চকলেট ডে

রোজ ডে, প্রপোজ ডে পর বার এসে গেলে চকলেট ডে। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন চকলেট ডে। শুধু উপহার হিসেবে নয়, চকলেটের গুণে সম্পর্ক হয়ে ওঠে মধুর। জেনে নিন কেন ভালবাসা বাড়াতে, সুস্থ সম্পর্ক গড়তে উপহার দেবেন চকলেট

ভ্যালেন্টাইনস ডে, মানে ১৪ ফেব্রুয়ারির সাতদিন আগে থেকেই শুরু হয় ভালবাসার সপ্তাহ।  ৯ ফেব্রুয়ারি ইন্টারনেশনাল চকলেট ডে। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের তৃতীয় দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় চকলেট আদান-প্রদান করে। ৮ থেকে ৮০ সব বয়সীদের পছন্দ চকলেট। আর তাই কাউকে উপহার দিতে এই খাদ্যের জুড়ি নেই।

আমরা কম বেশি সবাই খেতে পছন্দ করি। যারা খুব বেশি পছন্দ করেন, তাদের ব্যাগ খুঁজলেই পাবেন চকোলেট। আর যারা চকোলেট পছন্দ করেন তারা শুধু নিজেরাই খান না, অন্যকে খাওয়াতেও পছন্দ করেন।

আপনার প্রিয়জনকে চমকে দিয়ে দিতে পারেন একটি অথবা এক প্যাকেট চকোলেট অথবা আপনার ইচ্ছে মত। আর এই চকোলেট নিয়ে আমরা পোষণ করি নানান ধরনের ভ্রান্ত ধারণা। রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যাবেন চকোলেটের উপকারিতা জানলে। চলুন একটু দেখা যাক কী কী প্রধান উপকারিতা রয়েছে চকলেট খাওয়ার।

হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য: ডার্ক চকোলেট হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। কোকোর মধ্যে অবস্থিত ফ্ল্যাভেনলস শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড প্রস্তুত করে। এই নাইট্রিক অক্সাইড রক্ত বাহক (শিরা, ধমনী) গুলির মধ্যে দিয়ে রক্ত চলাচলকে মসৃণ করে। পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকোলেট কমিয়ে দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। শরীরে কমিয়ে দেয় এলডিএল-এর পরিমাণ। ফলে হার্টের অসুখের সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
রক্তপ্রবাহ বাড়ায়: ড. ফিট্জগেরাল্ড লিখেছেন যে, কোকোর রক্তজমাট বিরোধী ও রক্ত তরলীকরণ বৈশিষ্ট্য আছে যা অ্যাসপিরিন এর অনুরূপ পদ্ধতিতে কাজ করে রক্ত প্রবাহ ও প্রচলন বৃদ্ধি করতে সাহায্যে করে।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়: ডার্ক চকোলেটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল মসৃণ করে। মতে মস্তিষ্কের চিন্তন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউরোলজির সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশিত হট চকোলেট বয়স্ক মানুষদের মস্তিষ্ক সুস্থ রেখে স্মৃতি শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

মনমেজাজ ভাল রাখতে সাহায্য: মাঝে মাঝেই কি আপনার মেজাজ পরিবর্তিত হয়। চকোলেটের মধ্যে থাকে ফিনাইল ইথাইল অ্যামিন। কেউ প্রেমে পড়লে মস্তিষ্ক ঠিক এই রাসয়ানিক পদার্থ ক্ষরণ করে। চকোলেটের মধ্যে যে ম্যাগনেশিয়াম থাকে তা স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করে। অ্যানানডামাইট নামের নিউরোট্রান্সমিটার মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফিনাইলইথাইলঅ্যামিন বাড়িয়ে দেয় এন্ডোরফিন লেভেল। যা মনকে খুশি করে তোলে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে যুদ্ধ করে শরীরকে প্রস্তুত রাখে: একটি গবেষণা অনু্যায়ী ডার্ক চকলেট শর্করাজাতীয় খাদ্য বিপাকে সাহায্য করে। ডার্ক চকোলেটে অবস্থিত ফ্ল্যাভেনলস অক্সিজেন ফ্রি বস্তু গুলিকে নিস্তেজ করে। ফলে অকারণ অক্সিডেশন হয়ে কোষ মারা যায় না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে: সাধারণ অবস্থায় আমরা মনে করি চকোলেট খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু বিএমআই লেভেল নিয়ন্ত্রণে ডার্ক চকোলেটের জুড়ি মেলা ভার। চকোলেট বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ক্যালরি ইনটেকে সাম্য বজায় থাকে। চকোলেট খেলে পেট ভরা থাকে। তাই বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তাই সব মিলিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

স্কিন রক্ষা করে: ডার্ক চকলেট আসলে ত্বকের জন্য অনেক ভাল। ডার্ক চকলেট এ ফ্ল্যাভোনয়েড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা সূর্য থেকে নির্গত UV রশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করেন।

তবে এর পরেও এত কিছু ভাল পেতে গেলে চকোলেট খাওয়াতেও কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। বাজারে চলতি মিল্ক চকোলেটগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট থাকে, তাই আপনার চকোলেটীয় প্রেম ডার্ক চকোলেটের উপর থাকলে সব দিক থেকেই লাভবান হওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.