ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

টানা নয় দিনের ঈদের ছুটিতে যানজট আর জনজটের নগরী রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হয়ে পড়েছে। পথে পথে নেই চিরচেনা দুর্ভোগ, নেই পথচারীদের ভিড়।

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে রাজধানীর লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ছুটে যাওয়ায় বদলে গেছে ঢাকার চিরচেনা রূপ।

গণপরিবহন থেকে চালকের সহকারীদের গুলিস্তান, মহাখালী, মিরপুর, ফার্মগেট বলে চিৎকার করে হাঁকডাক নেই। রাজধানীর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিপণিবিতানগুলোতে রাজধানীবাসী শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করছেন।

যানজটখ্যাত এলাকা মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, পল্টন মোড়, শাহবাগ, বাংলামোটর, নিউ এলিফ্যান্ট রোড ফাঁকা। কোথাও নেই হুড়োহুড়ি করে বাসে ওঠার দৃশ্য। আর তাই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মানুষ পৌঁছে যাচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে।

যে বাসে তিল ধারণের জায়গা থাকত না সেখানে খালি বাস নিয়েই রওনা হতে হচ্ছে চালকদের। তবে যাত্রীদের ভাড়া একটু বেশিই গুনতে হচ্ছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি নগরজীবনে দুর্ভোগ বয়ে আনলেও ঘরমুখো মানুষের বেলায় তা বাধা হতে পারেনি। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আজও গন্তব্যে ছুটে চলছেন অগণিত মানুষ।

ট্রেন, বাস, লঞ্চ ছাড়াও প্রাইভেট কার, ট্রাক এমনকি শত শত মোটরসাইকেলে শহর ছেড়েছে অনেকে। মাটির মায়ায় ঢাকাবাসীর এই ঘরে ফেরায় কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে তিলোত্তমা ঢাকা।

সদরঘাটে কথা হয় সরকারি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির পারভেজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেশের (গ্রামের) বাড়ি চাঁদপুরে যাওয়ার উদ্দেশে লঞ্চঘাটে অপেক্ষা করছি। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঈদ করতে পারব, এটা ভেবেই মনে অনেক শান্তি লাগছে। ঈদের সময় বাড়িতে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর পর যখন পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।’

ঢাকার মগবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘দুই ঈদের সময় ঢাকা শহর চেনাই যায় না। মনে হয় অন্য রকম এক নগরী। তবে এই সময়টা আমাদের একটু আরামে কাটে। রাস্তাঘাটসহ সবকিছু ফাঁকা থাকে।’

তিনি জানান, এ সময় ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটু আরামে চলাফেরা করা যায়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ রকম ফাঁকা আর বেশি দিন থাকবে না। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরবে মানুষ। তখন পুরোনো চেহারা আবার ফিরে পাবে ঢাকা।

এদিকে ঈদে ফাঁকা ঢাকার বাসিন্দাদের বাসাবাড়িতে চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যাতে বাড়ি থেকে ফিরে কোনো নাগরিককে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.