্যবস্থা আগে ছিল না এবং সম্ভবও ছিল না। যানজটও গাড়ির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে বন্দিরা সঠিক সময়ে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় বিচার কার্যক্রম ব্যহত ও দীর্ঘায়িত হয়। আমরা চেষ্টা করছি অদূর ভবিষ্যতে এসব ছেলে মেয়েদের সঙ্গে এ পদ্ধতিতে কোর্টে সংযোগ ঘটিয়ে দেয়ার জন্য, তাহলে তাদের আর কোর্টে যেতে হবে না। সংশোধনী কেন্দ্রে বসেই আদালতে হাজিরা দিতে পারবে। সে ব্যাপারে চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে বিচার কার্যক্রম তরান্বিত হবে বলে আমি আশা করি। আমরা চেষ্টা করছি অদূর ভবিষ্যতে তার বাস্তবায়ন করতে।

আয়োজকরা জানান, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র কোনাবাড়ি, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র টঙ্গী ও কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পুলের হাট যশোর এ তিনটি কেন্দ্র সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়। আদালতের মাধ্যমে আইনের সংঘাতে জড়িত ও সংস্পর্শে আসা এসব শিশু, কিশোর-কিশোরীদের মা-বাবা ও অভিভাবকদের সঙ্গে স্কাইপির মাধ্যমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। অভিভাবকরা নিজ জেলায় থেকে নিবাসে থাকা তাদের সন্তানদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন। শনিবার এই তিনটি কেন্দ্র হতে ১১ জন শিশু, কিশোর-কিশোরী স্কাইপির মাধ্যমে সরাসরি তাদের বা-বাবা ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.