ঝামেলা এড়াতে কর্মজীবী দম্পতির করণীয়

বিয়ের পর প্রথম কয়েকমাস বেশ ভালোই চলে সংসার। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় বছর ঘুরতেই। প্রায়ই খুঁটিনাটি তর্ক লেগে থাকে দু’জনের মধ্যে। কারণ বর্তমানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও অেফিস-আদালতে কাজ করছে। এ কারণে সংসার আর অফিস একসাথে সামলানো অনেকটাই কষ্টকর হয়ে যায় কর্মজীবী নারীর পক্ষে। কখনো দেখা যাচ্ছে অফিসে দেরীতে পৌঁছাচ্ছে।

আবার কখনো সকালের নাস্তা বানানো সম্ভব হচ্ছে না। আর এতে ঝামেলা অহরহই লেগে থাকে ওর্য়াকিং কাপলদের সংসারে। যেসব জুঁটি ঘর এবং বাহির একসাথে সামলাতে গিয়ে অনেকটাই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন তারা মেনে চলুন কিছু নিয়মিত রুটিন-

কাজের প্ল্যানিং করুন: যেকোনো কাজ করতে গেলেই প্রথমে প্রয়োজন প্ল্যানিং’র। আর সেটা যদি আপনার সংসার এবং অফিস হয় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। এই ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই কোন কাজের পরে কোনটা করবেন তার একটা প্ল্যানিং করে ফেলতে হবে আগে থেকেই। যদি আপনার মনে না থাকে তাহলে প্রয়োজনে আপনি খাতায় লিখে রাখতে পারেন।

প্রতিটি কাজের জন্য সময় ঠিক করুন: প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নিলে কাজ সহজ হয়। এতে অফিস এবং বাসার কাজ দুটোই ঠিক মতো করা যায়। কাজের সময় নির্ধারণসহ অফিসের মিটিং থেকে শুরু করে বাসার আসবাবপত্র মোছার মতো ছোটছোট কাজের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

কাজ ফেলে রাখবেন না: অনেক সময়ই দেখা যায় রাতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর শরীর বেশ ক্লান্ত হয়ে পরে। খাওয়া শেষ করে জিনিস পত্র সব এলোমেলো ভাবে ফেলে রেখেই ঘুমাতে চলে যান। এতেই বাঁধে বিপত্তি। কেননা সকালে উঠেই আবার লেগে যায় দৌড়ঝাপ। রাতে ফেলে রাখা কাজ শেষ করতে করতে সকালটাও মাটি হয়ে যায়। অফিস পৌঁছাতে দেরী। তার সাথে যুক্ত হয় বসের ঝাড়িটিও। তাই কাজ ফেলে না রেখে যখনকার কাজ তখনই করা উচিত।

কাজ ভাগ করে নিন: ঘরের কাজগুলো সব নিজের মাথায় ফেলে না রেখে ভাগ করে নিন। যদি ঘরের কাজগুলো আপনি করেন তাহলে সংসারের প্রয়োজনীয় বাহিরের কাজগুলো আপনার স্বামীকে করতে বলুন। প্রয়োজনে খাবার টেবিল মোছার মতো হালকা কাজগুলো আপনার বাচ্চাদের দায়িত্ব দিয়ে দেন। এতে কাজের ঝক্কিটাও খানিকটা কমে।

কিছু কাজ ছুটির দিনে করুন: কিছু কিছু কাজ আপনি ছুটির দিনে করে রাখতে পারেন। এতে অন্যান্য দিনগুলোতে আপনার কাজের চাপ কিছুটা হলেও কম পড়বে। ঘরের ঝুলঝাড়া অথবা কিছু তরকারি রান্না বা সেদ্ধ করে রাখতে পারেন। এতে করে অন্য দিনগুলোতে কিছুটা হলেও সুবিধা হবে।

নিজেদের মধ্যে ভালো বোঝাপোড়া করুন: কোনো ঝামেলাই আসলে ঝামেলা নয় যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো বোঝাপোড়া থাকে। অফিস এবং বাসা এই দুটি একসাথে ম্যানেজ করার জন্য আসলে সবার আগে প্রয়োজন এই বোঝাপোড়াটাই। নিজেদের মধ্যে ভালো সমঝোতা থাকলে সহজেই সামলে নেওয়া যায় ঘর-বাহিরের কাজগুলো।

নিজেদের জন্য সময় রাখুন: বিয়ের পরে আপনাদের দায়িত্বের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় দুইগুনে। সাথে যুক্ত হয় নিজেদের সংসার এবং অফিসের কাজ। এতো ঝামেলায় নিজেরা ভুলেই যায় নিজেদের সময় দেয়ার কথা। আর তখনই মূল বিরোধটা শুরু হয়। তাই প্রথমেই দিনের কিছু সময় শুধু নিজেদের জন্য রাখুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.