‘খালেদা জিয়ার ইচ্ছা’ জানতে চান আদালত

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি আছে কিনা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের উপাচার্যকে বুধবারের মধ্যে এই তথ্য জানাতে বলা হয়েছে৷ ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন . . .

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সর্বশেষ প্রতিবেদন দাখিল করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকালে এই নির্দেশ দেন৷ আগামী বুধবার বিকাল পাঁচটার মধ্যে আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করতে বলা হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত৷

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘‘মেডিক্যাল বোর্ড আপিল বিভাগে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন আগেই জমা দিয়েছে৷ আমরা এবার হাইকোর্টের জামিন আবেদনে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করেছি৷ এখন আদালত জানতে চেয়েছেন এই ‘অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট’ এ খালেদা জিয়ার সম্মতি আছে কিনা৷ এর আগে মেডিক্যাল বোর্ড জনিয়েছিলো যে খালেদা জিয়ার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য তাঁর সম্মতি প্রয়োজন৷ আদালত তাই তাঁর সম্মতি আছে কিনা জানতে চান৷ তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদনও চেয়েছেন আদালত৷”

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ হয়৷ আপিল বিভাগ তখন তাঁর সম্মতির প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকদের বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশ দেন৷ এখন তাঁর অগ্রগতিসহ সবশেষ অবস্থাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট৷

এদিকে আবেদনে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেয়া হবে৷ কিন্তু কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন নিজে সেখানে যেতে চান কিনা জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে সরাসরি জবাব দেননি তার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা মানবিক কারণে জামিন চেয়েছি৷ তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেয়া হবে বলে আবেদনে বলেছি৷ তবে খালেদা জিয়া নিজে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে চান কিনা তা এখন বলব না, পরে বলব৷’’

এদিকে খালেদা জিয়া আদৌ চিকিৎসার জন্যদেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে৷ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা মনে করি মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রয়োজন৷ কিন্তু তিনি আমাদের বলেননি যে তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান৷ আর আমাদের পক্ষে তাঁর মতামত জানাও সম্ভব নয়৷ কারণ আইনজীবীদের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না৷ তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলেছেন তারা দেশের বাইরে তাকে চিকিৎসার জন্য নিতে চান৷ খালেদা জিয়া হয়তোবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেছেন৷’’

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কয়েকবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা জনিয়েছেন৷ কিন্তু তা খালেদা জিয়ার ইচ্ছা কিনা তা তাঁরা কখনোই স্পষ্ট করেননি৷ অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও প্যারোল বা জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলছেন না৷ তাদের দাবি বিষয়টি খালেদা জিয়া বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন৷

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য লন্ডন যেতে চান কিনা এই প্রশ্ন অবান্তর৷ তিনি জামিন পেলে যাবেন৷ তিনিতো আগেও লন্ডনে তাঁর চিকিৎসা করিয়েছেন৷ তিনি যেতে চান বলেইতো তাঁর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেছেন৷’’

তিনি দাবি করেন, ‘‘উনি (খালেদা জিয়া) মৃত্যুর মুখে৷ এখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে রাজি আছেন কিনা এটা কোনো প্রশ্ন হতে পারে? এটাতো সময় ক্ষেপণের একটা কৌশল৷ জামিন দিলে উনি চিকিৎসা নিতে যাবেন৷ আদালত শর্ত দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে৷ এটা তাদের ইচ্ছা৷ উনি চিকিৎসা শেষে আবার দেশে ফিরে আসবেন জামিনের সময়ের মধ্যে৷ সেই জন্যইতো জামিন চাওয়া হয়েছে৷’’

তবে, আদালতে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম৷ বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আদালতকে বলেন, ‘‘এর আগেও একই আবেদন করা হয়েছে যা আপিল বিভাগে খারিজ হয়েছে৷ রবিবারের আবেদনও তার পুনরাবৃত্তি মাত্র৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আপিল বিভাগ তো বলেছেনই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁর সম্মতিতে সেটা করা হবে৷ এছাড়া যে ওষুধ উনার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন তা বাংলাদেশে রয়েছে৷’’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়৷ ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়৷ পরে এই মামলায় দুদকের রিভিশন আবেদনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট৷ একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত৷ দুই মামলায় খালেদা জিয়া ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন৷

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগে তার জামিন নাকচ হয়েছে৷ এরপর এখন হাইকোর্টে আপিল শুনানিতে আবার জামিনের আবেদন করা হয়েছে৷ অন্যদিকে জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের মামলায় শাস্তি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে জামিন আবেদনের প্রক্রিয়া এখনো এগোয়নি৷