নারী বিজ্ঞানীদের অমূল্য ১০ আবিষ্কার

একটা সময় ছিল যখন কোনো নারী বিজ্ঞানী কিছু আবিষ্কার করলে তাকে সেটা প্রমাণ করতে হতো অজস্র তর্ক-বিতর্ক-সাক্ষ্য নিয়ে। কারণ ভাবনাটা ছিল এমন, একজন মেয়ে আবার কী করে বিজ্ঞানী হয়! সময়ের পরিক্রমায় সেসব দিন আজ বদলেছে। অনেক নারীর এমন সব আবিষ্কার আছে, যেগুলো আমরা নিত্য ব্যবহার করে চলেছি, তবে তা হয়তো আমরা জানিই না! চলুন দেখে নেই এমন দশটি আবিষ্কারের পেছনের মানুষদের।

১। সিসি টিভি
যে সিসি টিভি ক্যামেরা এখন বিশ্বজুড়েই নিরাপত্তার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস, সেটি আবিস্কার করেছেন ম্যারি ভ্যান ব্রিটান ব্রাউন নামের একজন নারী। ১৯৬৯ সালে তিনি এর প্যাটেন্ট লাভ করেন। তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন পাওয়া যাবে তার আবিষ্কারটির প্রধান উদ্দেশ্য খুঁজলে। সবার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন ব্রাউন!

২। দ্য ফায়ার স্কেপ
শুধু “আগুন আগুন, বাঁচাও বাঁচাও” বলে চিৎকার না করেও যে নিজে থেকেই আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় যে ডিভাইসের মাধ্যমে, সেই ফায়ার স্কেপ ১৮৮৭ সালে আবিষ্কার করেন অ্যানা কোন্নেলি নামক একজন নারী।

৩। আইসক্রিম মেকার
আইসক্রিমপ্রেমীদের কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য ন্যান্সি জনসনের। তিনি ১৮৪৩ সালে আইসক্রিম মেকার আবিষ্কার করে। বর্তমান যুগে ইলেক্ট্রিক আইসমেকার থাকলেও অনেক জায়গাতেই এখনো ন্যান্সির সেই আইসক্রিমফ্রিজার ব্যবহৃত হয়। ধন্যবাদ ন্যান্সি!

৪। আধুনিক বিদ্যুতচালিত রেফ্রিজারেটর
১৯১৪ সালে ফ্লোরেন্স পারিপার্ট নামের এক নারী আবিষ্কার করেন এই দুনিয়া ব্যাপি বহুল ব্যবহৃত দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য এই যন্ত্রটি। এমনকি ১৯০০ সালের দিকে তিনি রাস্তা পরিষ্কার যন্ত্র নির্মাণের একটি প্যাটেন্টও লাভ করেন যা পরবর্তীতে বাজারজাত করতে সক্ষম হন।

৫। ইনজেকশন সিরিঞ্জ
‘নাহ নাহ বাবা,আমি ইনজেকশন দিব না’- এই কথাটি না জানি আমরা কতবার বলেছি ছোটবেলায় শুধুমাত্র এই সিরিঞ্জের ভয়ে। তবে এই সিরিঞ্জ কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্যে একটি বিস্ময়কর আশীর্বাদ। ১৮৯৯ সালে লেটিটা গির নামের একজন নারী আবিষ্কার করেন এমন একটি সিরিঞ্জ যা কেবল মাত্র এক হাত দিয়েই ব্যবহার করা যায়।

৬। মনোপলি
পৃথিবী বিখ্যাত এই পারিবারিক খেলাটির আবিষ্কারক কিন্তু একজন নারী । ১৯০৪ সালে এলিজাবেথ ম্যাগি নামক এক ভদ্রমহিলা এই খেলাটি আবিষ্কার করেন যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘দ্যা ল্যান্ডলর্ড গেইম’। ম্যাগির এই গেইমের আবিষ্কার ছিল ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধে একটি নিজস্ব প্রতিবাদ, যা পূর্ণ মাত্রা পায় আরো ৩০ বছর পর যখন চারলেস ড্যারো নামক এক ভদ্রলোক এটিকে পার্কার ব্রাদার্স নামের একটি ফার্মের কাছে বিক্রি করে দেয়। যদিও পরবর্তীতে ম্যাগিকে ফার্ম থেকে ৫০০ ডলার দেওয়া হয় তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ।

৭। তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা
হ্যাডি লামার দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে এমন এক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবিষ্কার করেন, যাতে কোনো তারের প্রয়োজন পড়বে না এবং সরাসরি ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। তিনি গোপনে যুদ্ধকালীন সময়ে যোগাযোগের জন্যেই এই যন্ত্র আবিষ্কার করেন। আজকের ওয়াইফাই থেকে জিপিএস, সব কিছুর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এই আবিষ্কারের মধ্য দিয়েই। হ্যাডি লামার তৎকালীন সময়ের অনেক বড় সিনেমাতারকা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সবখানে।

৮। কম্পিউটার সফটওয়্যার
ইউএস নেভির এডমাইরাল ড. গ্রেস মুর‍্যে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীও ছিলেন, যেটি সে সময়কার প্রেক্ষিতে বিরল। তিনিই সর্বপ্রথম ইউজারফ্রেন্ডলি কম্পিউটার সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বানিয়েছিলেন। এমনকি কম্পিউটারের সিস্টেমে ‘বাগ’ বা ত্রুটিও ধরতে পেরেছিলেন সবার আগে।

৯। লাইফ বোট
১৮৮২ সালের একদিনে মারিয়া ব্যেইসলি সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠেছিলেন, ‘শুধুমাত্র পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে মানুষের ডুবে মরা বন্ধ হওয়া উচিৎ।’ পরবর্তীতে তিনিই লাইফ বোট আবিষ্কার করেন, যা নিঃসন্দেহে অনেক মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে বহু বার।

১০। পেপার ব্যাগ মেশিন
মার্গারেট নাইট এমন একটি মেশিন আবিষ্কার করেছিলেন যেটির মাধ্যমে পেপার ব্যাগ বানানো যায়। কিন্তু এটি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে তাঁকে চার্লস অ্যানান নামক একজন বিজ্ঞানীর সাথে যুদ্ধ করতে হয়, যিনি মার্গারেটের এই আবিষ্কারকে নিজের বলে চালিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। বিস্ময়কর হলেও সত্যি চার্লসের অন্যতম যুক্তি ছিল একজন মেয়ে আবার কী করে কোনো কিছু আবিষ্কার করতে পারে! ইতিহাস অবশ্য চার্লস নামক এই তথাকথিত বিজ্ঞানীকে মনে রাখেনি, মনে রেখেছে মার্গারেট নাইটকে। তিনি এর প্যাটেন্ট লাভ করেন ১৮৭১ সালে।

Source:bbarta24.net

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.