দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে প্রথম এই ধরনের ঘটনার পর আজ শনিবার রাত পৌনে ৮টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উপর আস্থা রাখুন। ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ঠেকাতে জনগণকে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, দেশবাসীকে সাথে নিয়ে যে কোনো মূল্যে আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করব।

‘মুষ্টিমেয়’ বিপথগামী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি, কম্যুনিটি পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সন্ত্রাস মোকাবেলায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বিপথগামীদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে তিনি ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহবানও জানান।

যারা কিশোর ও যুবকদের বিপথে পরিচালিত করছেন তাদের উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে হত্যা করে কী অর্জন করতে চান? ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের নামে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন।’

সন্তানরা যেন বিপথে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতিও আহবান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ‘আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করি।’

সন্ত্রাসীদের সমূলে নির্মূল করে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় সংকল্প জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে পারবে না।’

হলি আর্টিজেন বেকারিতে হামলার ঘটনাকে ‘বর্বর ও কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে এই হামলা নজিরবিহীন।

কমান্ডো অভিযানে তিন বিদেশীসহ ১৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের তথ্য তুলে ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন সরকার প্রধান। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার সাহসিকতার প্রশংসাও করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর সেকশনের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে তারা দেশী-বিদেশীদের পণবন্দী করে রাখে। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে রাতেই নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এবং গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম। এ ছাড়া এ সময় আহত হয় অর্ধশতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।

আজ সকালে পণবন্দীদের উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযান শেষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী জানান, গুলশানের হলি আর্টিজান থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে গতকাল শুক্রবার রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযানে সাত সন্ত্রাসীর মধ্যে ছয়জন নিহত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.