ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এইচএসবিসি ব্যাংক

মৌসুমী ইসলাম।
বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিদেশি মালিকানার হংকং সাংহাই অ্যান্ড ব্যাংক কোম্পানি লিমিটেড (এইচএসবিসি)। ব্যাংকটির ১৩টি শাখার মধ্যে ছয়টি আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও নিয়েছে ব্যাংকটি।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যে ছয়টি শাখা বন্ধ হচ্ছে সেগুলো হলো: কারওয়ান বাজার শাখা, বনানী শাখা, চকবাজার শাখা, নারায়ণগঞ্জ শাখা, ময়মনসিংহ শাখা এবং সিলেট শাখা।

এই ঘটনা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও দুর্বল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তারা বলছেন, এইচএসবিসি’র চলে যাওয়ার বিষয়টি দেশের আর্থিকখাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এইচএসবিসি কর্তৃপক্ষ ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকে ছয়টি শাখা বন্ধের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাথমিকভাবে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফেকেট) দিতে অস্বীকার করেছিল। কারণ এই ব্যাংকের শাখা বন্ধ হলে অন্য বিদেশি ব্যাংক মনে করবে যে এদেশে ব্যবসার পরিবেশ নেই।

কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২মে পর্যন্ত শাখা বন্ধের অনুমোদন চেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকে চারটি চিঠি দেয়। এসব শাখা বন্ধ করার পর তাদের ঢাকা ও চট্রগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো জেলায় কোনো শাখা থাকছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, চিঠিতে এইচএসবিসি বলেছে ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী তাদের পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা তাদের ব্যবসা পলিসি। যেখানে ব্যবসা ভালো হবে সেখানে তারা আবার শাখা খুলবে।

এ প্রসঙ্গে এইচএসবিসি ব্যাংকের কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান তালুকদার নোমান আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এটাকে ‘বাজারি গুজব’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। কিন্তু তখনো কোম্পানি এটা অস্বীকার করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ছয়টি শাখায় ১৫ হাজারের বেশি গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহকরা নানামুখী সমস্যায় পড়তে পারেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইতোমধ্যে গ্রাহকদের এই ছয় শাখা বন্ধের ব্যাপারে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। এসব শাখার অ্যাকাউন্টগুলো অন্য শাখায় স্থানান্তর করার জন্য কোনো সার্ভিস চার্জ যেন নেয়া না হয় সে ব্যাপারেও এইচএসবিসি ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে এ ছয় শাখায় প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা ফোর্স করে পদত্যাগ করানো যাবে না। কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে বা অন্য ব্যাংকে চাকরিতে চলে যায় সেক্ষেত্রে এইচএসবিসি কর্তৃপক্ষকে তাদের বিভিন্ন প্যাকেজ অধীনে সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।

ছয় শাখা বন্ধের বিষয়ে ব্যাংকটি কমপক্ষে দুইদিন দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। বন্ধের পরবর্র্তী ছয় মাস গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট কোথায় কিভাবে পরিচালনা করবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা সংযুক্ত করে দিতে হবে।

ব্যাংকটির ছয় শাখা বন্ধ করার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত আকারে জানানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
Source: bbarta24.net

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.