গ্রন্থমেলায় আসুন বই কিনুন

রমজান আলী মামুন ।

ডাকটিকেট সংগ্রহের মতো বইকেনাও কারো কারো মতে একটা নেশার কাজ । বই পড়ুক কিম্বা না পড়ুক বইপ্রেমীরা বই কিনবেই। অনেকে এই বইপ্রেমীদের বই শিকারীও বলে থাকেন।
এই শহরের দু’জন বইপ্রেমীর কথা জানি আমি। একজন দু’বছর আগে গত হয়েছেন। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অনুবাদক সিদ্দিক আহমেদ আর অন্যজন গল্পকার বিপুল বড়ুয়া। একজন খেয়ে না খেয়ে বই সংগ্রহ করতেন। অন্যজন বইয়ের ঘ্রাণে আজও ডুবে থাকেন। এরকম বইপ্রেমী বা বই শিকারী খুঁজলে এ শহরে আরও পাওয়া যাবে। এই সৃজনশীল নেশা যাকে একবার ছেঁকে ধরে তাকে কী সহজে ছাড়ে! আগে তরুণেরা দস্যূ বনহুর- মাসুদ রানা সিরিজের বইগুলো দোকানী থেকে ভাড়ায় এনে পড়তেন। এখন তাদের দিন কাটে ফেসবুকে চ্যাট করে। স্কুল কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে এখন বইয়ের স্থলে দেয়া হয় ক্রোকারিজের সামগ্রী।

এই যখন হতাশাজনক অবস্থা তখন আমাদের সামনে প্রতিবছর গ্রন্থমেলা এসে হাজির হয় এক আলোকবর্তিকা নিয়ে। নতুন নতুন গ্রন্থের মোড়কে নানারকম লেখার সুস্বাদু ঘ্রাণে আমরা বিমোহিত হই। বই কিনে যেমন আমরা আনন্দিত হই-পুলকিত হই তেমনি বইয়ের ভেতর ডুবে গিয়ে এক অপার্থিব জগতের সন্ধান পাই আমরা। আবার কিছু কিছু জ্ঞান নির্ভর বই আমাদের চোখের পর্দা থেকে সকল অন্ধকার তাড়িয়ে দেয়। তাই অন্যকিছুর সাথে বইয়ের তুলনা চলে না। মেলায় আমি যেমন আমার বই বিক্রি করি তেমনি আবার বন্ধু বান্ধব কিম্বা অন্য প্রিয় লেখকের বইও কিনে নিই। এই বইকেনা ও সংগ্রহের চর্চাটা আমরা যারা লেখালেখিতে যুক্ত আছি তাদের মধ্যে বেশি হওয়াটা জরুরী। আমরা নিজেদের সৃজনশীল দাবি করে এই সংস্কৃতিটা যদি চালু না করি তাহলে পাঠক একচেটিয়া আমার বই কিনবে এ ধারণা করাটা অমূলক। আবার বাছ বিচার ছাড়া মানহীন বই কিনতে হবে আমি এমনটিও বলছি না।

সবশেষে সবার প্রতি একটি অনুরোধ চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমন্যাশিয়াম মাঠে এবার একটা অভিন্ন মেলা হচ্ছে। যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত চলবে। চট্টগ্রামের কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক প্রকাশক সংস্কৃতিসেবী তথা সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবিকে সফল রূপ দিয়েছেন চট্টগ্রামের মাননীয় সিটি মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন। সে জন্যে তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। এই পর্যন্ত মেলা থেকে আমি ২৫ টি বই সংগ্রহ করেছি। সামনে আরও কিনবো। আপনারাও মেলায় আসুন। অন্তত একটা বই কিনে নিয়ে চট্টগ্রামের এই প্রাণের মেলাকে সফল করুন। বি.দ্র.-চট্টগ্রামের বইমেলায় অক্ষরবৃত্ত, চন্দ্রবিন্দু,. আবির প্রকাশন ও কালো প্রকাশনে আমার বই পাওয়া যাচ্ছে। আবার আমাকে সার্বক্ষণিক সশরীরে পাওয়া যাবে কালো প্রকাশন ৩৩ নম্বর স্টলে। বন্ধু বান্ধব সবাইকে বইকেনা এবং দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
ফেসবুক থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.