প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থমন্ত্রী সমতার বাজেট উল্লেখ করলেও সমতার জন্য কোন কোন খাত তা বাজেটে প্রতিফলতি হয়নি বলে মনে করেন তারা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বাস্তবতা এড়িয়ে বাজেটে অনেক অঙ্কই বড় করে দেখানো হচ্ছে। আবার নতুন মূসক আইন কার্যকর হলেও আগামী বাজেটের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কো?টি টাকার প্রস্তাবিত নতুন বাজেটের অর্থায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। পরিবহন খাতে বরাদ্দ বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহন খাত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা হচ্ছে জনকল্যাণমূলক খাত। এগুলোতে বরাদ্দ কমানো ঠিক নয়। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ভালো কর্মসূচির অর্থই খরচ হয় না প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে। ঘোষণা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে না পারলে বাজেটের অঙ্কের প্রতি মানুষের বিশ্বস্ততা কমে যাবে বলেও মনে করেন মির্জ্জা আজিজ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে যে কৌশল ধরা হয়েছে তা সংশয়পূর্ণ। তিনি বলেন, দুই শতাংশ বাড়তি আয় ও বাড়তি ব্যয় কোথায় হবে তা স্পষ্ট নয়। দেবপ্রিয় বলেন, যে কৌশলে এটি বাস্তবায়িত হবে এবং সেই কৌশলকে কার্যকর করার জন্য, দক্ষতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দরকার পড়ে, সেগুলোর ব্যাপারে উনার (অর্থমন্ত্রী) চিন্তাভাবনার যেটুকু দরকার সেখানে আমরা সংশয় প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে যে দুরবস্থা চলছে, যারা টাকা নিয়ে আমাদের টাকা শোধ দিল না, তাদের সেই লাভের টাকা পূরণ করার জন্য এখন ট্যাক্সের টাকা লোকসানে যেতে হবে। এবং তারপর আমাকে বলা হচ্ছে আরো ট্যাক্স দেয়ার জন্য। আমরা কেন সেই ট্যাক্স দেব? যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা ফেরত দিল না ব্যাংকের। তার টাকা পূরণ করার জন্য কেন আমরা বাড়তি ট্যাক্স দেব? এটাতেই কিন্তু সমস্যা হচ্ছে।
ভ্যাট নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ভ্যাট আইন কার্যকরের জন্য এক বছর পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি সঠিক হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আর এটার জন্য সরকার প্রস্তুত না ব্যবসায়ীরাও প্রস্তুত নয়। তবে সরকার এক বছরে স্থগিত করেছে। শুধু স্থগিত করলেই হবে না। এর সফল যেন সবাই পায় তার ব্যবস্থা থাকতে হবে এই আইনে।
এদিকে, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান বলেছেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে বড় বাজেট সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বাস্তবায়ন করাটাই হবে বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বরাবরের মতো অপ্রর্দশিত আয় নিয়ে একটা ফাঁক থেকেই যাচ্ছে। কখনোই এটা নিয়ে স্পষ্ট করা হচ্ছে না। তার মতে, যে টাকাটা বৈধ পথে অর্জন হয়েছে, তা কোনো না কোনোভাবে অডিট প্রতিবেদনে বাদ পড়ে গেছে। সেটা মূল অর্থনীতিতে আনতে পারলেই অর্থনীতি গতিশীল হতো। কিন্তু সেটা আনা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.