যে কারণে সন্তান বিপথগামী হয়

সন্তানের ব্যপারে সব বাবা-মা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। সন্তান লালন-পালনে সবসময় সর্তক থাকেন তারা। কিন্তু তারপরও অনেক সময় ঠুনকো কিছু ভুল হয়েই যায়।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক অভিভাবকরাই সহজভাবে সন্তান লালন-পালনের গুরু দায়িত্বটি সম্পন্ন করতে পারেন না। শিশুদের কঠিক কথা বলে শাসক করেন, যেটা মোটেই ঠিক নয়। অভিভাবকের ছোট ছোট নানা ভুলের কারণে সন্তান বিপথগামী হয়ে পড়তে পারে। তাই এর আগেই আমাদের সাবধান হতে হবে।

নিম্নে অভিভাবকের যেসব আচরণ সন্তানকে বিপথগামী করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হলো :

* শিশুকে বকাঝকা করা, তার সামনে চিৎকার, চেঁচামেচি কিংবা অন্য কোনও উপায়ে রাগ প্রকাশ করবেন না। আপনাদের এরকম ব্যবহারে শিশুর আচরণগত কিংবা বিষণ্ণতাজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে।

* সন্তানকে শারীরিক শাস্তি দেয়া কখনোই উচিত নয়। শারীরিক শাস্তি দিলে তা শিশুর মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

* প্রত্যেক বাবা-মাকে সন্তানকে স্বাধীন হতে উৎসাহ দিতে হবে। তারা যদি আবেগগতভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন তাহলে তা তাদের ওপর নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

* সন্তানের সঙ্গে সব বিষয়ে যুক্ত থাকেন মা। তাই সন্তানের সব কিছু নিয়ন্ত্রণের অধিকার তার আছে। তাই বলে সন্তানকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ করা চেষ্টা করবেন না। এতে সন্তান বিগড়ে যেতে পারে।

* অভিভাবককে শিশুর ঘুম যেন নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়ে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ সন্তানের অনিয়মিত ঘুম তার আচরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

* যে শিশুরা ছোট্ট বয়সে অতিরিক্ত টিভি দেখে তাদের কথা শিখতে দেরি হয়। এছাড়া নানা সামাজিক ও আচরণগত সমস্যায় পড়তে পারে তারা।

* স্মার্টফোন ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাবা-মায়েরা মানসিক চাপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। যার প্রভার সন্তানের ওপরও পড়ে।

* অনেক বাবা-মা বিভিন্ন কারণে সন্তানের সঙ্গে  থাকতে পারেন না। কাছাকাছি না থাকায় সন্তানরা তাদের কাছে আবেগ, ইচ্ছা, কষ্ট ও ভালোবাসা শেয়ার করতে পারে না। এতে মানসিকভাবে বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। ফলে এ ধরনের সন্তান প্রায়ই বিপথগামী হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.