তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাসী!

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও পরাশক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ক্রমশ বেড়ে চলা উত্তেজনার কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছে বিশ্ববাসী। আর তার প্রমাণ মিলেছে গুগল সার্চ রেকর্ডে।

ইনফোওয়্যারস ওয়েবাসইট এর পরিসংখ্যান মোতাবেক, সম্প্রতি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ নিয়ে গুগল সার্চ রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায়। এর পাশাপাশি ‘ট্রাম্প যুদ্ধ’, ‘সিরিয়া যুদ্ধ’, ‘পরমাণু যুদ্ধ’ ইত্যাদি যুদ্ধকেন্দ্রিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চের রেকর্ড দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

কোরিয়া উপদ্বীপের দিকে বিমানবাহী রণতরী কার্ল ভেনসনের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপ ছুটে চলছে। এ গ্রুপের সঙ্গে জাপানের নৌবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া করবে বলে ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া, চলতি মাসের ৭ তারিখে হামলার পরও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সিরিয়ার দিকে তাক করা আছে। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সিরিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক একরকম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এদিকে, চীন উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করছে বলেও খবর প্রচারিত হয়েছে। যদিও বেইজিং এ খবরের সত্যতা অস্বীকার করেছে। আর এসব নানাবিধ কারণেই বিশ্ববাসীর মনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কার জন্ম নিয়েছে।

২০০৪ সালের পর এবারই প্রথম তৃতীয় মহাযুদ্ধ নিয়ে সার্চ গুগোলে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম ‘যুদ্ধ’ সংক্রান্ত বিষয়ে সার্চে রেকর্ড সৃষ্টি হলো। ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর ‘যুদ্ধ’ নিয়ে ব্যাপক সার্চ করা হয়েছিল।

‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উত্তর কোরিয়া’

উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সংঘাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন।

কোরিয়া উপদ্বীপ অভিমুখী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে ঘিরে টান টান উত্তেজনার মধ্যে এ কথা বলেছে চীনা কর্মকর্তারা।

‘যুদ্ধ বাধলে কোনো পক্ষই জয়ী হতে পারবে না’ বলে সতর্ক করে দিয়ে চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই উত্তর কোরিয়া নিয়ে উত্তেজনার অবসান চেয়েছে।

গত সপ্তাহে সিরিয়ায় ইদলিবের খান শেইখৌন শহরে রাসায়নিক গ্যাস হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবও যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দেবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ‘ধৈর্যচ্যুতি’ ঘটেছে বলে ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রণতরীও কোরিয়া উপদ্বীপে যাচ্ছে। পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে বলেছে, এ পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া উপদ্বীপকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

আগবাড়িয়ে কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করেও ষষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওদিকে, চীন তার দোরগোড়ায় এমন সামরিক উত্তেজনা নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছে৷ যুদ্ধ বাধলে উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়বে এবং চীন সীমান্তে সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই উত্তেজনা কমাতে চীন শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না।

তিনি বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আর যে কোনও মুহূর্তে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কায় আছে আরেকপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষরই অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।

Source: bbarta24.net

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.