কোয়েটার হাসপাতালে বোমা হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩

বিবিসি বাংলা।
পাকিস্তানের বালোচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার একটি হাসপাতালে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৩ জনে।

আহত একশোরও বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন আইনজীবী রয়েছেন।

আজই পৃথক আরেকটি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজন আইনজীবী সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা হাসপাতালে ভীড় করেছিলেন এবং তখনই নিজেরাই সন্ত্রাসের শিকার হন।

যেখানে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছে, সেখানে আইনজীবীরা সমবেত হয়েছিলেন আজ নিহত হওয়া আরেকজন সিনিয়র আইনজীবীর প্রতি শোক প্রকাশ করতে।

নিহত সেই আইনজীবী বিলাল কাজী একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী এবং বার সমিতির সভাপতি ছিলেন।
আজই দিনের আরো আগের দিকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তাঁর মৃতদেহ যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে আইনজীবীরা ছাড়াও সাংবাদিক এবং ক্যমেরা ক্রুরা জড়ো হয়েছিলেন।

এই ভিড়ের মধ্যেই বিস্ফোরণটি ঘটে।

এরপর টিভি চ্যানেলগুলোর খবরে দেখা যায়, গুরুতর আহত অনেককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জরুরি সেবাকর্মীরা, অনেকে কাঁদছেন।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এটা ঘটেছে, এবং এর তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনার জন্য তিনি পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেন।

কিন্তু কোয়েটায় অতীতে অনেকগুলো এমন আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, আর গত কয়েক সপ্তাহে আইনজীবীরাও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

তবে আজকের বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে বেলুচিস্তান আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এক নতুন মাত্রায় চলে গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এটা আত্মঘাতী হামলা হতে পারে বলেও তারা সন্দেহ করছেন।

এখন পর্যন্ত কেউ এর দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

তবে বিবিসির চার্লস হ্যাভিল্যান্ড বলছেন, বেলুচিস্তানে বহু রকমের গোষ্ঠীই এ ধরনের আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের মধ্যে শিয়াবিরোধী জঙ্গী থেকে শুরু করে বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী বা তালেবানের মতো ইসলামপন্থী পর্যন্ত সব রকম গোষ্ঠীই আছে।তারা অনেকেই আইনজীবী বা মানবাধিকার কর্মীদের তাদের সহজ লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.