চিটাগাং ভাইকিংসের বিদায় : অবিশ্বাস্য জয় রাজশাহীর

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে তামিমের চিটাগং ভাইকিংসকে কাঁদিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফার নিশ্চিত করলো রাজশাহী কিংস। এই হারের ফলে আসর থেকে বিদায় নিতে হলো চিটাগংকে।

৫৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে যান রাজশাহীর অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। এরপর ২৭ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে রাজশাহীকে ৩ উইকেটের অবিস্মরনীয় জয় এনে দেন স্যামি। ফলে কোয়ালিফাইয়ার-২ এ খেলার টিকিট পায় রাজশাহী। তাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টুয়েন্টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের চতুর্থ আসরের এলিমিনেটর থেকেই বিদায় নেয় তামিমের চিটাগাং। সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া ঢাকা ডায়নামাইটস ও খুলনা টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে হেরে যাওয়া দল আগামীকাল কোয়ালিফাইয়ার-২এ রাজশাহীর মুখোমুখি হবে।
জয়ের জন্য ১৪৩ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহী। ফলে এক পর্যায়ে ৬ উইকেটে ৫৭ রানে পরিণত হয় তারা। পতন হওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে ব্যাট হাতে বলার মত রান করেছেন ওপেনার ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ বলে ৩৪ রান করেন সোহান। এছাড়া মোমিনুল হক ৪, আফিফি হোসেন শুন্য, সাব্বির রহমান ১১, ইংল্যান্ডের সামিত প্যাটেল ৫ ও নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন ২ রান করেন।
১১ ওভারে দ্রুত ৬ ব্যাটসম্যান ফিরে যাবার পর দলকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন রাজশাহীর অধিনায়ক স্যামি। তখন তার সঙ্গী হিসেবে ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সফল হয়েছেন তারা। সপ্তম উইকেটে মাত্র ২০ বলে ৩৭ রান যোগ করেন স্যামি ও মিরাজ। ব্যক্তিগত ১০ রানে ফিরে যান মিরাজ। এতে কোন সমস্যা হয়নি রাজশাহীর। কারন তখনও ব্যাট হাতে অবিচল স্যামি।
চিটাগাং-এর পেসার শুভাশিষ রায়ের তৃতীয় ও ইনিংসের ১৬তম ওভারে পরপর তিন বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হাতে মুঠোয় নিয়ে আসেন স্যামি। ফলে ১৬ ওভার শেষে রাজশাহীর প্রয়োজন পড়ে ২৪ বলে ২৭ রান। আর সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পরবর্তীতে মাত্র ১৫ বল মোকাবেলা করেন স্যামি ও নয় নম্বরে নামা ফরহাদ রেজা। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৭ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের অপূর্ব ইনিংস খেলেন স্যামি। ৩টি চারে ১১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন ফরহাদ। ম্যাচের সেরা হয়েছেন স্যামি।
এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ এলিমিনেটর ম্যাচে টস জিতে চিটাগাং-কে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রন জানান রাজশাহীর অধিনায়ক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্যারেন স্যামি। আগের চার ম্যাচে ওপেনার হিসেবে ব্যাট হাতে সাফল্য পাননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল। তাই এ ম্যাচে তাকে ওপেনার হিসেবে ব্যবহার করেনি চিটাগাং।
তাই উদ্বোধণী জুটিতে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গী হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান ডোয়াইন স্মিথ। গত ২২ নভেম্বরের পর আবারো চিটাগাং-এর হয়ে খেলার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি স্মিথ। ৫ বল খেলে শুন্য হাতে ফিরেন তিনি।
এরপর তৃতীয় ওভারেই তামিমের সঙ্গী হন গেইল। সঙ্গী গেইলকে পেয়ে রান তোলায় মনোযোগী হন তামিম। এতে সাহস বাড়ে গেইলের। তাই রাজশাহীর বোলারদের উপর চড়াও হন তামিম ও গেইল। ফলে দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৫০ বলে ৭৪ রান যোগ করেন তারা। গেইলকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন। ৫টি ছয় ও ২টি চারে ৩০ বলে ৪৪ রান করেন গেইল।
দলীয় ৮২ রানে গেইল ফিরে গেলেও, এবারের আসরে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। তবে হাফ-সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংস খুব বড় করতে পারেননি তিনি। ৬টি চারে ৪৬ বলে ৫১ রান করেন তামিম। দলপতির আগে ১২ বলে ১৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিকও। ফলে চাপে বেশ চাপে পড়ে যায় চিটাগাং।
অবশ্য পরবর্তীতে সেই চাপ দূর করতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। তাই বড় স্কোরের পথ তৈরি করেও, শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৪২ রানের সংগ্রহ পায় চিটাগাং। শেষ ৩১ বলে ৭ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ৩০ রান যোগ করতে পারে চিটাগাং। রাজশাহীর সফর বোলার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেসরিক উইলিয়ামস ৪ ওভারে ১১ রানে ৪ উইকেট নেন। এছাড়া ফরহাদ রেজা ২টি ও ফ্রাঙ্কলিন ১টি উইকেট নেন। আগের ম্যাচের আফিফ হোসেন এ ম্যাচে বল হাতে ছিলেন ব্যর্থ। ২ ওভারে ২৫ রান দিয়েছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
চিটাগাং ভাইকিংস : ১৪২/৮, ২০ ওভার (তামিম ৫১, গেইল ৪৪, উইলিয়ামস ৪/১১)।
রাজশাহী কিংস : , ওভার (স্যামি ৫৫*, নুরুল ৩৪, সাকলাইন ২/২৪)।
ফল : রাজশাহী কিংস ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ড্যারেন স্যামি (রাজশাহী কিংস)।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.