নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫০

ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নেপালে বিধ্বস্ত হয়েছে৷ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে৷ নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই নিয়মিত খবর পরিবেশন করে এলেও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিল না৷ তবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছিল আহতদের মধ্যে অনেকেই হয়ত প্রাণ হারাবেন৷ বার্তা সংস্থা এএফপি অবশেষে এক সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, মোট ৭১ জন আরোহীর বিমানটির কমপক্ষে ২৭ জন মারা গেছেন৷
এপি জানাচ্ছে, নিহত ৩৮ জন এবং আহত হয়েছেন ২৩ জন৷ বাকি ১০ জনের খবর এখনো জানা যায়নি৷
তবে এক সেনা মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷
এর আগে সোমবার এ দুর্ঘটনার পর ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইউএস-বাংলার জনসংযোগ শাখার জিএম কামরুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে কাঠমন্ডুগামী একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ার খবরটি তাঁরা জানতে পেরেছেন৷ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা৷
তবে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়ে৷ বিমানে আগুন লেগে যায়৷ তখন পর্যন্ত ২০ জন আহতকে হাসপাতালে নেয়ার খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছিল এএফপি৷
পরবর্তীতে নেপাল সরকারের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ দুয়াদি এএফপিকে জানান, বিমানের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অংশ থেকে তাঁরা মৃতদেহও উদ্ধার করেছেন৷ তবে কয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করেননি৷
এদিকে এপি-কে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিকে তিনি খুব কম উচ্চতায় উড়তে দেখেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিমানটি এত নীচ দিয়ে উড়ছিল যে আমার মনে হয়েছিল এক্ষুণি বুঝি পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা খাবে৷ তারপর হঠাৎই প্রথমে একবার এবং তারপর আরেকবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই৷’’
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের উদ্ধারকর্মী এবং দমকলকর্মীরা ছুটে আসেন৷ এরপর ধোঁয়ায় ঢাকা বিমান থেকে আহত যাত্রীদের বের করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু হয়৷
কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে এর আগেও অবতরণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে৷ ২০১২ সালে এক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন৷ এছাড়া ২০১৬ সালে বিমান পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হলে ২৩ জন মারা যায়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.