নভেম্বরের মঙ্গলবারেই কেন যুক্তরাষ্ট্রে ভোট হয়?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার। শুধু যে এবারের নির্বাচনই মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা কিন্তু নয়, প্রায় দেড়শ বছর ধরেই নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কিন্তু কেন?
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদিবস। এদিন ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হলে তো নাগরিকদের ভোট দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা। হয়ও তাই। অফিস খোলার আগ মুহূর্তগুলোয় প্রচণ্ড ভিড় হয় বুথগুলোয়। তেমনই চাপ পড়ে অফিস শেষের সময়ে।
এত অসুবিধার মধ্যেও তবু কেন মার্কিন মুলুকে ভোট মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়? এর উত্তর জানতে আমাদের বেশ পেছনে ফিরে যেতে হবে, যখন আমেরিকা মূলত ছিল কৃষিভিত্তিক সমাজ। আর সেই সমাজের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কর্মদিবসে ভোটগ্রহণের প্রথা চালু হয় সেখানে।
কখন শুরু হয়েছিল এ প্রথা
১৮৪৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু হয়। ১৮৭৫ সালে মার্কিন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচনেও একই দিন ধার্য করা হয়। আর ১৯১৪ সালে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সিনেট নির্বাচনের বিধান চালু হওয়ার পর সে নির্বাচনও মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম চালু করা হয়।
কেন মঙ্গলবার এবং নভেম্বরে
যতই অবিশ্বাস্য মনে হোক না কেন, নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই নভেম্বর ও মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের মাস ও দিন নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি বুঝতে হলে ঊনিশ শতকের আমেরিকাকে জানতে হবে। অধিকাংশ আমেরিকানই সেসময় ছিলেন কৃষিজীবী, নিবেদিত খ্রিস্টান। ভোট দেয়ার জন্য তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাউন্টিতে পৌঁছতে হতো। আর সে সময়ের রাস্তাঘাট নিশ্চয়ই এখনকার আমেরিকার মতো আধুনিক ছিল না।
নির্বাচনের দিন হিসেবে রোববারকে বাদ দেয়া হয়েছিল, কারণ রোববার প্রার্থনার জন্য সবাই গির্জায় যেত। পরের দিনও বাদ দেয়া হয়েছিল, কারণ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে লম্বা পথ পাড়ি দিতে হতো।
আর কেন নভেম্বর? কারণ, বসন্ত ছিল ফসল বোনার সময়, গ্রীষ্ম ছিল মাঠে কাজ করার সময়। নভেম্বর আসতেই ফসল ঘরে তোলার কাজ শেষ হয়ে যেত। আর এ সময়ে গোটা দেশের আবহাওয়া ছিল শান্ত ও ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
কিন্তু কেন প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবার
মার্কিন আইনপ্রণেতারা নভেম্বরের প্রথম দিনটি বাদ দিয়েছিলেন মূলত তিনটি কারণে— ধর্মীয়, ব্যবসায়িক এবং অবশ্যই রাজনৈতিক।
পহেলা নভেম্বর হচ্ছে ‘অল সেইন্টস ডে’, রোমান ক্যাথলিকদের জন্য পবিত্র এক দিন। গোঁড়া খ্রিস্টান ও প্রোটেস্ট্যান্টরাও দিনটি উদযাপন করত।
অধিকাংশ ব্যবসায়ী নভেম্বরের প্রথম দিনটিতে আগের মাসের হিসাবের জের টেনে নতুন মাসের হিসাব নথিভুক্ত করতেই দিনটি পার করতেন।
পূর্ববর্তী মাসের অর্থনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতা যেন ভোটে কোনো প্রভাব না ফেলে সে বিষয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন থাকতেন কংগ্রেসের সদস্যরা। এ কারণে নভেম্বরের শুরুতেই ভোট অনুষ্ঠিত হোক তা তারা চাইতেন না।
কেউ কি দিন-তারিখ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন?
হ্যাঁ, ‘হোয়াই টিউজডে’ নামে একটি সংগঠন নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। গ্রুপের যুক্তি হচ্ছে, মঙ্গলবার কর্মদিবস হওয়ায় অনেক নাগরিকই ভোট দিতে যেতে পারে না। এজন্য অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দানের হার বেশ কম। এ দলে কিছু কংগ্রেস সদস্যও রয়েছেন। কিন্তু বহু আবেদন-নিবেদনের পরও ঐতিহ্য অনুযায়ী নভেম্বরের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
তবে হ্যাঁ, আগাম ভোট প্রদানের সুবিধার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকই নির্দিষ্ট দিনের আগেই ভোট দিতে পারছেন। আশা করা হচ্ছে এ নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার ৮ নভেম্বরের আগেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সূত্র: গার্ডিয়ান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.