ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদনে ঐতিহাসিক সেই চলনবিল

প্রতিবারের মতো এবারো পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ উৎসবে মুখরিত হতে চলেছে দেশের সর্ববৃহৎ চলনবিল। বর্ষাকালে এ বিল দর্শনার্থী ও নৌভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উপযুক্ত স্থান। নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা জেলা নিয়ে ৮০০ বর্গমাইলজুড়ে এ বিলের পরিধি। জানা যায়, ৪০০ বছর আগে ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার গতিপথ পরিবর্তন করে যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়ই চলনবিলের সৃষ্টি। বর্ষার সময় এ অঞ্চলের শ্রীরামপুর বিল, সাতইল বিল, চিনাডাঙ্গার বিল, হিয়ালার বিল, হুলহুলিয়া বিল, বড়িয়া বিলসহ ৩৯টি বিল, উত্তর চওড়ার মাঠ, ১৬টি নদী এবং ২২টি খালের পানির প্রবাহ বেড়ে এক বিশাল জলাধারের সৃষ্টি হয়। সেটাই আজ ঐতিহাসিক চলনবিল নামে পরিচিত। : নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলায় চলনবিলের একটি বিশাল অংশ রয়েছে। বছরের প্রায় ৬ মাস এ বিলটি পানিতে টইটুম্বর থাকে। দূর থেকে এ বিলের পানির ওপর শুধুই গ্রাম ও সবুজ বৃক্ষ ভাসতে দেখা যায়। আর বিলের পাড় ঘেঁষে সবুজের মাখামাখি যে কারোর দৃষ্টি কেড়ে নেয়। ঢেউ খেলে যাওয়া এই চলনবিলে পানকৌড়ি, কানিবক, সারস, মাছরাঙা ও হাঁসের সরব উপস্থিতি। মানুষের পাশাপাশি তারাও ব্যস্ত থাকে মাছ ধরতে। মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ। চলনবিলে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি শুঁটকি মাছের উৎপাদন হয়। শীতকালে বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন পদ্ধতিতে সব ধরনের ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
চলনবিল নামে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামে একটি জাদুঘর রয়েছে। স্থানীয় প্রয়াত অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে ১৯৭৮ সালে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এ সংগ্রশালা। চলনবিলে প্রাপ্ত নানান নিদর্শন, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছাড়াও এখানে আছে অনেক দুর্লভ সংগ্রহ। চলনবিলের আকর্ষণীয় একটি বিল নলডাঙ্গা উপজেলার ‘হাইতি বিল’। নাটোর জেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে এ বিলের অবস্থান। হাইতিকে দেশের সবচেয়ে গভীর বিল বলা হয়। বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ১২ মিটার গভীর এই বিলে সারা বছরই পানি থাকে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়ক তৈরি হয়েছে চলনবিলের বুকেই। এ সড়কের দুই পাশে চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় দুই চোখ ভরে। পার্শ্ববর্তী সিংড়া উপজেলার পেট্রোবাংলা জিরো পয়েন্ট জনপ্রিয়তা পেয়ে এখন চলনবিল পয়েন্টে পরিণত হয়েছে এবং এ বিলগর্ভে অবস্থিত দর্শনীয় ঘাসি দেওয়ানের মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়। দেশের সব প্রান্তের পর্যটক, নৌভ্রমণ ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে এই চলনবিলে। দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্য নাটোর জেলা সার্কিট হাউজসহ গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.