পিতার ভালোবাসা ভূমিকা রাখে ভালো ফলাফলে

মা-বাবার ভালোবাসা যেকোনো সন্তানের জন্যই সবিশেষ। এক্ষেত্রে পিতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের উষ্ণতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রেও রয়েছে এ সম্পর্কের সরাসরি প্রভাব। কন্যার গণিত পারদর্শিতা কিংবা পুত্রের ভাষা-দক্ষতায় পিতার ভালোবাসা রাখে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর সায়েন্স ডেইলি।

দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি আশাবাদী মনস্তত্ত্ব নির্মাণে মা-বাবার সন্তান বাত্সল্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত বড় কিছু অর্জনে পিতার স্নেহ ও ভালোবাসার রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। এর মাত্রা ঠিক কতটা বিস্তৃত, তা নিরূপণের লক্ষ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ড. ম্যারি-অ্যান সুইজ্জো একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জার্নালের প্রকাশক সংস্থা স্প্রিঙ্গার প্রকাশিত ‘সেক্স রোল’-এ সম্প্রতি এ-সম্পর্কিত গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে শৈশব ও কৈশোরে ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে পিতার স্নেহ ও ভালোবাসার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

সাধারণত মধ্যবিত্তের তুলনায় নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের স্কুল থেকে ছিটকে পড়ার হার বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে অর্থাভাব-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে মা-বাবার সহযোগিতা ও উদ্দীপনামূলক আচরণ সন্তানদের এসব বাধা অতিক্রমে সহায়তা করে। এখন পর্যন্ত এ-সম্পর্কিত অধিকাংশ গবেষণাই মা ও সন্তানের সম্পর্কের দিকে নজর রেখেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাবার ইতিবাচক মানসিকতার ভূমিকা কতটুকু, তা থেকে গেছে অন্ধকারেই। বিশেষত কিশোর-কিশোরীদের ওপর বাবার স্নেহ ও ভালোবাসার প্রভাব এখন পর্যন্ত অনির্ণীত।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি মাধ্যমিক স্কুলকে নমুনাক্ষেত্র হিসেবে নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। এসব স্কুলের নিম্নবিত্ত ও সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তানদের ওপর গবেষণাটি চালানো হয়। সিক্স গ্রেডের ১৮৩ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য। মূলত স্কুলের কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ, উদ্দীপনা ও আশাবাদী মনস্তত্ত্ব নিরূপণের পাশাপাশি বাবার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ধরনটি জানতে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলও সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা, আত্মনির্ভরশীলতা ও ভালো ফলাফলে বাবার ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ড. সুইজ্জো বলেন, পিতার নিম্নআয় সন্তানদের ভবিষ্যত্ বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। আর এটিই শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে তাদের আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। এ প্রভাব ছেলে-মেয়ে দুজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কন্যার ক্ষেত্রে পিতার ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটে তার আশাবাদ, আত্মবিশ্বাস ও সংকল্পের ক্ষেত্রে। আর এটিই তাদের গণিত পারদর্শিতার পেছনের কারণ। আর পুত্রের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি ভাষা-দক্ষতায়। এজন্য শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন স্কুলের পরামর্শকদের উচিত, শিক্ষার্থীদের বাবাকে তার সন্তানদের প্রতি আরো সদয় ও স্নেহশীল হতে পরামর্শ দেয়া। সৌজন্যে:  বণিক বার্তা |

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.