নির্ঘুম ছাপাখানা, ব্যস্ত প্রকাশকপল্লী

দরজায় কড়া নাড়ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলায় অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন শ’ প্রকাশনা সংস্থা।

পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ শেষ হয়েছে আগেই। দিন-রাত ব্যস্ত ছাপাকর্মীরা। কাজ করছেন নতুন বই ছাপানোর। শুধু ছাপাই নয়, বই বাঁধাইয়েও চলছে সমান ব্যস্ততা। প্রকাশকরা বলছেন এবারের মেলায় পুরোনোদের পাশাপাশি নতুন লেখকদের বইও আশাব্যঞ্জক। গবেষণামূলক বইয়ের প্রতি বিশেষ আগ্রহের কথা জানালেন তারা। প্রকাশকরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন মেলার শুরুতেই নতুন বই নিয়ে আসার। এক মাসের জন্য বছরব্যাপীর প্রস্তুতির এখন শেষ বেলা।

মেলার শুরু থেকেই পাঠককে নতুন বই দিতে তৎপর প্রকাশকেরা। ছাপা-বাঁধাই নিয়ে ব্যস্ত পুরান ঢাকার বাংলাবাজারের শ্রমিকেরা। সময়মত পাঠককে নতুন বই দেয়ার ব্যস্ততায় গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সম্পাদনা, শেষ মুহূর্তের অলঙ্করণের কাজ। অনেকটা নির্ঘুম সময় কাটছে ছাপা শ্রমিক-প্রকাশকদের। ছাপাখানা আর বাধাইঘরে গিয়ে তাড়া দিচ্ছেন তারা।

ছাপাখানাগুলোর ব্যস্ততাই বলে দিচ্ছে ‘বইমেলা’ আসছে। আবারও বসবে মিলনমেলা। বই ছাপার কাজ প্রসঙ্গে বাবুই প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী ছড়াকার কাদের বাবু জানালেন, এবারের মেলায় ৩৫টি নতুন বই প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাবুই। এর মধ্যে ৩০টির ছাপা শেষ। বাকি বইগুলোর ১০-১৫ শতাংশ কাজ বাকি। মেলার প্রথম দিনেই নতুন বইয়ের পসরা নিয়ে মেলায় হাজির থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এই ছাড়াকার। বললেন, আমাদের প্রকাশনা থেকে এবার শিশুদের গঠনমূলক, মনোরঞ্জন, শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়কেই সবিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনুবাদ গল্প ও কিশোর উপন্যাস তো থাকছেই। ক্ষুদে পাঠকের সামনে নতুন আঙ্গিকে বহুলপঠিত গোপাল ভাঁড় ও বীরবলকে হাজির করছেন বলেও জানালেন বাবুই’র প্রকাশক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, আগামী বইমেলা থেকে ই-বুক প্রকাশ করবে তার প্রকাশনা সংস্থা। ইতিমধ্যেই ওয়েবসাইটের কাজ শেষ হয়েছে।

অ্যাডর্ন পাবলিকেশন স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জাকির হোসাইন জানালেন, এবারের বইমেলায় ৪০টির ওপর নতুন বই প্রকাশ করছেন। প্রকাশিতব্য বইয়ের মধ্যে গবেষণাধর্মী বই বেশি থাকছে। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের ২১টি ছোট গল্প নিয়ে একটি চমৎকার বই উপহার দিতে যাচ্ছে অ্যাডর্ন।

জাকির হোসাইন বলেন, আমরা সারা বছর বই প্রকাশ করে থাকি। সেসব বই নিয়েই প্রথম দিন মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছি। নতুন বই আসতে সপ্তাহখানেক সময় লেগে যাবে। এখন দারুণ ব্যস্ত।

অন্বেষা প্রকাশনের প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, কিছু বই ছাপানোর কাজ এখনও চলছে। বাইন্ডিং-এ চলে এসেছে কিছু বই। আমরা প্রথম সপ্তাহে ২০ -২৫টি বই মেলায় দিতে পারবো। আর পর্যায়ক্রমে যাবে আরও কিছু বই।

নতুন প্রজন্মের চাহিদা এবং নতুন লেখক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন লেখকের বইয়ের একটা আলাদা আবেদন থাকে, তাই নতুন লেখকদের আমরা সুযোগ দিয়ে থাকি।

পার্ল পাবলিকেশন্স প্রকাশক হাসান জাইদি বলেন, মেলা উপলক্ষে প্রেস বা বাইন্ডিং কারখানায় যারা কাজ করে তারা রাত-দিন কাজ করছে। এত চাপ যে আমি এ নিশ্চয়তা দিতে পারছি না যে মেলার প্রথম দিনই সব বইয়ের কাজ শেষ হবে।

সৌজন্যে: পালবাদল ডট নেট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.