দেশে ফিরে যেমন দিন কাটছে ভারতীয় পাইলটের

ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার রাতেই দেশে ফিরেছেন পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। এরপর থেকে তাকে রাখা হয়েছে বিমান বাহিনীর বিশেষ একটি হাসপাতালে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে হামলা চালাতে গিয়ে আটক হন অভিনন্দন। ৫৮ ঘণ্টা পাকিস্তানের হাতে ‍যুদ্ধবন্দী হিসেবে ছিলেন তিনি। শুক্রবার তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

শনিবার হাসপাতালে অভিনন্দনকে দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ভারতীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে হাসপাতালে কেবিনে একটি চেয়ার মুখোমুখি অবস্থায় বসে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন পাইলট অভিনন্দন। এসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে নিজের স্বাস্থ্য ও পাকিস্তানে আটক হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন অভিনন্দন। পাকিস্তানে তাকে কেমন চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে সে বিষয়েও খোঁজ নেন মন্ত্রী।

এর আগে এদিন সকালে অভিনন্দনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বীরেন্দ্রর সিং ধানোয়া। অভিনন্দন তাকেও পাকিস্তানে বন্দীদশ সম্পর্কে অবহিত করেন।

দেশে ফেরার পরই অভিনন্দনকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় অমৃতসর বিমানবন্দরে। রাত তখন প্রায় সাড়ে ১০টা। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে করে দিল্লির পালম বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় অভিনন্দনকে। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত সাড়ে ১১টা। সীমান্ত থেকে দিল্লি— দীর্ঘ এই সফরে অভিনন্দনের সঙ্গী ছিলেন শুধুমাত্র কয়েক জন সেনা অফিসার।

এর পর পালম বিমান ঘাঁটি থেকে অভিনন্দনকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সুব্রত পার্কের এয়ারফোর্স সেন্ট্রাল মেডিক্যাল এসটাব্লিশমেন্ট, বিমান বাহিনীর ক্রুদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটি। ওই হাসপাতালে রাতেই প্রথামিক একটা মেডিক্যাল চেকআপ হয় অভিনন্দনের। এখানেই পরিবারের সাথে সামান্য সময়ের জন্য দেখা হয় তার। তবে পরিবারের সদস্যদের সাথে কোনও বাক্যবিনিময় করার সুযোগ পাননি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাতে হালকা খাবার খেয়েছেন অভিনন্দন। রাত একটার দিকে হাসপাতালে তার জন্য বরাদ্দকৃত কেবিনে ঘুমোতে যান।

শনিবার সকালে নাস্তার পর আবার এক দফা মেডিকেল চেকআপ করা হয়েছে তার। ভারতীয় বিমান বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সারা দিন ধরে নানা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে অভিনন্দনকে। এর মধ্যে রয়েছে মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্ট (পিএটি), ডিব্রিফিং এবং বাগ স্ক্যানিং।

সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্টের মাধ্যমে অভিনন্দনের বর্তমান মানসিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়া থেকে শুরু করে পর পর যে ঘটনাগুলো তার সঙ্গে ঘটেছে তাতে কতটা বিপর্যস্ত রয়েছেন সেটাও পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি, ও রকম একটি পরিস্থিতি কী ভাবে সামলেছেন, তাকে পাকিস্তানে কোনও মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে কিনা সব কিছুই এই টেস্টের মধ্য দিয়ে জানার চেষ্টা করা হবে।

সাইকোলজিক্যাল অ্যানালিসিস টেস্ট হওয়ার পর পরবর্তী ধাপ ‘ডিব্রিফিং’। ভারতীয় বিমানবাহিনী সূত্রে জানানো হচ্ছে, পাকিস্তানে তার সঙ্গে কী কী করা হয়েছে সেটা সবিস্তারে শোনা হবে। শুধু তাই নয়, এখন থেকে ওই সব ঘটনা নিয়ে তিনি কী ভাবে এবং কতটা কথা বলবেন সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হোক বা পরিবারের সদস্য, এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কতটা বলবেন সেটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

এর পরের ধাপ ‘বাগ স্ক্যানিং’। শরীরে কোনও চিপ আটকে দিয়েছে কি না বা কোনও গোপন ক্যামেরা, বাগ স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে এ সবই চিহ্নিত করা হয়। এক জন বিমান বাহিনী অফিসার হিসেবে দেশের নিরাপত্তার খুঁটিনাটি তার সঙ্গে জড়িয়ে। দেশের নিরাপত্তার খাতিরেই অভিনন্দনের বাগ স্ক্যানিং করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কত দিন ধরে এই পরীক্ষাগুলো চলবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি বিমান বাহিনী। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.