নওগাঁয় চুনাপাথরের দেশের সর্ববৃহৎ খনির সন্ধান

নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে দেশের সর্ববৃহত্ চুনাপাথর খনির সন্ধান মিলেছে। স্থানটির ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটির তলদেশে এ খনিজ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৪-১৫ সালে বগুড়ার সান্তাহার, তিলকপুর, নওগাঁর বদলগাছী ও জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকায় জিএসবির এক ভূতাত্ত্বিক জরিপে বদলগাছীর তাজপুরে বড় চুনাপাথর খনির সন্ধান পাওয়া যায়। সে অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় এর খননকাজ। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল মাটির স্তর পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল দুপুরে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বদলগাছীর তাজপুরে বড় চুনাপাথর খনির সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নসরুল হামিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বদলগাছী উপজেলার তাজপুর গ্রামে ২ হাজার ২১৪ ফুট মাটির নিচে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে চুনাপাথরের এ খনির সন্ধান মিলেছে। এ খনি থেকে উত্পাদন সম্ভব হলে বাংলাদেশের কোনো সিমেন্ট কারখানাকে আর চুনাপাথর আমদানি করতে হবে না।

এর আগে ১৯৬৩ সালে জয়পুরহাটে চুনাপাথরের খনি আবিষ্কৃত হলেও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় তা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে অনেক প্রযুক্তি এসেছে। আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করে আবার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছি। আমরা চেষ্টা করছি, সেটাকে আবার পরীক্ষা করে দেখার জন্য।

বদলগাছীর খনিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দেড়-দুই বছর লাগতে পারে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, লাভজনক বিবেচিত হলে এর পর বাণিজ্যিক উত্তোলনের পদক্ষেপ নেবে সরকার।

তাজপুরে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ করে ৩০ সদস্যের একটি দল। সেখানে একটি কূপ খনন করে তিন থেকে চার মাস ধরে খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধান দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেন জিএসবির প্রধান প্রকৌশলী (ভূতাত্ত্বিক জরিপ) মাহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, তাজপুরে মূল্যবান খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে রিগ দিয়ে ২ হাজার ২১৪ ফুট গভীর কূপ খনন করা হয়।

চুনাপাথরের সন্ধান এলাকাবাসীর জন্যও সুসংবাদ বলে জানান বদলগাছী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা অলি আহম্মেদ চৌধুরী। একই সঙ্গে এ খনিজ সম্পদ উত্তোলন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যে ক্ষতি হবে তা যেন পুষিয়ে দেয়া হয়, সে দাবিও করেন তিনি।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় নিয়েও গতকাল কথা বলেন বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। ‘ভারতে বিদ্যুত্ ও জ্বালানির বাজার উন্নয়ন : আমাদের শিক্ষা’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, তেলের দাম নির্ধারণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যে পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে, বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি কাজে লাগানো হবে।

তেলের দাম কমানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উচ্চ মহলের পরামর্শ নিয়েই জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে প্রস্তাব আমরা সরকারের কথা অনুযায়ী পাঠিয়েছি, শিগগিরই তা অনুমোদন হবে। তাই কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

সরকারের একটি পক্ষ জ্বালানি তেলের দাম না কমানোর পক্ষে আছে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সে বিষয়টা আমাদের কাছে এত স্পষ্ট নয়, এটা ঠিক না বলে মনে হচ্ছে। সরকারের অনুমতিসাপেক্ষেই তো আমরা আরো উচ্চ মহলে পাঠিয়েছি।’

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুত্ আমদানি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ভুটান থেকে বিদ্যুত্ আমদানির বিষয়ে বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে। আঞ্চলিকভাবে ত্রিদেশীয় একটি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টিতে সমাধানে পৌঁছাতে চাইছি। কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ভালো ফল আমরা দেখতে পাব।

নৌযান শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘটের কারণে জাহাজে তেল পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, মালিকপক্ষের এ বিষয়টা দেখা দরকার। দ্রুত শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিষয়ে মালিকপক্ষকে উদ্যোগী হওয়ারও আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.