নষ্ট করার মতো সময়টুকুও জরুরি, বলছেন মনোবিদরা

পৃথিবীর যত সফল ব্যক্তি, তাঁদের জীবন-কথা পড়লে একটা ব্যপার আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সময়ের সদ্ব্যবহার এদের আলাদা করেছে আর পাঁচটা মানুষের থেকে। তবে এই সময়কে ঠিক ভাবে কাজে লাগানোর সংজ্ঞাটা তো আপেক্ষিক। নিউটন মাধ্যাকর্ষণের ধারণা আবিষ্কার না করলে তাঁর আপেল গাছের নীচে বসে থাকাকেও কি যথার্থ সময় কাটানো হিসেবে মনে রাখত পৃথিবী? হয়তো না। তবে সাম্প্রতিক কালের কিছু গবেষণা বলছে, ভালো থাকার জন্য সময় নষ্ট করা খুব দরকার।

সভ্যতা যত এগিয়েছে, দ্রুত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি আমি, আপনি, আমরা সবাই। শেষ কবে অফিসের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন অথবা কাজ ফেলে উঠে গিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় অকারণে হেঁটে গেছেন, কিংবা চারদিক থেকে জড়ো হয়ে আসা দুশ্চিন্তা ঠেলে প্রিয় বইকে সঙ্গী করে গা এলিয়ে দিয়েছেন বিছানায়? মনে পড়ছে না নিশ্চই? নামী দামি মানুষেরা কিন্তু বলছেন, এসবই ছিল আপনার জীবনের সুখের সময়।

লেখক মার্লিন ম্যান একবার একটি ফরমায়েশি লেখা লিখতে লিখতে বছর দুয়েক পর খেয়াল করলেন কাজের চাপে নিজের মেয়ের মুখটুকু পর্যন্ত ভালো করে দেখতে পারেননি লম্বা সময়। অতএব বই লেখার কাজ বন্ধ করলেন। লেখক সুজুং কিম পান তাঁর লেখায় একাধিকবার উল্লেখ করেছেন ডারউইন, চার্লস ডিকেন্স, গার্সিয়া মার্কোয়েজের মতো মানুষ দিনে কখনও ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতেন না। সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে আমরা সবাই কর্মক্ষেত্রে দরকারের চেয়ে বেশি সময় কাটাই। আর সময়ের সাথে তাল রাখতে গিয়ে নিজের ভালো লাগার কাজে সময় প্রায় দিই না বললেই চলে।

মনোবিদ মাইকেল গাটরিজ ব্যাখ্যা করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার নিয়ে ডেস্কে বসে আমরা যেমন মনকে ভালো রাখতে পারিনা, তেমনি আমাদের কর্মক্ষমতাও নষ্ট হয়। গাটরিজ তাঁর গবেষণাপত্রে এও দেখিয়েছেন, একটানা ডেস্কে কাজ করতে করতে অবসাদ আমাদের গ্রাস করে, আর তা থেকে বেরোনোর জন্য আমরা বেছে নিই সোশ্যাল মিডিয়া, যা আসলে মনকে সতেজ করার পরিবর্তে অবসাদ বাড়িয়ে দেয়। গাটরিজের নিজের দেখা এমন অনেক সংস্থার  সিইও রয়েছেন, যারা সময় বাঁচাতে সিনেমাও দেখেন ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে। অথচ এভাবে সিনেমা দেখে সে সময়টুকুও ভালো কাটে না আসলে। আর যেটুকু সময় বাঁচল, তাও ভালো ভাবে কাজে লাগানো যায় না। আরাম করে বসে নিজের পছন্দের টিভি সিরিজ বারবার দেখার মধ্যেও রয়েছে আনন্দ। যার জন্য এত কিছু, সেই বেঁচে থাকাটা একটু সুন্দর করতে, সহজ করতে ‘কোয়ালিটি টাইম’ খুঁজে বার করুন। নিজের খুশি মতো সময় কাটান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.