জানি একদিন তুমি কাঁদবে

আহমেদ জহুর

শরতের শিশির কুড়াতে কুড়াতে তোমায় বলেছিলাম, একদিন এ বকুল গাছ
তোমারই হবে। বকুলের রাণী হয়ে
শুভ্রতার ঘ্রাণ ছড়াবে। দুচোখের
রক্তপাত মাড়িয়ে একদিন তুমি
ঠিকই রাণী হলে, বকুলের সুঘ্রাণ মেখে
নিলে সশস্ত্র শরীরে।
কী নিদারুণ! রাণী হয়ে সেই বকুল
গাছটাই শেষমেশ প্রতিহিংসার
করাত দিয়ে কেটে ফেললে!

সানগ্লাস খুলে দ্যাখো, এখন এখানে
আর শিশির ঝরে না বন্ধু। পাতারা
হাসে না। মাছেরা কাঁদে না সন্তান
শোকে। ভোরের শিশিরও ভয়ে
কুঁকড়ে যায় সোনার ছেলেদের
দাপটে। কচি দুর্বা, উদ্ভিন্ন শেফালি
নর-হায়েনার লুলুপ ছোবলে বেদনায়
নীল হয়ে আছে। মানবতার ভালবাসা
পালিয়েছে তোমার কন্ঠ-সন্ত্রাসে!

কথা ছিল ভালবাসা না-হোক, না-হোক
মধুর মিলন। তবু তুমি ভালবাসার
ছন্দ ছড়াবে। ভাগ্যহত মানুষকে
বকুলের ঘ্রাণ দিয়ে কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।
ক্ষিদের জ্বালায় কেঁদেকুটে আর
বুক ভাসাবে না কোন বুকের শিশু।
অথচ পৃথিবীর আলো দেখার আগেই
মাতৃগর্ভে শিশু বুলেটবিদ্ধ হচ্ছে!

কী নিষ্ঠুর তুমি! কী বিভৎস তোমার
স্বরূপ। তাইতো পিতৃঋণ বেমালুম
গেছো ভুলে। গোছা গোছা তাজা
ফুল আর নকল কান্না-হাসিতে কি
পিতৃঋণ কখনো শোধ করা যায়?
চাটুকারদের মায়া-কান্নায় আর
কতো নিরীহ প্রতিজ্ঞা হারাবে?

এখনো সময় ফুরোয়নি বন্ধু। কৃত্রিম
হাসি আর নকল কান্নায় তৃপ্তির
তোয়ালে না ভিজিয়ে শিগগির
বকুলের চারা বোনো। না-হলে
একদিন নির্ঘাত তুমি কাঁদবে। ভীষণ
অঙ্গ ভেজাতে হবে অনুশোচনার
দহনজলে। সেদিন তোমার চারপাশের
মৌমাছি আর মেকি প্রশংসার সংগীত
শোনাবে না। গাছেরটা তলারটা
কুড়িয়ে খাওয়া বুদ্ধিজীবীরাও মুহূর্তে
লোভাতুর চোখ উল্টাবে।

হয়তো সেদিনই বুঝবে বন্ধু তোমার-আমার মিলন কতো মধুর হতে
পারতো। কতো সার্থক হতে পারতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.