বইয়ের কলেজ স্ট্রিট

শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতা বইমেলা৷ ব্যস্ত কলেজ স্ট্রিট পাড়াও৷ কলকাতার বইয়ের আঁতুড়ঘর৷ ছোটবড় প্রায় সমস্ত প্রকাশনার দফতরই এখানে৷ যে পাড়ার রাস্তাঘাটেও ছড়িয়ে থাকে বই৷ বই নিয়ে আড্ডা হয় কফি হাউসে৷ হেঁটে দেখা যাক সেই পাড়া৷ পড়ুন ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন।

কলেজ স্ট্রিটকে বলা যেতে পারে শিক্ষাসংস্কৃতির সূতিকাগার৷ বাংলা ভাষায় বই প্রকাশের প্রধানতম কেন্দ্র এটিই৷ বই কেনাবেচারও৷ প্রতিদিন নতুন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে, প্রকাশনার খুঁটিনাটির পরিকল্পনা হচ্ছে এখানে বসেই৷ অল্প দূরেই ছাপাখানা, কাগজের পসরা, সবই কলেজ স্ট্রিটকে ঘিরে৷ স্কুলকলেজের পাঠ্যবইয়ের কেজো দুনিয়াদারি যেমন এখানে, পাশাপাশি রচিত হচ্ছে সাহিত্যের উজ্জ্বল মণিমুক্তোও৷

হঠাৎ কোনো হারিয়ে-যাওয়া ফুরিয়ে-যাওয়া বইয়ের খোঁজ মিলে যাবে এখানে৷ কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথে বা প্রেসিডেন্সির রেলিঙে৷ গুপ্তধন পাওয়ার উল্লাসের সঙ্গে মিশে যাবে স্মৃতির বিলাস বা বেদনা৷

চল্লিশের দশকে দে বুক স্টল নামে ছোট বইয়ের দোকান হিসেবে পথ চলা শুরু৷ ১৯৭০ সালে শুরু হয় তাদের প্রকাশনাসংস্থা দে’জ পাবলিশার্স৷ প্রায় পঞ্চাশ বছর কাটিয়ে এখন তাদের প্রকাশনা দপ্তর ও বইয়ের দোকান বিশাল আকার নিয়েছে৷ প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা কত হিসেব করা কঠিন৷ এখন তারা পশ্চিমবঙ্গের অগ্রনী প্রকাশক৷

১০৮ বছর আগে প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের তিন ছাত্র ‘চক্রবর্তী, চ্যাটার্জি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন৷ কলেজ স্ট্রিটের ওপরে দু’টি তলা নিয়ে দোকানটি অবস্থিত৷ নীচের তলায় পাঠ্যপুস্তক ও ওপরের তলায় বাকি নানা ধরনের বই৷ বর্তমান মালিকেরা ১৯৭১-এ অধিকাংশ শেয়ার কিনে এর মালিকানা পান৷ ১৯৭৩ থেকে তাঁরা নিয়মিত নানা ধরনের বই প্রকাশ করে আসছে৷

বেঙ্গল পাবলিশার্স প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত সাহিত্যিক মনোজ বসু৷ তাঁর রচিত অনেক বইই প্রকাশিত হয়েছিল এই প্রকাশনী থেকে, তার মধ্যে আছে ‘নিশিকুটুম্ব’৷ এ ছাড়াও বাংলা সাহিত্যের অনেক বিখ্যাত লেখকের ও নানা ধরনের বই এঁরা প্রকাশ করেছেন, যেমন ‘সুন্দরবন অমনিবাস’, ‘জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ’৷ ইদানীং তাঁদের প্রকাশনায় ভাটার টান, গত দু’বছর ধরে তাঁরা নতুন বই প্রকাশ করছেন না, বইমেলাতেও থাকছেন না৷

বইপাড়ার ঠিক মাঝখানে কফিহাউস৷ তাকে বলা যাবে না নিছক রেস্তোরাঁ, যদিও খাবার পাওয়া যায়৷ মূলত কফিতে চুমুক দিয়েই চলে এখানকার আড্ডা গল্প আর তা থেকে ছলকে ওঠে সাহিত্যশিল্পের দ্যুতি৷ কে না এসেছেন এখানে! শঙ্খ ঘোষ থেকে শুরু করে কৃত্তিবাসের কান্ডারীরা, নকশাল আন্দোলনের ছোটোবড়ো কর্মীরা, লিটল ম্যাগাজিনের স্বপ্নপাগল ছেলেমেয়েরা৷ এসেছেন, এখনও আসেন। কফিহাউস শিল্পসাহিত্য ভাবাই যায় না!

বই পাঠকের কাছে পৌঁছনোর আগে থাকে লম্বা এক প্রস্তুতিপর্ব, তারই শেষ পর্যায়ে থাকে থাকে বইয়ের প্যাক ছাপা বাঁধাইয়ের পালা শেষ করে রওনা দেয় প্রকাশকের গখরে বা বইয়ের দোকানে৷ টেম্পো ট্রাক ভ্যান বা রিক্সা, কত রকম যে বাহন তার!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.