বাড়ি পালানো কোটিপতি কিশোরের গল্প

বাড়ি থেকে পালিয়ে ধনী হয়ে যাওয়ার গল্প নাটক সিনেমায় হরহামেশাই দেখা যায়। কিন্তু দৃঢ় মনোবল থাকলে বাস্তবেও যে তা সম্ভব তা অন্তত নিজের কাছে প্রমাণ করলেন আমবারিস মিত্র। পরীক্ষায় ফেল করে বাড়ি থেকে পালিয়ে দিল্লি চলে যান তিনি। বয়স ছিল সবে মাত্র ১৫। সে সময় আর দশটা কিশোরের মতো তারও জীবন নিয়ে ছিল না কোনো দুঃশ্চিন্তা কিংবা সুদূর প্রসারী কোনো পরিকল্পনা। বাড়ি থেকে পালিয়ে শেষ আশ্রয় হয় দিল্লির এক বস্তিতে। ছোট্ট একটা ঘরে মাটিতে শুয়ে ছয় জনের সঙ্গে রাত কাটাতে হতো তাকে। দিনে খবরের কাগজ বিক্রি আর রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে দুবেলা কোনোমতে খাবার জুটতো।

সেখানেই পত্রিকায় ব্যবসার নতুনদের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিযোগিতার একটি বিজ্ঞাপন দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না। চট করে কিছু না ভেবে নিজেই হয়ে গেলেন প্রতিযোগী। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল ওই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পাবেন ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ। অবশেষে সবাইকে তাক লাগিয়ে তিনিই হয়ে গেলেন বিজয়ী। স্বল্প আয়ের নারীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাটি তাকে বিজয়ীর আসন দিয়েছিল।

পুরস্কারের টাকা পেয়েই শুরু হয়ে গেল নতুন কিছু করার ভাবনা। কিভাবে টাকা কাজে লাগানো যায় তাই ভাবতে লাগলেন রাত দিন। অবশেষে মাথায় একটি পরিকল্পনা আসলো। যে নারীদের নিয়ে পরিকল্পনা দেয়ায় তিনি বিজয়ী হয়েছেন সেই নারীদের নিয়ে শুরু করলেন নতুন ব্যবসা। ব্যবসার নাম দিলেন উইমেন ইনফোলাইন। এরপর আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি আমবারিস মিত্রকে। ১৭ বছর বয়সেই নিজের প্রতিষ্ঠানে ৫৫ জন কর্মচারীকে চাকরি দিলেন তিনি।

দিন বেশ ভালোই কাটছিল, ব্যবসাতেও অল্প দিনেই সুখের মুখ দেখলেন তিনি। তবে একটা সময় সবকিছু গুটিয়ে লন্ডন যাওয়ার স্বপ্ন মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। এরপর আর অপেক্ষা না করে নিজের ব্যবসা বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে তিনি পাড়ি জমালেন লন্ডন। কিন্তু ব্রিটেনে ব্যবসা দাঁড় করানোটা খুব একটা সহজ বিষয় না। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এক সময় আমবারিসে সঙ্গে দেখা হয় ওমর তায়েব নামের এক ব্যক্তির। দুজনে মিলে শুরু করলেন নতুন এক মোবাইল ফোন অ্যাপ। যার নাম দিলেন ব্লিপার।

ব্লিপারের আয় এখন দেড়শা কোটি ডলারেরও বেশি। বর্তমানে লন্ডন, নিউইয়র্ক, সানফ্রান্সিসকো, সিঙ্গাপুর, দিল্লিসহ ১২টি শহরে ব্লিপারের কার্যালয় রয়েছে। এই কোম্পানিতে কাজ করেন মোট তিন’শ এরও বেশি কর্মচারী। ২০১১ সালে সারা বিশ্বে ৬৫ মিলিয়ন মানুষ ব্লিপারের অ্যাপ ব্যবহার করছে। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। এই অ্যপের সাহায্যে গান শোনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছু এনিমেটেডও করা যায়।

ফেলে আসা দিনের গল্প বলতে গিয়ে নিজের জীবনটাকে অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে তুলনা করছিলেন আমবারিস মিত্র। পূর্ব-ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদের সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া সেই কিশোরটি আজ সাফল্যের শীর্ষ চূড়ায় আরোহন করেছেন একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে। তার ভাষ্যমতে, ‘যত সহজে আমি আমার জীবন বর্ণনা করছি আদৌ আমার জীবন অতটা সহজ ছিল না। সাফল্যে পৌছানোর জন্য আমাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবেই আমি আজ এখানে। আমি আমার জীবনটাকে দারুনভাবে উপভোগ করি। আর মাঝে মাঝে অবাক হই এই ভেবে যে এখনও আমি জীবিত।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.