বাংলাদেশ ১ : অস্ট্রেলিয়া ১

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি বাংলাদেশ জেতে ২০ রানে। আর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট সফরকারী অস্ট্রেলিয়া জিতলো ৭ উইকেটে। এতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ এ ড্র হলো। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দু’দলই একটি করে জয় পাওয়ায় ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি অমীমাংসিতই থাকলো।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৫।

জবাবে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় ৩৭৭ রান।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস।

খেলার চতুর্থ দিন। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের লক্ষ্য মাত্র ৬৮ রান।

কিন্তু এ লক্ষ্যে পৌঁছতেও তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। মাত্র ৪৮ রানে তারা হারায় ৩টি উইকেট।

প্রথম ইনিংসে বিপজ্জনক হয়ে উঠা ডেভিড ওয়ার্নারকে (৮) ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান এবং স্মিথের (১৬) উইকেটটি তাইজুল ইসলামের। সাকিব আল হাসান প্যাভেলিয়নে ফিরিয়েছেন ম্যাট রেনশকে (২২)।

ওয়ার্নারকে আবারো ফেরালেন মোস্তাফিজ 
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরালেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ইনিংসে ওয়ার্নার করেছিলেন ১২৩ রান। আর আজ ফিরে যেতে হলো মাত্র ৮ রান করে।

প্রথম ইনিংসে মোস্তাফিজ নিয়েছিলেন ৪টি উইকেট।

শেষ প্রতিরোধ মিরাজের, ১০০-ও হলো না টার্গেট 
চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটের পতনের পর শেষ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু সাপোর্ট পাননি মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে। ফলে অস্ট্রেলিয়াকে শতরানের টার্গেটও দিতে পারেনি টাইগাররা।

৭১.২ ওভার খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৫৭। তাই অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য মাত্র ৮৬ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩০৫। আর অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩৭৭ রান।

বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (৩১)। তার পাশে ছিলেন মুমিনুল হক (২৯) ও সাব্বির রহমান (২৪)।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন নাথান লায়ন। প্যাট কামিন্স ও স্টিভ ও’কিফ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

লায়নের ৬ষ্ঠ শিকার তাইজুল 
লায়নের ৬ষ্ঠ শিকার হয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ১২ বল খেলে তিনি করেছেন ৯ রান।

লায়নের ৫ম শিকার মুমিনুল
আবারো লায়নের আঘাত। ফিরিয়ে দিলেন মুমিনুল হককে। ৬১ বল খেলে তার সংগ্রহ ২৯। এটি দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। তিনি করেছেন ৩১ রান।

অসি বোলার নাথান লায়ন আজ নিয়েছেন ৫টি উইকেট। তামিম, ইমরুল কাযেস, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান ও মুমিনুল হক।

প্রথম ইনিংসেও তিনি নিয়েছিলেন ৭টি উইকেট।

প্রতিরোধকারী মুশফিকেরও বিদায় 
বিপর্যয়ে হাল ধরা মুশফিক-সাব্বির জুটির সাব্বিরের চলে যাওয়ার পর শক্ত হয়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তাকেও ফিরে যেতে হলো সাজঘরে।

৩১ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে ম্যাথু ওয়েডের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মুশফিক-সাব্বির জুটিতে ভাঙন
বিপর্যয়ে হাল ধরা মুশফিক-সাব্বির জুটিতেও ভাঙন হয়ে গেল। এবারও নায়ক নাথান লায়ন। তিনি ফিরালেন সাব্বির রহমানকে। ১৯.৩ ওভার থেকে এ জুটির সংগ্রহ ৫৪ রান।

সাব্বির ৫৯ বল মোকাবিলা করে ২ চারসহ করেছেন ২৪ রান।

হাল ধরেছেন মুশফিক-সাব্বির 
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে পর পর ৫ উইকেটের পতনের পর দলের হাল ধরেছেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। ১৩ ওভার থেকে এ জুটির সংগ্রহ ৩৯ রান।

ফিরলেন নাসিরও, বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে বিপর্যয়ে পড়েছে টাইগাররা। অনেকটা আসা-যাওয়ার মতো সময় অতিক্রম হচ্ছে। আবারো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছেন অসি বোলার নাথান লায়ন। নিয়েছেন ৩টি উইকেট। শেষ উইকেটটি নিয়েছেন স্টিভ ও’কিফ। তিনি নিয়েছেন নাসিরের উইকেটটি। নাসির ১৮ বল খেলে ১টি চারসহ করেছেন ৮ রান।

আবারো টাইগার শিবিরে লায়ন আঘাত
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছেন অসি বোলার নাথান লায়ন। নিয়েছেন তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস ও সাকিব আল হাসানের উইকেটগুলো। প্রথম ইনিংসেও তামিমসহ ৫টি উইকেট নিয়েছিলেন লায়ন।

সাকিবের বিদায় 
মাত্র ৮ বল খেলে ২ রান করেই লায়নের আঘাতে প্যাভেলিয়নে ফিরে যেতে হয় সাকিব আল হাসানকে।

ইমরুল কায়েসের বিদায় 
সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর এসেছিলেন ইমরুল কায়েস। বিদায় নিয়েছেন ৯ রান করে। এর মধ্যে ছিল ২টি চারের মার। খেলেছেন ১৬ বল।

তামিমের বিদায় 
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই লায়নেরই শিকার হলেন বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। ৫১ বল খেলে তামিম ইকবালের সংগ্রহ ১২ রান।

আবার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধরা সৌম্য
আবার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়লেন সৌম্য সরকার। এ নিয়ে চার ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই এক অঙ্কের রানে বিদায় নিলেন তিনি। আজ চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে তিনি বিদায় নিয়েছেন ৯ রান করে।

অস্ট্রেলিয়াকে দিনের শুরুতেই অল আউট করার পর ব্যাট করতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার। বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন বড় ইনিংস। কিন্তু সৌম্য বিদায় নেয়াতে শুরুতেই সেই পরিকল্পনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলো। তিনি স্লিপে ক্যাচ দিয়ে কুমিন্সের শিকার হন।

শুরুতেই মোস্তাফিজের আঘাত, শেষ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস
চতুর্থ দিনের শুরুতেই মোস্তাফিজ আঘাত হেনেছেন। আর সেইসাথে গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। আগের দিনের সেই ৩৭৭ রানেই শেষ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বাংলাদেশ এখন ব্যাট করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.