বিশ্বেসেরা অক্সফোর্ড, ঢাবি এশিয়ার ১৯১তম

উচ্চশিক্ষার পীঠস্থান হিসেবে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। বিশ্বসেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জয়জয়কার দেখা গেছে। আগের বছরের তুলনায় উন্নতি করলেও এশিয়ার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দশে জায়গা করে নিতে পারেনি।

সম্প্রতি দ্য টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) ২০১৬-১৭ সালের বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ তালিকা প্রকাশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান, গবেষণার পরিধি ও গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মীর সংখ্যা, ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে গত বারো বছর ধরে টিএইচই এ তালিকা প্রণয়ন করে আসছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের ২০১৬-১৭ সালের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

টিএইচই’র তালিকায় গত পাঁচ বছর ধরে শীর্ষস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ক্যালটেক)। কিন্তু এবার ক্যালটেককে দ্বিতীয় স্থানে পাঠিয়ে দিয়ে শীর্ষস্থানটি দখল করেছে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড। এই প্রথম টিএইচই’র তালিকায় যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাটির শীর্ষস্থান দখল করল। আগের বছর অক্সফোর্ড দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

তালিকায় বিশ্বেরসেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি, যুক্তরাজ্যের চারটি এবং সুইজারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। আর সেরা বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাকি আটটি বিশ্ববিদ্যালই যুক্তরাষ্ট্রের।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) যথাক্রমে তৃতীয় ও পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, প্রিন্সটন যথাক্রমে তালিকার ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থান অর্জন করেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডন অষ্টম এবং জুরিখের সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি নবম স্থানে রয়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে দশম স্থান অধিকার করেছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় গতবারের তালিকায় দশম স্থানে থাকলেও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ত্রয়োদশ অবস্থানে ছিল।

তালিকায় দ্বিতীয় থেকে নবম স্থানে থাকা প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় গতবারের তালিকায় একই স্থানে ছিল।

সেরা একশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যুক্তরাজ্যের বারোটি ও সুইজারল্যান্ড একটি ছাড়াও জার্মানির তেরোটি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের তেরোটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে।

তবে এবারের তালিকায় ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবনমন হয়েছে।

অপরদিকে এবারের তালিকায় ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মিশ্র অবস্থান দেখা গেলেও এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। শীর্ষ ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নতুনভাবে এশিয়ার আরো চারটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এদের নিয়ে এশিয়ার মোট ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ২০০টির মধ্যে স্থান পেয়েছে।

এশিয়ার শীর্ষস্থানে আছে সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৈশ্বিক তালিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২৫তম। এরপর চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় ও সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ২৯তম ও ৩৫তম অবস্থানে রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় গতবারের তালিকায় ৪২তম অবস্থানে ছিল। আর সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৪৭তম অবস্থানে। হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটি ও দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রথমবারের মতো বিশ্বেরসেরা একশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

হংকংয়ের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে। ভারতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স তালিকায় সেরা দুইশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এসেছে। আর বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার সেরা ২০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯১তম স্থান অর্জন করেছে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.