বিরিশিরির টানে . . . . . . .

জীবনের সব স্বাদ সব চাওয়া পূর্ন হতে নেই! আর হটাৎ যখন তার কোন একটা পাওয়া হয়ে যায় তার মর্মই আলাদা, তার রুপ অপরুপ, তার আনন্দ অনুপম অনুরণ, তার ঘ্রান অঘ্রানের নতুন ধানের মত আর তার টান ভাটার টানের চেয়েও বেশী, সে পাওয়ার মায়া মায়াবি-চোখের চেয়েও কি মায়াবি! বিরিশিরির টানে, কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জের হাওড়ের গল্প শুনে শুনে যাব যাব করেও হয়নি যাওয়া – বিরিশীরি যেন গেছে সরে সরে বারে বারে। নিয়তির খেলা, হঠাৎই আমার যাওয়া – সময়টা অনুকুল সপ্তাহন্তে, আর বাল্যবন্ধু দু’জন সংগে বন্ধুপত্নীও একজন, বাকী জনা বিশেক সব্বাই অপরিচিত কিন্তু যাদুর শহর রাজশাহীর মতিহারে কাটিয়েছে কচি যৌবন – এই আশা এই ভরসা! আর ভরা বর্ষায় বিরিশীরি, সেও নতুন কিছুর বিশেষ আকর্ষণ অজানার প্রতি নিত্য স্বাগত মোহ নাকি দ্রহো!

ট্রেনে উঠেই উষ্ম আতিথ্যে কেটে গেলো নিমিষেই সব জড়তা যা ছিল একটু হলেও বাকি। মধ্যরাতের ট্রেন, বন্ধুর বন্ধুত্বে অতিরিক্ত সংরক্ষিত নির্ধারিত শয়ন-কোচ সংগে অফুরন্ত খাই-দাই, কিন্তু কষ্ট মনে কেনো যে বাসা থেকে রাতের খাওয়া খেয়ে বের হয়েছিলাম – সল্প বপুর কারনে যার সদ্ব্যবহার করতে পারিনি প্রায় কিছুই।

শয়ন-কোচে খোলা নয়নে – চা, আর চা, ডবল চা, তিন-ব্যাগ চা, চার-ব্যাগ চা, আমার কফিপ্রিয়তা কড়া চায়ে জমলো ভালো। আর সংগে অবিরাম পরিচয়পর্ব, আমিই নতুন সবার মধ্যে, কদরও খানিকটা বেশী তাই মনেহলো – ঠিকবেঠিকে কি যায়আসে, আমারতো মন ভরেছে! সত্যমিথ্যা যাচাইয়ে কাজ কি – অশান্তি বাড়ানো ছাড়া, মিথ্যায়ও যদি শান্তি হয়, মন্দ কি – আর যদি সব সত্যি যদি জানতো এ জীবন, কি হতো তখন!

Birishiri001

তো, হয়ে গেলো প্রেম প্রথম-দর্শনে – যার সুতীব্র আকর্ষণে বানের জলের টানের মত যেন গতির চেয়েও জোরে চল্লো নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে, কমলাপুর থেকে। সক্কালে প্রধান আয়োজকের দেখা মিল্লো শেষ স্হলবন্দরে – কালো সে যতোই কালো হোক, মন তার সাদা নিমিষে বুঝা হলো সারা। আর ঘুমচোখে রাব্বানীর অভ্যর্থনা সংগে চায়ের আমন্ত্রণ – ষ্টেশন অধিকর্তা, সেই বা কম যায় কিসে!

ডাকবাংলোয় বিরতি ও কৃয়াকর্ম ইত্যাদির মাঝে যোগ হলো আরো ৩ জন বন্ধু, ওরা এসেছে
স্হলপথে রাস্তাযোগে সরকারী বাহনে – একজন সর্বচ্চোপদে উন্নীত হয়েছে সম্প্রতি; ভাবে মনে হলো এ তো সেই নতুন’দা, পরে সে পরিচয়ও মিল্লো – ভাবনা মিলে যাওয়ায় দুক্ষিত হয়েছি নিজেই মনে মনে যেমন বালক-বালিকা কষ্ট পায় মনে-প্রানে বদদোয়া ফলে গেলে।

নাস্তা শেষে যাত্রা ট্রলারে টাংগুয়া-বিরিশীরি-তাবের হাট তো নয় মনেহলো ভবেরহাট – চোখ যতদুর যায়, পরান শুকায় – নাই কূল নাই কিনারা, পানি আর পানি, জল আর জল – এত্ত পানি কিন্তু পানির উপরে পানি নাই, এত্ত জল তবু জল নাই জলের নিচে – পানিওজল বন্দি বোতলে!

মাঝিরে বলি যাইবা কেমনে, চিনবা কেমনে, সে হাসে হুলুদচোখে – আমি ভাসি বানের জলে হাওড়ের মাঝে প্রেমের আহবানে বিরিশিরির টানে।
ডা: আমজাদ আলী
ফেসবুক থেকে।

৪ thoughts on “বিরিশিরির টানে . . . . . . .

  • জুলাই ২৫, ২০১৬ at ৫:০৩ অপরাহ্ন
    Permalink

    Beautifully written. Your writings are always very pleasant to read. The picture is very vivid in my mind when I read them. The pictures you post are equally breathtaking. Keep up the excellent work.

  • জুলাই ২৫, ২০১৬ at ৫:০৩ অপরাহ্ন
    Permalink

    Beautifully written. Your writings are always very pleasant to read. The picture is very vivid in my mind when I read them. The pictures you post are equally breathtaking. Keep up the excellent work.

  • জুলাই ২৫, ২০১৬ at ৮:৪৩ অপরাহ্ন
    Permalink

    “Your words can work magic, only if you use them like a magician”
    OSADHARON hoyechhe lekhata..!! 🙂

  • জুলাই ২৫, ২০১৬ at ৮:৪৩ অপরাহ্ন
    Permalink

    “Your words can work magic, only if you use them like a magician”
    OSADHARON hoyechhe lekhata..!! 🙂

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.