ব্যয়সংকোচন : ট্রাম্পকে সহায়তা করতে চান টেকটাইটানরা

সিলিকন ভ্যালির টেকটাইটানরা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রযুক্তি খাতের ব্যয়সংকোচনে সহায়তা করতে চান। এজন্য একটি রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে, যা আগামী ১০ বছরে মার্কিন সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। খবর দ্য মার্কারি নিউজ।

সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তারা গত ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটি সৌজন্য সাক্ষাত্ হলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ঘিরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক, ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ওরাকলের সাফ্রা ক্যাটজ, বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েল, ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গ, আইবিএমের জিনি রোমেট্টি, গুগলের ল্যারি পেজসহ অন্যরা।

পিটার থিয়েল ট্রাম্পসমর্থক হলেও ট্রাম্প বা তার নীতি সিলিকন ভ্যালির টেকটাইটানদের অনেকেই সমর্থন করেন না। কিন্তু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এখন ট্রাম্পকে মেনে নিতেই হচ্ছে। তাই তারা সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে।

বিষয়টি অনেকটা সাধারণ কর্মী হিসেবে বসকে খুশি করানোর মতো। অর্থাত্ যখন কেউ কোম্পানির বসের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, তখন স্বাভাবিক উপায়ে তাকে খুশি করার চেষ্টা করবেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা বসরা সবসময় ব্যয়সংকোচন পছন্দ করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো ব্যবসায় খাতে ব্যয়সংকোচনের মতো বিষয়গুলো তারা ভোটারদের গর্ব করে বলতে পারেন।

ডিসেম্বরের বৈঠকে এ বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়েছেন সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তারা। বৈঠকে টেকটাইটানরা আগামী ১০ বছরে মার্কিন প্রযুক্তি খাতে ১ ট্রিলিয়নের বেশি ডলার ব্যয়সংকোচনের পরিকল্পনা পেশ করেন। কোটি ডলারের হিসাব এক জিনিস, কিন্তু ‘ট্রিলিয়ন’ ডলার ব্যয়সংকোচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটু বেশিই লোভনীয়। পরিকল্পনায় তারা কোন বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, তার একটা রেখাচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেশির ভাগ প্রস্তাবনায় ৫০ হাজার কোটি ডলারের সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনা উন্নতকরণ, প্রতারণাপূর্ণ পেমেন্ট থেকে পরিত্রাণসহ তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা ও পরিচালনা আধুনিকায়নের মতো বিষয় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রযুক্তি ব্যয়সংকোচনে ট্রাম্প প্রশাসনকে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনসের (আইবিএম) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিনি রোমেট্টি ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। চিঠিতে ছিল তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার একটি রূপরেখা। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আইবিএম ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এছাড়া আগামী চার বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ বাবদ ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া সংস্কার করা, যা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাইরের দেশগুলো থেকে কম মজুরিতে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা কঠিন হবে। এইচ-১বি ভিসার আওতায় দেশটির বেশির ভাগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশ থেকে কম মজুরিতে কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। মার্কিনদের তুলনায় অনেক কম বেতনে কাজ করেন এসব কর্মী। কিন্তু এমন বেতনবৈষম্য কমিয়ে আনতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক্ষেত্রে গিনি রোমেট্টির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছেন ট্রাম্পের নীতিনির্ধারকরা।

অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত করনীতি সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্প করপোরেট ব্যবসায় কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া বিদেশ থেকে আয়ের অর্থ দেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.