মওসুমী বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাত

দক্ষিণ-পশ্চিম মওসুমী বায়ু সারাদেশে ছড়িয়ে না পড়লেও এর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে সারাদেশেই।

আজ পর্যন্ত মওসুমী বায়ু চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়েছে। প্রচুর জলীয় বাষ্পপূর্ণ মওসুমী বায়ু পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়তে আরো হয়তো ৪/৫ দিন লাগবে। মে মাসে একটি ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে এ সম্পর্কে আগেই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল আবহাওয়া অফিস। ‘মোরা’ উপকূলীয় এলাকায় কিছু ক্ষতি করে দিয়ে গেলেও এটা মওসুমী বায়ুকে বাংলাদেশের আকাশে দ্রুত আসতে সহায়তা করেছে।

২০১৬ সালে মওসুমী বায়ু জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর এসেছিল। এ বছর ৩০ মে সকালে ঘুর্ণিঝড় মোরা আঘাত হানে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এবং বিকেলেই মওসুমী বায়ু চলে আসে টেকনাফ উপকূলে।

আজ শুক্রবার মওসুমী বায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলায় ১৩৮ মিলিমিটার। রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও রাজারহাট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের টেকনাফ ছাড়া আজ দেশের সর্বত্রই কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের কারণে আজ দেশের সর্বত্রই তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। আজ প্রায় সারাদিনই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হালকা আবার কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হয়েছে। আজ দেশের অনেক স্থানে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বর্ষণ হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারের বেশি। গোপালগঞ্জ ছাড়া, চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ, খুলনা, পটুয়াখালী ও বরিশাল শহরে ১০০ থেকে ১১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।

আগামীকালও চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে, রংপুর, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক অঞ্চলে এবং খুলনা বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।

ভারী বৃষ্টি হলেও দিনের বেলা সার্বিক তাপমাত্রা কিছু বেড়ে যেতে পারে এবং রাতের বেলায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ভোলায় ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.