বিপিএলে ফাইনালে রংপুর

গ্রুপ পর্বে দারুণ খেলা দলটিই হঠাৎ ছন্দ হারালো সুপার লিগে এসে। গ্রুপ পর্বের ১২ ম্যাচের ৯টিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগে উঠেছিলো তামিমের দল। কিন্তু এখানে এসে পরপর দুটে ম্যাচে হারল বড় ব্যবধানে। ব্যবধানের চেয়েও বড় কথা ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে কুমিল্লা কোন ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা পর্যন্ত গড়তে পারেনি। অথচ দুটি ম্যাচের যে কোন একটি জিতলেই নিশ্চিত ছিলো তাদের ফাইনাল খেলা।

ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষেই কথা বলে। মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ সত্য। বিপিএলে এবার নিয়ে চার-চারবার ফাইনালে উঠল মাশরাফির নেতৃত্বাধীন দল। প্রথম দুবার ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। দুবারই শিরোপা জেতে ম্যাশের দল। তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকেও শিরোপা জেতান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে জনপ্রিয় এই অধিনায়ক। চতুর্থ আসরে অবশ্য হতাশ হতে হয় মাশরাফিকে। তবে আসরের পঞ্চম পর্বে আবারো স্বরূপে উদ্ভাসিত এই অধিনায়ক। রংপুর রাইডার্সকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে খেলবে মাশরাফির দল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে দুই উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে রংপুর রাইডার্স। জবাবে লক্ষ্য থেকে ৩৬ রান দূরে থাকতেই শেষ হয় কুমিল্লার ইনিংস।
কুমিল্লার এই দুটি ম্যাচে বড় পরীক্ষা ছিলো তাদের ব্যাটসম্যানদের সামনে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে কঠিন কোন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি তাদের ব্যাটসম্যনাদের। কিন্তু যখনই সেই চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, ব্যর্থ হয়েছে তামিমের সতীর্থরা।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঢাকার কাছে বড় ব্যবধানে হারে দলটি। কুমিল্লার ব্যাটিং লাইন সেই ম্যাচে ছিলো চরমভাবে ব্যর্থ । একমাত্র তামিম(৩১) ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান লড়াই করার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও সৃষ্টি করতে পারেননি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো বিবেচনা করলেও দেখা যায় বেশিরভাগর ম্যাচেই তারা জয় পেয়েছে বোলারদের হাত ধরে। অর্থাৎ বোলারদের দাপটের কারণে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি ব্যাটিং লাইনকে।
যে রংপুরের কাছে সোমবার তামিমের দল পরাস্থ হয়েছে, গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে তাদের যথাক্রমে ৯৭ ও ১৩৯ রানে আটকে রেখেছিলো বোলাররা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পরাজয় বরণ করেছে তামিমের দল, অথচ প্রথম ম্যাচে খুলনাকে ১১১ রানে অলআউট করেছে তারা। এর আগে রাজশাহীর ১৮৫ তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে, আরেক ম্যাচে রাজশাহীকে অলআউট করেছিলো ১১৫ রানে। চিটাগং ভাইকিংসকে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩৯ ও ১৪৩ রানে আটকে রেখে জয় পেয়েছে কুমিল্লা।
গ্রুপ পর্বে মাত্র দুটি ম্যাচে ঢাকার ব্যাটসম্যাদের সফল হতে দেখা গেছে। সিলেটের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ফিরতি ম্যাচে ১৭০ রান করেছে তারা, আর ঢাকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১৬৭ রান। অবশ্য এই দুই দলের বিপক্ষে অন্য দুটি ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ছিলেন ব্যর্থ। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানে বেশি তুলতে পারেনি। আর প্রথম ম্যাচে ঢাকাকে ১২৮ রানে অলআউট করায় ব্যাটসম্যানদের কাজটা অনেক সহজ ছিলো।
ঢাকার বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই পেসার-পাকিস্তানের হাসান আলী ও জাতীয় দলের নতুন মুখ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। হাসান ৯ ও সাইফউদ্দিন ১৩ ম্যাচে ১৬টি করে উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু তাদের ব্যাটিং লাইন আপ পারেনি আস্থার প্রতিদান দিতে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.