পশ্চিমবঙ্গ এখন থেকে ‘বাংলা’

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব পাস হয়ে গেল রাজ্যটির বিধানসভায়। এখন থেকে আর ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নয়, রাজ্যের নাম হচ্ছে ‘বাংলা’।

সোমবার বিধানসভায় ‘বাংলা’ নামের পক্ষে ১৮৯-৩১ ভোট পড়ে। বাংলায় রাজ্যের নাম হবে ‘বাংলা’, হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ এবং ইরেজিতে হচ্ছে ‘বেঙ্গল’। তবে এদিন রাজ্যের নাম বদল নিয়ে কংগ্রেস, সিপিআইএম, বিজেপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির জোরদার সোচ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই আর ধোপে টেকেনি।

এদিন বিধানসভায় নাম বদলের প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন বলেও মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যারা নাম বদলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু যারা নাম বদলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেন তাদের জন্য আমার কোনো দুঃখ নেই। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

রাজ্যের নাম বদল নিয়ে এদিন বিরোধীদের কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও ‘বাংলা’ নামের জন্য সওয়াল করেছিলেন। তাই, বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করা হয়েছে। মানুষের স্বার্থের জন্য নাম বদল করাকে বিরোধীদের সমর্থন করা উচিত। তবে বিরোধিতা করলেও কিছু যায় আসে না। কেন্দ্রীয় সরকারকে বলব তারা যাতে এব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব শুধু রাজ্য বিধানসভায় পাশ হলেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যের নতুন নাম বদলের এই প্রস্তাব খুব শিগগিরই কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে তা পাঠানো হয় চূড়ান্ত সিলমোহরের জন্য।

রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করলে তবেই নাম বদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং’এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মমতা।

প্রসঙ্গত ইংরেজিতে ওয়েস্টবেঙ্গলের প্রথম অক্ষর ডব্লিউ থাকায় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা আলোচনাচক্রে রাজ্যের প্রতিনিধির ডাক আসে একেবারে শেষে। ফলে জাতীয় স্তরের সেই আলোচনায় রাজ্যটির প্রতিনিধিরা কার্যত বিশেষ কিছুই বলার সুযোগ পান না, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সভাঘর সেসময় প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। নয় তো অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে বাংলার প্রতিনিধিদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। ধৈর্য্য হারিয়ে যায় রাজ্যের প্রতিনিধিদেরও। সেই থেকেই রাজ্যের নাম বদলের জন্য উদ্যোগ নেয়া শুরু করে তৃণমূলের সরকার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.