বিএনপি শরিকদের জন্য যে সব আসন ছাড়ছে

আন্দোলনের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট (সম্প্রসারিত ২৩ দল)।
দেশে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’ লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ভোট করবে। এ দুটি রাজনৈতিক মোর্চার প্রধান শরিক রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি।
গত সপ্তাহে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগির হিসাব-নিকাশ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে।
ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি দল প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধান শরিক বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে।
বিএনপির কাছ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন খুইয়ে নিতে ভেতরে ভেতরে দরকষাকষিও চলছে শরিক দলগুলোর মধ্যে। যদিও জোটের নীতিনির্ধারকরা বলছেন- এ বিষয়ে আরও পরে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শতাধিক আসন তারা দাবি করেছে বিএনপির কাছ থেকে।
জোটের শরিক দলগুলো যেসব আসন দাবি করেছে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। শুধু তাই নয়, জোটের একাধিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীও আছেন একই আসনে।
এসব নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে এক দশক ধরে নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা বিএনপিকে। আসন ভাগাভাগিতে জোট ও ফ্রন্টের শরিকদের ছাড় দিতে গিয়ে দলের পোড় খাওয়া নেতাদের কিভাবে সামাল দেবেন, এটিই এখন বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বড় মাথাব্যথার কারণ।
বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল শতাধিক আসন দাবি করলেও তারা সর্বোচ্চ ৫০-৬০ আসন ছাড়তে পারেন।
যেসব আসনে বিএনপির এবং জোটের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। জোটকে ম্যানেজ করা না গেলে ওইসব আসনে বিএনপির প্রার্থীকে বসিয়ে দেয়া হতে পারে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা দুই জোটের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন। তারা ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিকদের ৫০-৬০ আসন ছাড়তে চান। এর মধ্যে জামায়াতকে ২০ আসন ছাড়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামী একাই ৬০ আসন চায়। এর পরের চাহিদা অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। তারা বিএনপির কাছে ইতিমধ্যে ৩০ আসনের জন্য একটি তালিকা দিয়েছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০ দলের অন্যতম শরিক এলডিপির চাহিদা ১৫-২০ আসন। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা ৫-৬ আসন এলডিপিকে দেয়ার কথা ভাবছে।
এর মধ্যে এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ (চট্টগ্রাম-১৪), মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ (কুমিল্লা-৭), আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা-১) ও শাহাদাত হোসেন সেলিমকে (লক্ষ্মীপুর-১) জোটের প্রার্থিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
২০ দলের অন্য শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২), মসিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রীতা রহমান (নীলফামারী-১) ও মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডলও (যশোর-২) জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম এবং খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে একাধিক আসনে ছাড় দেয়া হতে পারে।
বিএনপি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ঢাকা-১০, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭ ও নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী করার চিন্তাভাবনা চলছে।
তবে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু চাচ্ছেন ঢাকা জেলার দুটি আসনে নির্বাচন করতে। ওই দুটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক আ স ম রবকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আর তার দলের তানিয়া রব চাইছেন ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে। আ স ম রব আরও কয়েকটি আসনে দলীয় প্রার্থী দিতে চাইছেন।
ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত। তবে নাগরিক ঐক্যের ভাবনায় রয়েছে অন্তত ৪-৫টি আসন।
জানা গেছে, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর চাওয়া অন্তত তিন আসন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে দুটি ও গাজীপুরের একটি আসনে নির্বাচন করতে চাইছে তার দল।
টাঙ্গাইলের (৪ ও ৮) আসনের একটিতে কাদের সিদ্দিকীকে প্রার্থী করা হতে পারে। তার ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী চাচ্ছেন গাজীপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে।
জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত।
আর বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
জোটসূত্রে জানা গেছে, ২০–দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো যার যার মতো করে নিজেদের চাহিদার তালিকা তৈরি করছে, যা বিএনপিসংশ্লিষ্ট নেতাদের হাতে দিচ্ছে।
এর মধ্যে শরিক দলগুলোর মধ্যে যোগ্য প্রার্থী কে কোন আসনে আছেন, সে বিষয়ে বিএনপিও খোঁজখবর নিচ্ছেন। দু–এক দিনের মধ্যে এ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি আলাদাভাবে বসবে।
২০–দলীয় জোটের আটটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। বাকি অনিবন্ধিত দলগুলোর দু–একজন নেতাকে নিয়েও চিন্তাভাবনা আছে বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। তাতে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, বৈঠক শেষে এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে আরও পরে আলোচনা হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২০ দলীয় শরিকদের মধ্যে জামায়াতের দাবি ৫০ আসন। জোটের অন্য শরিক দলগুলো ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। জামায়াত সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু, রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-৪ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৩ আবদুর রশিদ সরকার, গাইবান্ধা-৫ মাওলানা আমজাদ হোসেন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ-৩ নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী-১, সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-১ ব্যারিস্টার নজিবুল্লাহ মোমিন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিউর রহমান, যশোর-২ আবু সাঈদ মো. শাহাদাত হুসাইন, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরোয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী, সিলেট-৫/৬, কুমিল্লা-১১ ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচনে জোটের সমর্থন চাইবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার তাদের জন্য বরাদ্দ হতে পারে সর্বোচ্চ ২৫ আসন। বিএনপি মহাসচিবের কাছে এলডিপির পক্ষ থেকে ৩০টি আসন চেয়ে প্রার্থী তালিকা দেয়া হয়েছে। এই তালিকায় চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১১, চট্টগ্রাম-১৫, চট্টগ্রাম-৭, লক্ষীপুর-১, কুমিল্লা-৭, কুমিল্লা-৫, নেত্রকোনা-১ ও মেহেরপুর-২। বাংলাদেশ লেবার পার্টি ২টি আসন চেয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর-২ ও কুমিল্লা-৫ রয়েছে। জাতীয় পার্টি ১৫টি, অন্যান্য দলও একাধিক আসন চেয়েছে। তবে বিএনপি সূত্রে জানা যায়, এলডিপি ৪-৫টি, জাতীয় পার্টির (জাফর) ৪টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২-৩টি, বিজেপি ১টি, জাগপা ১টি, কল্যাণ পার্টি ১টি, খেলাফত মজলিস ১টির মতো আসন পেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য দলগুলোর অবদানও বিবেচনায় রেখেছে বিএনপি। তাদের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে নাগরিক ঐক্য ৪০টি, গণফোরাম ৩০টি, জেএসডি ৩০টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৫টি আসন চায়। এর মধ্যে দল ও জোট শরিকদের অনুরোধে ড. কামাল ঢাকা-৮ বা অন্য এক বা একাধিক আসনে প্রার্থী হতে পারেন। গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-২ বা ৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-১৪ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসনে মনোনয়ন পাবেন। মফিজুল ইসলাম খান কামালের জন্য মানিকগঞ্জ-৩ ও জানে আলমের জন্য চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবে গণফোরাম। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডিও এর আগে ৩০ আসনের প্রস্তুতি নিলেও এখন ১৫টি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষীপুর-৪ আসন থেকে অথবা ঢাকা থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন চান কুমিল্লা-৪ আসন। সহ-সভাপতি তানিয়া রব ঢাকা-১৮ (উত্তরা), কেন্দ্রীন্দ্রুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ফেনী-৩ (দাগনভ‚ঞা-সোনাগাজী) আসনে, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটওয়ারী ঢাকা-১৪ (মিরপুর), সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ গোফরান লক্ষীপুর-১, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল লক্ষীপুর-৩, উল্লাপাড়ার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু ইসহাক সিরাজগঞ্জ-৪, জামালপুরের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির উদ্দিন জামালপুর-৪, জবিউল হোসেন চট্টগ্রাম-১০, মির্জা আকবর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।
ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক নাগরিক ঐক্য এতদিন ৩০ আসন চাইলেও এখন চূড়ান্ত দরকষাকষির পর্যায়ে ১৫টি চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ বা ঢাকা-১৭ (গুলশান) আসনে মনোনয়ন চাইবেন। তার দলের অন্যতম নেতা এসএম আকরাম হোসেন নারায়ণগঞ্জ-২, কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুল ইসলাম লিটন লক্ষীপুর-১, নইম জাহাঙ্গীর জামালপুর-৩, ফজলুল হক সরকার চাঁদপুর-৩, ডা. নাজিম উদ্দিন গাজীপুর সদর, ছিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দীপু সিলেট-১ বা ৬, রবিউল ইসলাম সাতক্ষীরা-২, দিদারুল আলম বাবুল বাগেরহাট-৩, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ-২, মোফাখুল ইসলাম নবাব রংপুর-৫, মোবারক হোসেন খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল আসনে মনোনয়ন চাইবেন। কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে সর্বোচ্চ তিনটি আসন দিতে পারে বলে জানিয়েছে বিএনপি স‚ত্র। তবে তিনি ৫টি আসন দাবি করছেন। টাঙ্গাইল জেলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভোট ব্যাংক রয়েছে। কাদের সিদ্দিকী, দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন। এর বাইরে কাদের সিদ্দিকী তার ভাই আজাদ সিদ্দিকীর জন্য টাঙ্গাইলের একটি আসনে ও দলীয় নেতা শফিউল ইসলামের জন্য নারায়ণগঞ্জে একটি আসনে মনোনয়ন চাইবেন। ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিকল্পধারা বাংলাদেশ (একাংশ) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের একটি আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর নূরুল আমিন বেপারি মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে সবমিলিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ২০টি আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা যায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২০-দলীয় জোটের অনেক দলই তাদের প্রার্থীর তালিকা দিয়েছে। সব শরিক দলের কাছ থেকে প্রার্থীর তালিকা পাওয়ার পর কত আসন ছাড়া হবে, তা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমাদের মধ্যে কোন সমস্যা বা জটিলতা হবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.