পায়রায় পণ্যখালাস শুরু ১৩ আগস্ট

দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রার বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস কার্যক্রম আগামী ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এর প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার অর্ধ লক্ষাধিক টন পাথর নিয়ে প্রথম জাহাজ নোঙ্গর ফেলেছে। তবে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে লাইটারিং শুরু করা যায়নি।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান পণ্য খালাস কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। একটি চীনা জাহাজ ৫৩,৩০০ টন পাথর নিয়ে গতকাল বিকেলে বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছে। সেখান থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রস্তুত ছিল লাইটার জাহাজ। কিন্তু যথাসময়ে জাহাজ না পৌঁছা এবং দুর্যোগময় আবহাওয়ার কারণে সেগুলো ফিরে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. রেজাউল কবির জানান, পায়রার বহির্নোঙ্গরের সাথে এখনও তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। তাছাড়া, এলাকাটি মুঠোফোন নেটওয়ার্কেরও বাইরে। তাই প্রথম জাহাজটি ঠিক কখন পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব আরও জানান, বন্দরে দ্বিতীয় জাহাজটি নোঙ্গর ফেলবে আগামী মঙ্গলবার। মালয়েশিয়া থেকে ২৩,০০০ টন পাথর নিয়ে আসছে জাহাজটি। এরপরের জাহাজটি ১৩ আগস্ট পৌঁছার কর্মসূচি রয়েছে।

এমভি ফরচুন বার্ড থেকে পণ্য খালাসের জন্য লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সোমবার ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতে সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় লাইটারগুলো নিরাপদ এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। দুর্যোগময় আবহাওয়া কেটে যাওয়ার পর লাইটারিং শুরু করা হবে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ বন্দর ব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশ সময়সাপেক্ষ। স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে ২৩০১৮ সালে পরিপূর্ণ বন্দর চালুর জন্য। আপাতত বহির্নোঙ্গরে নিয়ে আসা হচ্ছে বাল্ক পণ্যবাহী জাহাজ। সেখানে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য লাইটারিং করা হবে ছোট জাহাজে। এর জন্য বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করতে হয় জাহাজ চলাচলে। কিন্তু এখানে সেই সমস্যা নেই। তাই রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা এই বন্দরে জাহাজ চলাচল করতে পারবে।

দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে বন্দর সুবিধার চাহিদা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ বছরে। ২০১৮ সালে কেবল কয়লার চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন। ২০২৪ সালে তা হবে ৪ কোটি ৫০ লাখ টন। তাই আমদানি-রপ্তানি সামাল দেয়ার জন্য দেশে তৃতীয় একটি সমুদ্র বন্দর স্থাপনের বিষয় গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলাপাড়ায় এক জনসভায় সেখানে তৃতীয় সমুদ্র বন্দর তৈরির ব্যাপারে ঘোষণা দেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৪তম সভায় পটুয়াখালীতে সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.