যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কর্মী নিয়োগ দেবে অ্যামাজন

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি স্থানীয় কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে অ্যামাজন। আগামী ১৮ মাসে এ বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। খবর ব্লুমবার্গ।

ব্যবসার পরিসর বাড়াতে মুদিখানা, হার্ডওয়্যার, ভিডিও থেকে ফ্যাশন, ক্লাউড সেবাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে অ্যামাজনের এ পদক্ষেপ ট্রাম্পের সন্তুষ্টির জন্যও ইতিবাচক হবে। কারণ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোস বাগ্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এবার তাই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে অ্যামাজন এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয়টি ঘিরে টাইগ্রেস ফিন্যান্সিয়াল পার্টনার্সের বিশেষজ্ঞ ইভান ফেইনসেথ বলেন, অ্যামাজনের এ পরিকল্পনা খুবই ইতিবাচক। এতে ট্রাম্প সন্তুষ্টই হবেন। তার শাসনামলের দেড় বছরের মধ্যে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেবে অ্যামাজন। তবে সময়জ্ঞানই হলো সবকিছু। প্রেসিডেন্সিয়াল প্রচারণা চলাকালে বেজোস ও ট্রাম্প জনসমক্ষে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। ওই সময় রসিকতা করে ট্রাম্পকে রকেটে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন বেজোস। অন্যদিকে অ্যামাজন ভীষণভাবে অ্যান্টিট্রাস্ট সমস্যায় জর্জরিত বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এমনকি অ্যামাজনকে বড় অংকের ট্যাক্স শেল্টার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প পরামর্শ দিয়ে সে সময় বলেছিলেন, ‘জেফ বেজোস অ্যামাজন ডটকমের করের বোঝা কমাতে ওয়াশিংটন পোস্টের অলাভজনক ব্যবসা কাজে লাগাচ্ছে। কারণ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের তার প্রতিষ্ঠানের ওপর যথাযথ করারোপ থেকে বিরত রাখছেন।’ তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জয়লাভ করলে বেজোস তাকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেন। গত মাসে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রযুক্তি শিল্পের নির্বাহীরা বৈঠক করেন ট্রাম্পের সঙ্গে। বৈঠকে উদ্বেগপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সে আলোচনায় বেজোসও ছিলেন। কর্মসংস্থান, অভিবাসন ও চীন ছিল মূল আলোচ্য বিষয়। এর পর থেকেই আইবিএম থেকে ফোর্ড ও আলিবাবার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো জনসমক্ষে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দিচ্ছে। তবে অ্যামাজনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ট্রাম্প সন্তুষ্ট বলে নিশ্চিত করেন তার মুখপাত্র শন স্পাইসার।

অ্যামাজনের তথ্যানুযায়ী, সব মার্কিন নাগরিকই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও দক্ষতার সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। যেসব প্রকৌশলী ও সফটওয়্যার ডেভেলপার এন্ট্রি লেভেলের চাকরির সন্ধানে আছেন, তাদের কাছ থেকেও আবেদনপত্র আশা করছে অ্যামাজন। যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য মার্কেট প্লেস ও অ্যামাজন ফ্লেক্সের মতো ব্যবসায় একটু ভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাইছে প্রতিষ্ঠান। ফেইনসেথের মতে, অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে থেকে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। কিন্তু অ্যামাজন স্থানীয় পর্যায়ে কর্মী নিয়োগে আগ্রহী। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৬ হাজার ৪০০ কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাটি খুবই বড়।

তবে অ্যামাজনের এ পরিকল্পনা মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না। গবেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি চাকরিক্ষেত্র তৈরির পরিবর্তে ধ্বংস করছে বেশি। কারণ অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খুচরা শিল্প। সমালোচকদের তথ্যানুযায়ী, অ্যামাজনের গুদামঘর বৃদ্ধির বিষয়টি কোনো বিনিয়োগ নয়, বরং করের অংক কমাতে গুদামঘরগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে স্বল্প মজুরির কিছু অস্থায়ী চাকরি সৃষ্টি হয়।

তবে অ্যামাজনের এক লাখ কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি বলে মনে করেন এডওয়ার্ড জোনস অ্যান্ড কোম্পানির বিশেষজ্ঞ জন অলসন। তিনি বলেন, যখন সফল কোনো মার্কিন করপোরেশন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তখন তা খুবই অস্বাভাবিক একটি বিষয়। প্রেসিডেন্ট জসমক্ষে কোম্পানিগুলোকে অপমান করেছেন। তাই দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাজের জন্য ভালো পরিবেশ নেই বলেই মনে করেন অলসন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.