বার্ধক্য প্রতিরোধে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্টেম সেল চিকিৎসা

আরোগ্যযোগ্য নয় এমন কিছু রোগের চিকিৎসায় বিপুল সম্ভাবনাময় হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা চলছে। এখন বার্ধক্য প্রতিরোধের সমাধান হিসেবে তা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এ যখন বার্ধক্যরোধে স্টেম সেলসের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে, কয়েকজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আগ্রহী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বিপুল সাফল্য লাভের দাবি করেছেন। তারা বলছেন, যে কারো ত্বক ও মুখে বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধে স্টেম সেলভিত্তিক চিকিৎসা দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ত্বকের যতেœ স্টেম সেলস দিল্লীর একজন শীর্ষস্থানীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপালি ভরদ্বাজ বলেন, মানব দেহের পুরনো জীর্ণ কোষগুলো মেরামত ও নতুন কোষ তৈরিতে স্টেম সেলসের অপরিসীম ক্ষমতা রয়েছে। এসব সেল যখন মুখের ত্বক ও অন্যান্য জায়গায় ব্যবহার করা হয় তা বিরাট ফলদায়ক হয়। বিলম্ব ছাড়াই ঝুলে পড়া ও বলিরেখাময় ত্বক টানটান হয়ে ওঠে ও সৌন্দর্য ফিরে পায়। আমরা এর সুফল হিসেবে দেখেছি যে বয়সের দাগ, চামড়ার কুঞ্চন মিলিয়ে যাচ্ছে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে তা শেষপর্যন্ত মিলিয়ে গেছে। চিকিৎসকদের দাবি যে অন্যান্য বার্ধক্য-প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার ন্যূনতম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে, কিন্তু স্টেম সেলসের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়াও নেই। স্টেম সেলস সাধারণত মানুষের নিজ দেহের রক্ত ও চর্বি থেকে উৎপন্ন হয়। চর্বি নেয়া হয় কটিদেশ থেকে এবং তারপর স্টেম সেল ল্যাবরেটরিতে তা তৈরি করা হয়। ডা. ভরদ্বাজ বলেন, কারো নিজস্ব স্টেম সেলসের মাধ্যমে বার্ধক্য প্রতিরোধ চিকিৎসা নিরাপদ ও শরীর সহজেই তা গ্রহণ করে। তাতে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন এলার্জি বা ইনফেকশন হয় না। নতুন বার্ধক্য-প্রতিরোধক চিকিৎসা ডা. ভরদ্বাজ বলেন, ত্বক পুনরুদ্ধার, বার্ধক্যকবলিত ত্বককে তাজা করা এবং বয়সজনোচিত কারণে ত্বকের ঘা নিরাময়ে একই ব্যক্তির দেহ থেকে নেয়া সেল বা টিস্যু ব্যবহারের বিরাট সুবিধা রয়েছে। জৈব প্রযুক্তি দফতর (ডিবিটি) গবেষণার বিভিন্ন দিকের জন্য স্টেম সেলস বিষয়ে বহু গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং স্টেম সেল গবেষণার জন্য পৃথক তহবিল বরাদ্দ করেছে। ডা. ভরদ্বাজ তার সর্বশেষ ৩৫ জন রোগীর উপর এ বার্ধক্য রোধ চিকিৎসা প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছেন। তিনি বলেন, স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা চলছে। অল্প কিছু পিতা-মাতা স্টেম সেল দিয়ে বার্ধক্য রোধ চিকিৎসার পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু রোগীরা অন্যান্য চিকিৎসার তুলনায় এর সুফল দেখে ক্রমেই এ চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। স্টেম সেলসের শরীরের বিভিন্ন ধরনের কোষের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষমতা আছে। এআইআইএমএস-এর স্টেম সেল ফ্যাসিলিটির ফ্যাকাল্টি ইনচার্জ ডা. সুজাতা মোহান্তি বলেন, বহু আগে থেকেই ক্লিনিক্যাল চিকিৎসায় বোন-ম্যারোজাত স্টেম সেলসের সাথে বহু নতুন অর্গান চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বার্ধক্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পুনরুৎপাদনশীল ওষুধ ও সেলুলার থেরাপি বিপুল সম্ভাবনা বয়ে এনেছে। বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক স্টেমসেল সার্ভিসেস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গুরুরাজ এ রাও বলেন, নতুন যুগের চিকিৎসায় স্টেম সেলস কসমেটিক পদ্ধতির অংশ হতে পারে। প্রদাহ হ্রাস, পুনরুৎপাদন বৃদ্ধি এবং নবজীবন লাভে সাহায্যের মাধ্যমে বার্ধক্য রোধের চিকিৎসায় স্টেম সেলস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সূত্র ইন্ডিয়া টুডে।

 

স্টেম সেল কি

আজকে আমাদের স্টেম সেল সমন্ধে আজানা কিছু তথ্য আপনাদের কাছে জানাচ্ছি নানা তথ্য থেকে ঘেঁটে।
কিছু দিন আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে এক ভদ্রলোক। বয়স ৬৫ বছরের উপরে হবে। কয়েক বছর আগে থেকেই কোন বস্তুর দিকে তাকালে বস্তুটা পরিস্কার দেখা যেতো না। সে ভেবেছিল এটা তেমন কনো জটিল সমস্যা না। কিন্তু দিন যতোযায় তার দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিছুদিন পর তার কাছের মানুষদেরকেও চিনতে কষ্ট হয়। সে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলে, তার চোখের যে রোগ হয়েছে তার কোন প্রতিকার এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আর এ রোগের নাম হচ্ছে, মাকূলার degeneration। এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হলে মানুষ থাক দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলতে থাকে। এই রোগে মানুষের চোখের রেটিনা নামক যে আলোক সংবেদনশীল কোষের যে আবরন থাকে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই রোগটি সাধারনত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের হয়ে থাকে। ২০২০ সাল নাগাত ইউএসএর প্রায় ৩ মিলিয়ন লোক এই রোগে আক্রান্ত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এরকম আরও কিছু রোগ আছে যেমন Stargardt’s macular dystrophy যাতে অল্পবয়স্ক মানুষও আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে চোখের রেটিনার আবরনের নিচে চর্বির আবরন জমা হয়, যার ফলে রেটিনার কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, একইসাথে চোখ তার দৃষ্টি শক্তি হারায়। একবার চিন্তা করুন যদি এই মৃত কোষগুলোকে ঠিক করা যেতো অথবা জীবিত কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যেতো। বিজ্ঞানিরা এখন চেষ্টা করছে Macular degeneration এবং Stargardt’s macular dystrophy উভয় ক্ষেত্রেই কোনভাবে এই মৃত কোষগুলোকে জীবিত কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপন করার। Advanced Cell Technology নামক একটি কোম্পানি এই কাজটি করছে, তারা রেটিনা এই কোষ তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে, মানুষের ভ্রূনীয় স্টেম সেল (embryonic stem cell )।

Stem cell
স্টেম সেল হচ্ছে এমন কোষ যা মানব দেহের ২২০ ধরনের কোষের যেকোনো কোষে নিজেকে পরিবরতিত করতে পারে। আবার তারা নিজেকে কোন পরিবর্তন না করে শুধু কোষ বিভাজনের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন স্টেম সেল তৈরি করতে পারে। স্টেম সেলের এই বৈশিষ্ট্য দুটোর জন্য একে গবেষণাগারে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাছাড়াও এই কোষ রোগ চিকিৎসার বিপ্লবিক ভুমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ কিভাবে তৈরি হয়েছে তা যেমন জানা যায়, তেমনই একটি নির্দিষ্ট ঔষধের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও স্টেম সেল ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে (যেমন- রেটিনা, পেশী, spinal cord) প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু কীভাবে আমারা স্টেম সেল এর সঠিক ব্যবহার করতে পারি? কীভাবে আমারা স্টেম সেলকে যখন, যেখানে যেভাবে ইচ্ছা উৎপাদন করতে পারি? অথবা কীভাবে এদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ অথবা রোগাক্রান্ত কোষকে প্রতিস্থাপন করার জন্য ব্যবহার করতে পারি? এতক্ষণে এই প্রশ্নগুলো আপনাদের মনে জেগেছে নিসচই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদেরকে স্টেম সেল এর জীববিজ্ঞানকে ভালভাবে জানতে হবে। সূক্ষ্ম কীট থেকে ইদূর এবং মানুষ সব প্রাণীর দেহেই স্টেম সেল থাকে। সাধারণত তিন ধরনের স্টেম সেল থাকে, যেমন- embryonic স্টেম সেল, adult স্টেম সেল, and induced pluripotent স্টেম সেল (iPS)। প্রতি ধরনের স্টেম সেলেরেইতাদের নিজস্ব সামর্থ্য এবং সীমাবদ্ধতা আছে। embryonic স্টেম সেল, সাধারণত কোন প্রাণীর বর্ধনের খুবই প্রাথমিক অবস্থা থেকে পাওয়া যায়। যখন শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনের ফলে, জাইগোট তৈরি হয় এবং তা বিভাজিত হতে থাকে। আর এই সময়ের কোষগুলোর যেকোনো ধরনের কোষে পরিণত হয়ার ক্ষমতা থাকে, এই ক্ষমতাকেই বলা হয় pluripotency। কয়েক বার বিভাজনের আগ পর্যন্ত তাদের এই pluripotency. বজায় থাকে, কিন্তু তারপর থেকেই, ভ্রুন যখন একটি পুরনাঙ্গ প্রানীতে পরিণত হয় তখন অধিকাংশ কোষই পৃথকীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কোষে পরিণত হয়। কিন্তু এদের মধ্যে কিছু বিশেষ ধরনের কোষ আছে যারা তখনও বিভক্তিকরনের মাধ্যমে অন্য ধরনের কোষে পরিনত হওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখে। এই স্টেম সেল গুলোকে বলা হয় adult স্টেম সেল, আর এই কোষগুলো দেহের মধ্যে একটি বিশেষ পরিবেশে অবস্থান করতে থাকে এবং অপেক্ষা করতে থাকে দেহের কাছ থেকে পরাতন কোষকে প্রতিস্থাপন এবং মেরামত করার উপযুক্ত বার্তার জন্য। এই বিশেষ স্টেম সেল গুলো সাধারনত থাকে ওইসব কলাতে, যেখানে প্রতিনিয়ত পুরাতন কোষগুলোকে নতুন কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হয়, যেমন- রক্ত, ত্বক এবং পরিপাক নালী। এই adult স্টেম সেল গুলোকে pluripotent এর পরিবর্তে multipotent বলা হয়। Pluripotent কোষগুলো যেমন মানব দেহের ২২০ ধরনের কোষের যেকোনো কোষে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে কিন্তু multipotent কোষগুলো তা পারে না। উদাহরন স্বরূপ Nueral স্টেম সেল মস্তিস্কের বিভিন্ন স্নায়ু কোষে পরিণত হতে পারলেও, তারা কখনই যকৃতের কোষে পরিণত হতে পারবে না।
গত দশকে বিজ্ঞানীরা কীভাবে কোন নির্দিষ্ট জাতের কোষ থেকে স্টেম সেল তৈরি করতে হয় তা শিখেছে। ক্রিত্তিম ভাবে তৈরি করা এই কোষগুলোকে বলা হয়induced স্টেম সেল, কারন বিজ্ঞানীরা এই কোষগুলোকে জোর করে Pluripotent বানাচ্ছে, যদিও তারা বিভক্তিকরনের ফলে দেহের একটি নির্দিষ্ট জাতের কোষ ছিল। শুধুমাত্র কিছু জীনকে সক্রিয় করার মাধ্যমে, কোষের বিভক্তিকরনের এই ধারাকে বিপরীত দিকে পরিচালিত করে, ত্বকের কোষকেpluripotent অবস্থাই নিয়ে যাওয়া যায়।
কোষের পৃথকীকরণের পক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে স্টেম সেল আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবরনার দ্বার খুলে দেবে। স্টেম সেল সম্পর্কে এখনও আমাদের অনেক কিছু জানার বাকি আছে, যেমন- যে তিন জাতের স্টেম সেল এর কথা বলা হয়েছে তারা কি কি বৈশিষ্টে ভিন্নতা রয়েছে? কি কি বৈশিষ্টে মিল রয়েছে? তাদের থেকে কি কি অঙ্গ তৈরি করা সম্ভব?
দেহের প্রতিটি কোষেই সমান সংখ্যক জীন থাকে, কিন্তু চোঁখের কোষ যকৃতের কোষের থেকে ভিন্ন, কারন চোখের কোষে এবং যকৃতের কোষে ভিন্ন ভিন্ন জীন সক্রিয় এবং নিস্ক্রিয় অবস্থাই আছে। যেমন- রেটিনার কোষে এমন জীনগুলো সক্রিয় আছে যারা রেটিনাকে অলোক সংবেদন করে তুলে, আর খাদ্য হজম করার জীনগুলো নিস্ক্রিয় অবস্থাই থাকে। আবার যকৃতের ক্ষেত্রে ঘটে এর বিপরীত ঘটনা। বিজ্ঞানীরা রেটিনার কোষে কোন কোন জীন সক্রিয় এবং নিস্ক্রিয় আছে তা বের করতে সক্ষম হয়ছে। কোষ সাধারণত নির্দিষ্ট জীনকে সক্রিয় অথবা নিস্ক্রিয় করার জন্য রাসায়নিক পদার্থ অথবা প্রোটিন ব্যবহার করে। রেটিনার জন্য নির্দিষ্ট জীনগুলোকে সক্রিয় এবং নিস্ক্রিয় করার জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ বা প্রোটিন দরকার, কোন pluripotent স্টেম সেলকে যদি সেইসব পদার্থ বা প্রোটিনের সাথে মিশিয়ে উৎপাদন করা হয় তাহলে pluripotent স্টেম সেলকে রেটিনার কোষে পরিণত করা সম্ভব।
এই কাজটি করার জন্য বিজ্ঞানীদের কয়েক দশক গবেষণা করতে হয়েছে। ১৮৫৮ সালে জার্মান জীববিজ্ঞানী Ernst Haeckel জইগোটকে বর্ণনা করার জন্য প্রথম স্টেম সেল শব্দটি ব্যবহার করে। গবেষকরা ঈদুরের embryonic স্টেম সেল নিয়ে কাজ শুরু করে ১৯৮১ সাল থেকে, আর ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম মানুষের embryonic স্টেম সেল পৃথক করতে সমর্থ হয়। স্টেম সেল এর ক্ষেত্রে বড় সাফল্য আসে তখনি যখন University of Wisconsin–Madison এর James Thomson এবং তার দল এমন একটি কোষগুচ্ছ খুজে পায় যাকে বলা হয় blastocyst এরInner cell mass, যে কোষগুচ্ছ স্টেম সেল এর প্রাকৃটিক উৎস হিসেবে কাজ করে। Blastocyst হচ্ছে ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা যাকে গবেষণাগারে ক্রিত্তিম ভাবে ডিম্বাণু এবং শুক্রানুর মিলন ঘতিয়ে তৈরি করা হয়। Blastocyst হচ্ছে কোষ দ্বারা তৈরি একটি ফাকা বল যার মাঝখানে কিছু কোষের একটি পিণ্ড থাকে। প্রজনন ক্লিনিকের বিজ্ঞানীরা সাধারনত প্রয়োজনের থেকে বেশি ভ্রুন তৈরি করে, অব্যবহিত ভ্রূণগুলোকে খুব ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখা হয় অথবা রুগীর ইচ্ছা অনুযায়ী ফেলে দেয়া হয়। এইসব ক্ষেত্রে রুগী তার ভ্রুন বিজ্ঞানীদেরকে গবেষণার জন্য দান করতে পারে। যদি blastocyst কে কোন জরায়ুতে স্থাপন করা হয় তাহলে Inner cell mass ফিটাসে এবং বাইরের কোষের আবরণটি placenta তে পরিণত হয়। জরায়ুতে স্থাপন না করেblastocyst কে cell culture এ পরিণত করা যেতে পারে।

এটা করার জন্য বিজ্ঞানীরা inner cell mass থেকে কিছু কোষ পৃথক করে এবং দরকারি খাদ্য দিয়ে কাচের পাত্রে বিভাজনের জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশে রাখা হয়। এই স্টেম সেলগুলো একের পর এক বিভাজন হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে। অন্য কোষের সাথে স্টেম সেল এর পার্থক্য হচ্ছে এরা অসংখ্য বার বিভাজন হতে পারে, কিন্তু অন্য দেহ কোষ কয়েক বার বিভাজনের পর মারা যায়। দেহ কোষের এই মারা যওয়ার কারন হচ্ছে, টলোমেয়ার নামের ডিএনএ এর যে অংশ আছে তা বিভাজনের সাথে সাথে ছোট হতে থাকে। টলোমেয়ারের এই ছোট হওয়ার কারন হচ্ছে, ডিএনএ অনুলিপিকরনের সময় ডিএনএ পলিমারেজ এনজাইম টলোমেয়ার পর্যন্ত পৌছাতে পারে না। যার ফলে টলোমেয়ারের কপি তৈরি না হওয়ার কারনে টলোমেয়ারের দৈর্ঘ্য ছোট হতে থাকে যার ফলে কোষ তার বিভাজন ক্ষমতা হারায় এবং মারা যায়। স্টেম সেল এর মধ্যে টলোমারেজ নামক একটি এনজাইম থাকে যা ডিএনএ এর অনুলিপিকরনের সময় টলোমেয়ারের যে অংশের কপি তৈরি হয় না সে অংশ আলাদাভাবে তৈরি করে। যার ফলে টলোমেয়ারের দৈঘ্য ঠিক থাকে ফলে কোষগুলো মারা যায় না। স্টেম সেলের অমরত্ব ছাড়াও আর একটি বৈশিস্ট খূব গুরুত্বপূর্ণ, তা হল এই কোষগুলোর অন্য কোষে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। অর্থাৎ pluripotency থাকতে হবে। ভ্রুন থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হওয়ার সময় দেহের সব অঙ্গগুলো ভ্রূণের তিনটি কোষস্তর থেকে তৈরি হয় যাদেরকে বলে endoderm, mesoderm and ectoderm. একটি pluripotent কোষ থেকে এই তিনটি germ layer তৈরি হইতে পারে। স্টেম সেলগুলো pluripontent কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য মাঝে মাঝে কোষগুলোকে ইদুরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখা হয় এই তিনটি কোষের স্তর তৈরি হয় কিনা। যদি তিনটি লেয়ার তৈরি হয় তা হলে স্টেম সেল অন্য কোষের পরিণত হওয়ার ক্ষমতা আছে। এইভাবে বিজ্ঞানীরা অনেক pluripotent স্টেম সেল তৈরি করা সামর্থ্য অর্জন করেছে। তারা জানে কীভাবে কোষ pluripotent স্টেম সেল তৈরি করতে হয় কীভাবে তাদের নিয়ে ল্যাব এ কাজ করতে হয়, কীভাবে কোষগুলোকে সুস্থ রাখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হয়। কিন্তু কেন তারা এখনও মানুষের রোগের প্রতিকারের জন্য যে কোষগুলোর দরকার তা তৈরি করতে পারছে না?
স্টেম সেল গবেষণার জন্য প্রধান বাধা হচ্ছে মানুষের সামাজিক এবং ধর্মীয় বাধা। কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী স্টেম সেল গবেষণা সমরথন করে না কারন তাদের মতে মানুষের জীবন শুরু হয়, ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর নিষেকের পর থেকেই, ভ্রুন ধ্বংস করা অনৈতিক। কিন্তু Judaism, Islam and Hinduism, ভ্রুনকে অন্যভাবে দেখে তাই এই ধর্মগুলো স্টেম সেল গবেষণার ক্ষেত্রে তেমন কোন বাধার সৃষ্টি করে না। তাছারাও অনেক বিজ্ঞানী যারা স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা করছে অথচ ধর্মে বিশ্বাস করে, তাই এমনটি মনে করার কোন কারন নেই যে বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুই মেরুতে অবস্থিত। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট George W. Bush কিছু সর্ত সাপেক্ষে স্টেম সেল গবেষণাকে অনুমদন প্রদান করেন। প্রধান দুটো সর্ত হচ্ছে, স্টেম সেল অবশ্যই প্রজননের জন্য তৈরিকৃত ভ্রুন থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অবশ্যই যার কাছ থেকে স্টেম সেল নেয়া হচ্ছে তাকে জানাতে হবে স্টেম সেল দিয়ে কি করা হবে।
কয়েক বছর আগ পর্যন্তও বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিল, যদি কোন কোষ বিভক্তিকরনের মাধ্যমে শরীরের কোন এক ধনের কোষে পরিণত হয়, তাহলে তার pluripotency কখনই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয় কারন ওই কোষগুলতে অনেক জীন অন অফ থাকে। কিন্তু ২০০৬ সালে, জাপানের টকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী Kazutoshi Takahashi and Shinya Yamanaka প্রথম ইদুরের ত্বকের কোষকে স্টেম সেল এ পরিনত করতে সমর্থ হয়, আর এই ধরনের স্টেম সেল কে বলা হয় induced pluripotent stem (iPS) cells। তাহলে এখন চিন্তা করা যাক কিভাবে আমারা একটি কোষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। গবষকদের ধারনা করেন যে, আমারা যদি কোন ভাবে স্টেম সেলে যে জীণগুলো প্রকাশিত অবস্তায় থাকে সেগুলোকে প্রকাশ করতে পারি আর বাকি জীনগুলোকে অপ্রকাশিত অবস্তায় রাখতে পারি তাহলে, যেকোনো কোষকে স্টেম সেল এ পরিণত করা সম্ভব। তাহলে আমাদের জানা দরকার স্টেম সেল এ কোন জীনগুলো প্রকাশিত অবস্তাই থাকে।
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ২৪ টা জীন আবিস্কার করতে সমর্থ হয়ছে যারা কিনা স্টেম সেলের pluripotent বিশিষ্টের জন্য দায়ী। তখন তারা ইদুরের ত্বকের কোষের বিভিন্ন বিন্যাসে এই জীনগুলোকে প্রকাশ করার মাধ্যমে দেখতে পান যে, ৪ টি জীন, যারা কিনা অন্য জীনের প্রকাশের জন্য যে ফ্যাক্টর দরকার, তা তৈরির মাধ্যমে ত্বকের কোষকে স্টেম সেলে পরিনত করে। এই জীনগুলো হচ্ছে Oct3/4, Sox2, c-Myc এবংKlf4. যদিও তারা স্টেম সেল তৈরি করেছে কিন্তু এটা প্রমান করা প্রয়োজন যে স্টেম সেলগুলো pluripotent, যার মানে হচ্ছে তাদেরকে এখনও প্রমান করতে হবে যে, ওই স্টেম সেল গুলো একটু পুরনাঙ্গ প্রাণীতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। তারপর তারা ইদুরের ভ্রূণের কোষের সাথে iPS কোষগুলোকে মিশিয়ে দেয় এবং পরে দেখতে পারে যে ওই iPS কোষগুলো পরবরিতিতে ইদুরের দেহের বিভন্ন কোষে পরিণত হয়।
এরপর থেকে iPS নিয়ে গবেষণা অনেক দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে, এখন অনেকেই এই iPS কোষ নিয়ে গবেষণা করছে। ইতিমধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন iPS গবেষণার বিশেষ গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। iPS এর প্রধান সুবিধা হচ্ছে, এই কোষগুলো কোন ভ্রুন থেকে নেয়া হয় না, যেকারনে ধর্মীয় দিক থেকে এবিষয়ে গবেষণায় কোন বাধা নেই।
এখন পরবর্তী প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে মানুষের কোষ থেকে iPS কোষ তৈরি করা যায়? ২০০৭ সালে মানব কোষের থেকে iPS কোষ তৈরির উপর পরপর তিনটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়। ইদুরের iPS কোষ তৈরির পর মানব iPS কোষ তৈরি করতে সময় লেগেছে মাত্র ৬ মাস অন্য দিকে ইদুরের ভ্রিনিয় স্টেম সেল তৈরির পর মানব ভ্রুন থেকে স্টেম সেল তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১৭ বছর। এখন আমরা জানি কীভাবে মানব iPS কোষ তৈরি করতে হয়, কিন্তু এই পক্রিয়ার কিছু সমস্যা আছে । যেমন iPS তৈরির জন্য যে জীনের প্রকাশ দরকার পরে সেই একই জীন আবার কান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। যেকারনে, ইদূরে iPS কোষে বেশি পরিমানে cmyc জীনের প্রকাশ হওয়ায় তাদের মধ্যে টিউমার হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। কান্সার কোষ আর iPS এর মদ্ধ্যে মিল থাকায়, স্টেম সেল কান্সার কোষে পরিণত হতে পারে। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, Yamanaka এবং তার সহকর্মীরা প্রকাশ করেন যে, তারা যে জীন কান্সার তৈরির জন্য দায়ী তা ব্যবহার না করেইiPS কোষ তৈরিতে সমর্থ হয়েছেন। কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে তারা প্রমান করেছেন যে Myc জীন iPS তৈরির জন্য অপরিহার্য না, এই জীনটি শুধু iPS কোষ তৈরিকে তরান্বিত করে।
প্রথম দিকে ভাইরাস ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় জীনগুলোকে কোশে প্রবেশ করিয়ে iPS কোষ তৈরি করা হতো। এই ভাইরাস মানব কোষের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়, তাই কিছু বিজ্ঞানী ভাইরাস ব্যবহার না করে অন্য কোন উপায়ে প্রয়োজনীয় জীনগুলোকে মানব কোষে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, প্লাসমিডের ব্যবহার, প্লাসমিড হচ্ছে বৃত্তাকার ডিএনএ যা এক কোষ থেকে অন্য কোষে জীন পরিবহন করতে সক্ষম। ভাইরাসের মত প্লাসমিডও জিনোমের ভুল জায়গায় ডিএনএ প্রবেশ করিয়ে কান্সার তৈরির জীনগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে। এই সমস্যার সমাধান করার জন্য বিজ্ঞানীরা এমন প্লাসমিড ব্যবহার করেন যা কোষে জীন পরিবহন করবে কিন্তু কোষের জিনোমে ডিএনএকে সংযোগ করবে না, এবং কোষ তার pluripotency ফিরে পাওয়ার পর জীনগুলো ধংস হয়ে যাবে। কিন্তু সবথেকে ভাল হয় যদি কোন কোষে বাইরে থেকে জীন প্রবেশ করানো ছাড়াই iPS কোষে পরিণত করা যায়। এখনও বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছে কীভাবে রাসায়নিক ফ্যাক্টর ব্যবহার করে, কোষ তার জিনোমের জীনগূলোকে সক্রিয় করে একটি নির্দিষ্ট কোষকে iPS কোষে পরিণত করতে পারে।

ভ্রুনিয় স্টেম সেলের মত iPS কোষও প্রতিনিয়ত বিভাজিত হতে পারে এবং পৃথকইকরনের মাধ্যমে অন্য যেকোনো ধরনের দেহ কোষে রুপান্তরিত হতে পারে। কিন্তু iPS কোষ ছিল পৃথকীকৃত একটি নির্দিষ্ট দেহকোষ, যার ফলে iPS কোষগুলো ত্বকের কোষ অথবা পেশীকোষ হিসেবে তার পূর্ববর্তি জীবনের কিছু সৃতি এখনও ধরে রাখতে পারে। সম্প্রীতি গবেষণায় দেখা গেছে iPS কোষগুলো সৃতি ধরে রাখে কিছু এপিজেনেটিকmarkers আর মাধ্যমে, এই মার্কারগুলো হচ্ছে ডিএনএ এর সাথে যুক্ত মিথাইল, এসেটাইল এবং অন্য অন্য রাসায়নিক গ্রুপ যা কিনা কোন নির্দিষ্ট জীনকে সক্রিয় এবং নিস্ক্রিয় করে রাখতে পারে। কোষ পৃথকীকরণের সময় এই মার্কারগুলো অর্জন করে, কিন্তু iPS কোষে পরিণত হওয়ার পরও ডিএনএ কিছু কিছু মার্কার ধরে রাখে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদালয়ের গবেষক George Daley কোষের এই সৃতি ধরে রাখার বাপারটি লক্ষ করেন। তিনি দেখতে পান যে যে iPS কোষ পূর্বে রক্তের কোষ ছিল তা থেকে সহজে রক্ত তৈরি করা সম্ভব কিন্তু, যে iPS কোষ পূর্বে ত্বকের কোষ ছিল তা থেকে রক্ত তৈরি করা অপেক্ষাকৃত কঠিন। George Daley ও অন্য গবেষক দল দেখতে পান যে iPS কোষ কিছু কছু এপিজেনেটিক মার্কার ধরে রাখে, যার ফলে iPS কোষেও তার মাতৃ কোষের কিছু জীন সক্রিয় এবং নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এখন প্রশ্ন হল আমারা কীভাবে এই মার্কার গুলোকে ডিএনএ থেকে সরাতে পারি, যখন আমারা এই মার্কারগুলোকে সরাতে পারব একমাত্র তখনি বলতে পারব যেiPS কোষ ভ্রুনিয় স্টেম সেলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
স্টেম সেল নিয়ে গবেষণার কারন হচ্ছে যেন স্টেম সেলকে রুগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। স্টেম সেল থেকে কান্সার হওয়ার ঝুকি থাকার কারনে অনেক বিজ্ঞানী এই iPS কোষকে এখনও চিকিৎসার জন্য ব্যাবহারের বিপক্ষে। তাহলে আমরা কি এমন কোন ওষুধ বের করতে পারি না যা, রুগীর শরীরের অন্য কোষ থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষ তৈরিতে প্রভাবিত করবে। এই ধারনা অনেকটা বাস্তব সম্মত মনে হওয়ায় কিছু গবেষক এই বিষয়ে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। কিছু বিজ্ঞানী দেখাতে পেরেছে যে, স্টেম সেল তৈরি না করে সরাসরি এক জাতের কোষ থেকে অন্য জাতের কোষ তৈরি করা সম্ভব। এই পদ্ধতিকে বলা transdifferentiation, খুব আকর্ষণীয় পদ্ধতি হওয়ায় অনেক বিজ্ঞানী এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছে। ২০০৮ সালে হার্ভার্ড গবেষক Qiao (Joe) Zhou and Douglas Melton অগ্নাসয়ের একধরনের কোষকে অন্য ইনসুলিন তৈরি করতে সক্ষম beta-islet কোষে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। beta-islet কোষ হচ্ছে সেই কোষ যা টাইপ-১ ডায়েবেটিক রুগীর ক্ষেত্রে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে তারা ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এই প্রক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হচ্ছে রুগীর দেহের পরিবেশেই কোষগুলো তৈরি। ২০১০ সালে Marius Wernig র তত্ত্বাবধায়নে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ইদুরের fibroblasts কোষকে নিউরনে পরিণত করতে সক্ষম হয়, যা গবেষণার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে। তার এক বছর পরেই তারা মানব fibroblasts কোষকে নিউরনে পরিণত করতে সক্ষম হয়। তারা যে নিউরন তৈরি করেছিল সেটা শুধু কোন নির্দিষ্ট নিউরন ছিল না কিন্তু তারা ছিল বিভিন্ন ধরনের নিউরনের মিশ্রণ। একই বছর অন্য এক দল গবেষক fibroblasts কোষকে একটি নির্দিষ্ট নিউরন কোষে পরিণত করতে সক্ষম হয়, যা ডোপামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। ডোপামিনের কাজ হচ্ছে নড়াচড়া করতে সাহায্য করা, আর পারকিন্সন রোগের ক্ষেত্রে রুগীর এই রাসায়নিক পদার্থ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কোষগুলো ধংশ হয়ে যায়। এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত না যে সরাসরি একধরনের কোষগুলো অন্য ধরনের কোষে পরিণত হয় নাকি, মধ্যবর্তী কোন undifferentiated অবস্থার অন্য ধরনের কোষে পরিবর্তিত হয়। এখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর জানা নেই। এ পক্রিয়া মানুষের ব্যাবহারের উপযোগী করে তোলার আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকরা পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেল ব্যাবহার নিয়ে গবেষণা করছে, এই পক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হচ্ছে কোষগুলোকে কোন ভ্রুন থেকে সংগ্রহ করতে হয় না যার ফলে কোন ethical প্রশ্ন আসে না। বয়স্ক স্টেম সেল ব্যাবহারের প্রধান বাধা হচ্ছে এরা খুব কম পরিমানে থাকে, এবং টিস্যুর অনেক গভীরে থাকায় সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য। কিন্তু চিকিৎসকরা পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেল প্রায় ৪০ বছর আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছে, প্রধানত অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন এবং ত্বকের গ্রাফটিং করার ক্ষেত্রে। এখন বিজ্ঞানীরা অন্য অন্য ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেল ব্যবহার করার চিন্তা ভাবনা করছে, কিন্তু এখনও তারা নিশ্চিত না এই স্টেম সেল গূলোর উৎস কী এবং কখন কোন পরিবেশে এরা নির্দিষ্ট জাতের কোষে রূপান্তরিত হয়। যদি এই রহস্যগুলো ভেদ করা যায় তাহলে আমারা ওষুধ মাধ্যমে পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেল কে ব্যাবহার করে নষ্ট হওয়া কোষগুলোকে পরিবর্তন করতে পারব। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, হার্ট অ্যাটাক হৃদপিণ্ডের পেশীকোষগুলোকে নষ্ট করে দেয়। হৃদপেশীর পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেলগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষগুলো পরিবর্তন করে নতুন কোষ তৈরি করে হৃদপেশী ঠিক করতে পারবার কথা ছিল। কিন্তু এখনও স্টেম সেল চেষ্টা করে কিন্তু সংখ্যায় খুব অল্প হওয়ায় তার কোন ফলাফল আমারা দেখতে পারি না। ২০১১ সালে কিছু গবেষক একটি আমিষ অনুর সন্ধান পান যা পূর্ণবয়স্ক স্টেম সেল থেকে হৃদপিণ্ডের পেশীকোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। যদি এই আমিষ ব্যবহার করে দ্রুত অনেক বেশি সংখ্যক হৃদপিণ্ডের পেশীকোষ তৈরি করা যায় তাহলে ডাক্তার এই আমিষের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডকে নিজে নিজে ঠিক করে নেয়ার একটা পদ্ধতি দিতে পারবে।
স্টেম সেল আমাদের শিক্ষা দিতে পারে কীভাবে ভ্রুন থেকে মানব দেহ তৈরি হয়, কোন রোগ হলে দেহের কি পরিবর্তন হয়। নতুন ড্রাগ ডিজাইন এবং পরীক্ষা করার জন্য স্টেম সেল ব্যবহার অনেক নিরাপদ। নুতন ড্রাগ প্রথমে স্টেম সেলের উপর টেস্ট করে, কোন ড্রাগের ক্লিনিকাল টেস্টের সময় অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রুগীকে রক্ষা করা যেতে পারে। আর স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা ডিজেনারাটিভ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিছু কিছু রোগ যেমন macular degeneration এবং spinal cord injuries এর ক্ষেত্রে ডাক্তার চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা স্টেম সেল ব্যবহার করতে চান। স্টেমকে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যাবে কিনা তা নিয়ে ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে, হয়তো এদের মধ্যে গুটি কয়েক হয়তো চিকিৎসার জন্য অনুমোদন পাবে। তার আগে যে বাপার গুলো নিশ্চিত করতে হবে তা হল, স্টেম সেল চিকিৎসা রুগীর জন্য নিরাপদ হয়, দেহের যে অংশে সেল থেরাপি দেয়া হবে সেখান থেকে স্টেম সেল যেন দেহের অন্য কথাও ছড়িয়ে না পরে, দেহের রোগপ্রতিরোধ সিস্টেম যেন কোষগুলোকে নষ্ট করে না দেয়। আরও একটা বাপার অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে তা হল স্টেম সেল কোন ভাবেই যেন কান্সার কোষে পরিণত না হয়।
আর এইসব কারনেই, কোষ থেরাপির মাধ্যমে macular degeneration আর চিকিৎসার জন্য চোখ একটি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে কারন কোষ মানুষের রোগপ্রতিরোধ সিস্টেম থেকে blood–brain barrier এর মাধ্যমে আলাদা করা তাছারাও চোখকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর্যাপ্ত হাতিয়ার ডাক্তারদের কাছে আছে।
স্টেম সেল ব্যাবহার করে অন্ধত্বের চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে যেমন, প্রথমে ভ্রুনিয় স্টেম সেল থেকে রেটিনার কোষ তৈরির জন্য একটি রেসিপি তৈরি করতে হবে। তারপর পরীক্ষাগারে তৈরি করা কোষ দিয়ে প্রথমে অন্য প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোষগুলো রোগ সারাতে সক্ষম কিনা। কিছু কিছু ইদুরের macular degeneration অথবা Stargardt’s macular dystrophy তাদেরকে এই কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষাগারে তৈরি করা রেটিনা কোষ অন্য কোন প্রাণীর রেটিনাতে প্রবেশ করায় তখন তার দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এখন বিজ্ঞানীরা খুব আল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে এই কোষ থেরাপি কি ফল হয় তা দেখছে। যদি তারা দেখে যে, এই স্টেম সেল থেরাপি মানুষের জন্য নিরাপদ এবং চখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে তাহলে এই স্টেম সেল থেরাপি সত্যিকার অর্থেই কাজ করে কিনা দেখার জন্য তারা অধিক সংখ্যক রুগীর উপর পরীক্ষা চালাবে। আরও একটি আশার খবর হচ্ছে Geron, নামের একটি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি স্টেম সেল নির্ভর থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে তারা ভ্রুনীয় স্টেম সেল থেকে নিউরন তৈরি করে সেটা দিয়ে spinal cord injuries চিকিৎসা করা যায় কিনা তা পরীক্ষা করছে। যেকোনো ইনজুরির কারনে স্নায়ু কোষ নষ্ট হয়ে গেলে তা খুব কম ক্ষেত্রেই পুনারায় আবার তৈরি হয় না কারন হচ্ছে স্নায়ু কোষের বাইরের যে মায়লিন নামক প্রোটিনের যে রক্ষাকারি আবরন থাকে তা নষ্ট হয়ে যায়। প্রোটিনের এই আবরনকে ইলেক্ট্রিক তারের বাইরে যে রাবারের আবরন থাকে তার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। oligodendrocytes নামক একধরনের কোষ এই স্নায়ু কোষের চারদিকের এই আবরন তৈরি করেন। তাই বিজ্ঞানীরা ধারনা করলেন যে তারা যদি এইoligodendrocytes কোষকে নতুন কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারে তাহলে এই কোষগুলো স্নায়ুকোষের চারদিকে মায়েলিনের আবরন তৈরি করবে এবং স্নায়ুকোষের পুনরায় তৈরি হওয়ার জন্য যেসব ফ্যাক্টর দরকার তাও সরবরাহ করবে। সেজন্য তাদের অবশ্য ভ্রুনিয় স্টেম সেল থেকে কীভাবে oligodendrocytes তৈরি করা যায় তার রেসিপি তৈরি করতে হবে, অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পর Dr. Keirstead এর তত্ত্বাবধায়নে গবেষক দল ভ্রুনিয় স্টেম সেল থেকে oligodendrocytes তৈরিতে সক্ষম হয়। যখন এই কোষ গুলোকে ধারা ইদুরকে চিকিৎসা দেয়া হয় তখন তাদের স্নায়ু কোষের চারদিকে মায়েলিনের আবরন তৈরি হয়, এবং ইদূরগুলো নাড়াচাড়া করতে সক্ষম হয়। Garon এখন এই কোষ থেরাপি spinal cord injuries এর রুগীদের জন্য ফলদায়ক কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে।
মানব রোগপ্রতিরোধ সিস্টেম যেন কোষগুলোকে নষ্ট না করে দেয় সেজন্য বিজ্ঞানীরা iPS ব্যবহার করার চিন্তা করেছে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা রুগীর দেহ থেকে কোষ নিয়ে iPS তৈরি করবে এবং সেখানে রোগ সারানোর জন্য যেধরনের মেরামত দরকার তা সম্পন্ন করে রুগীর দেহে স্থাপন করা হয়।
আর চিকিৎসার জন্য চোখ একটি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে কারন কোষ মানুষের Advanced Cell Technology কোষ থেরাপির ক্ষেত্রে একটা বড় সুবিধা পাচ্ছে তা হল,
স্টেম সেল ব্যবহার করে গবেষকরা পরীক্ষাগারে তাদের পছন্দের কোষগুলো তৈরি করতে পারে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে কীভাবে পরীক্ষাগারে স্টেম সেল থেকে বিভিন্ন দরনের কোষ তৈরি করতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.