প্রেমের বিয়ে নাকি পারিবারিক বিয়ে

প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে, দাম্পত্য, সংসার। শব্দগুলো খুব ছোট ছোট হলেও এর তাৎপর্য অনেক। যেমন প্রেমে পড়লেন ভালোবাসলেন। অতঃপর বিয়ে করলেন সংসার পাতলেন, কিন্তু এখানেই কি শেষ? না এখানেই কিন্তু শেষ নয় বরং শুরু।

বিয়ে শুধু দু’টি মানুষের মধ্যে নয়, দু’টি পরিবারের মধ্যেও নতুন সম্পর্কের সূচনা করে৷ তাই নব দম্পতির অনেকটা সময় চলে যায় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হতে৷ নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের খবর নেয়ার তেমন সুযোগ পান না তারা৷ ফলে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতে পারে৷ কিন্তু বিয়ের আগে প্রেম বা বন্ধুত্ব থাকলে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে কম, দাম্পত্যজীবনও হয় মধুময়৷ আর পরবর্তীতে উপহার নির্বাচনেও অসুবিধা হয় না৷

আর দাম্পত্য সংসারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত হলো বিশ্বাস৷ বিশ্বাস ছাড়া কখনো সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়৷ আর বিয়ের আগে, অর্থাৎ মন দেয়া-নেয়ার সময় একে-অপরের প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ দেওয়া বা পাওয়ারও যথেষ্ট সুযোগ থাকে৷ সুযোগ থাকে অন্যজনের ভালো লাগা-মন্দ লাগা, চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানারও৷

তবে জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে সবাই একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নিয়ে সংসার পাততে চান। তবে বিয়ে মানুষের জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। সম্পর্কের শুরুর দিকে সবারই মনে হয় আমার সঙ্গী ঠিক আমার মতো, তার সঙ্গে আমার কত মিল! দুজন চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে করতে ভুলেই যান সম্পর্কের এক পর্যায়ে গিয়ে এই মানুষটিকেই মনে হতে পারে সম্পূর্ণ অচেনা।

 

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ১০০% ভাল। বিয়ের অনুষ্ঠানে সকল আত্মীয়-স্বজন থাকে এবং সমাজের সবার সাথে আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। ফলে পাছে লোকে কিছু বলে না। সবাই খুব আনন্দ করতে পারে। সবার দোয়া থাকে বিধায় এই বিয়ে চিরস্থায়ী থাকে এবং পরিবারে শান্তি-শৃংখলা পরিপূর্ণভাবে বজায় থাকে। পরিবারের সবার ভালবাসা অর্জন করা যায়। কোন রকম পারিবারিক সমস্যা হলে সকলের সহযোগিতা পাওয়া যায়। সর্বোপরি, সমাজে সম্মানের সাথে চলা যায়। যা কিছু ঝামেলা হোক না কেনো পরিবার দায় নেয়।

 

প্রেমের বিয়ে

প্রেমের বিয়ে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারো সমর্থন পাওয়া যায় না ফলে এই বিয়েটিতে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় না। মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু পালিয়ে বিয়ে কিংবা সবার অমতে প্রেম করে বিয়েটা সামাজিকতার মধ্যে পরে না। ফলে তারা সমাজের মানুষের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। আর সারাজীবন এই অভিশাপের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়। প্রেমের বিয়েতে পরিবারের কারো মত থাকে না বিধায় কোন দাম্পত্য সমস্যায় কারো কাছে থেকে তেমন কোন সাহায্য পাওয়া যায় না। নিজেদের কোনো বিপদ বা সমস্যার দায় পরিবারের কেউ নেয় না। যার কষ্ট অবর্ণনীয়।

অনেককেই বলতে শোনা যায় ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছে। কিন্তু কোর্ট ম্যারেজ সম্পর্কে না জানার কারণে পরবর্তী সময়ে অনেক ঝামেলাও পোহাতে হয়। আইনে কোর্ট ম্যারেজ বলে কোনো বিধান নেই। এটি একটি লোকমুখে প্রচলিত শব্দ। কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত হলফনামার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের ঘোষণা দেওয়াকেই বোঝানো হয়ে থাকে।

বিয়ের প্রথম শর্ত হচ্ছে ছেলেমেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮-এর ১ দিনের কম হলেও বয়স গোপন করে বিয়ে করলে মামলা-মোকদ্দমায় পড়ার আশঙ্কা থাকবে।

ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন কে না দেখে। তাই বলে স্বপ্নে একেবারে অন্ধ হয়ে গেলে হবে না। অনেক সময় ভালোবাসার মানুষটিই হয়ে যেতে পারে প্রতারক। মাঝে মাঝে দেখা যায়, বিয়ের নামে ভুয়া বিয়ের দলিল তৈরি করে মেয়েটির সঙ্গে কয়েক দিন স্বামী-স্ত্রীর মতো একান্ত সময় কাটিয়ে ছেলেটি সরে পড়ে। হয়ে পড়ে নিরুদ্দেশ। তখন মেয়েটি পড়ে যায় বিপদে। অনেক সময় মেয়েটি গর্ভবতীও হয়ে পড়ে। ফলাফল, বিয়ে প্রমাণ করতে না পেরে সইতে হয় অপমান-বঞ্চনা। তাই ভালোবাসায় আস্থা থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে হতে হবে একটু সচেতন।

অনেকের পরিবারই ভালোবাসাকে মেনে নেয়, আবার নেয় না। সেক্ষেত্রে তারা ভালোবাসার বিয়েকেও মানতে নারাজ। এমন অনেক পরিবারের সন্তানেরা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে পালিয়ে বিয়ে করে অনেকেই কিন্তু ভালো থাকেনা। কারণ বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেই তো আর সমাধান নয়, একে-অপরের বিয়ে করে থাকারও একটি বিষয় আছে। সবার মন-মানষিকতা একরকম নয়। তাই সবাই ম্যানেজ করার ক্ষমতাও এক নয়। তবে অবশ্যই যা করবেন তা অবশ্যই বুঝেশুনে করবেন। যেনো তা পরে সামাল দেয়া যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.