তুরস্কে নিহত ২৬৫, দেড় সহস্রাধিক সেনা আটক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভারী ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। দেশটির বড় বড় শহরগুলোতে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে ১০৪ জনই সেনা সদস্য। আটক করা হয়েছে দুই হাজার ৮৩৯ জন সেনা কর্মকর্তাকে এবং আত্মসমর্পণ করেছে ২০০ সেনা সদস্য।। শনিবার টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটির ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল উমিত দুনদার এ কথা জানান।

‘সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে’ উল্লেখ করে উমিত দুনদার বলেন, সহিংসতায় এ পর্যন্ত সেনা কর্মকর্তা ছাড়া ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ জন পুলিশ সদস্য এবং ৪৭ জন বেসামরিক নাগরিক। অনেক সেনা কমান্ডারকে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীরা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপির খবরে বলা হয়, তুর্কি সেনা সদর দপ্তরে ২০০ জন নিরস্ত্র সেনাসদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া এক হাজার ৫৬৩ জন সেনাকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরু হয়। সেনাসদস্যরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। সারা রাত ধরে বিস্ফোরণ চলেছে। রাজধানী ইস্তাম্বুলে সেনারা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে। সরকারি টিভি চ্যানেল আনাদুলুর খবরে বলা হয়, আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় জঙ্গিবিমানের ওড়াউড়ি শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকালেও শব্দ পাওয়া গেছে।

তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলার পর শনিবার সকালে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছান এরদোগান। সেখানে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, তিনি এখনো ক্ষমতায় রয়েছেন। এ ধরনের অভ্যুত্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তুরস্ককে কোনো দখলদারের কাছে দেয়া হবে না।

আনাদুলু সংবাদ সংস্থা জানায়, তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা সম্মিলিত চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। সরকার আবার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একেপির হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছে। অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের ব্যবহৃত বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দেন এরদোগান।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিম জানান, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং রাজধানী আঙ্কারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সকালে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তখন আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সংঘর্ষ চলছিল। বিস্ফোরণ, গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আকাশে ওড়ে যুদ্ধবিমান। অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীরা তুর্কি পার্লামেন্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা এবং সামরিক জোট ন্যাটো তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। সেনাবাহিনীর কোনো কর্মকর্তা হামলার দায় স্বীকার করেননি। তুরস্কে ১৯৬০ সাল থেকে তিনবার সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে। সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.