মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের এক অংশের দরজা খুলছে

দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ, অবশেষে রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একটি অংশ  খুলে দেয়া হচ্ছে। সাতরাস্তা থেকে মগবাজার হয়ে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত অংশটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে ফ্লাইওভারের এ অংশ।

সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত ফ্লাইওভারের মূল কাজ শেষ হয়ে গেছে আগেই। বৈদ্যুতিক বাতি ও অন্যান্য সাইন লাগানোও শেষ। নির্মাণ শ্রমিকরা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছেন। তবে এফডিসি মোড়ে নামার র্যাম্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য ৪৫০ মিটার বাড়ানোয় নতুন করে সয়েল টেস্ট করা হচ্ছে। এর পর নকশা প্রণয়ন করে র্যাম্পটি নির্মাণ করা হবে। আর মগবাজার মোড়ে বাম দিকের র্যাম্পের পিলার নির্মাণ হয়েছে। এখন গার্ডার বসানো হচ্ছে। এটিকে পরবর্তীতে বাংলামোটর-মৌচাক অংশের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাতরাস্তা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের অংশটি খুলে দেয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (আজ) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী এ অংশটি উদ্বোধন করার পর সর্ব সাধারণের জন্য তা খুলে দেয়া হবে।

পুরো প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মতো কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে নাজমুল আলম বলেন, ‘তিন ধাপে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি অংশ বুধবার খুলে দেয়ার পর বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ আগামী জুনে খুলে দেয়া হবে। আর বাকি অংশটুকু ডিসেম্ব্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে খুলে দেয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত হলেও এর আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১১ সালের ৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়। কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশটির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও দেশীয় নাভানা কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স-নাভানা জেভি। প্রকল্পের অন্য দুই অংশ হচ্ছে রামপুরা রোড থেকে মৌচাক হয়ে শান্তিনগর ও বাংলামোটর থেকে মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ হয়ে রাজারবাগ পুলিশলাইন। এ অংশ দুটির ঠিকাদার চীনের মেটালারজিক্যাল কনস্ট্রাকশন ওভারসিজ কোম্পানি (এমসিসিসি) ও দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.